Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • অক্টোবর ২২, ২০২৫

অনলাইনে জইশ-ই-এর ‘জিহাদি কোর্স’, লক্ষ্য নারীরা ! ‘শিক্ষা’ দিচ্ছেন মাসুদ আজহারের বোনেরা

অনলাইনে জইশ-ই-এর ‘জিহাদি কোর্স’, লক্ষ্য নারীরা ! ‘শিক্ষা’ দিচ্ছেন মাসুদ আজহারের বোনেরা

পাকিস্তানের মাটি থেকে ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে জঙ্গি কার্যকলাপ। আর তা হচ্ছে অভিনব নানান কায়দায়। এবার পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও জিহাদে শামিল করার পথে হাঁটছে কুখ্যাত জঙ্গী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মাসুদ আজহার সম্প্রতি এক নতুন নারী ইউনিট গড়ে তুলেছেন — যার নাম রাখা হয়েছে ‘জামাত উল-মুমিনাত’। এই ইউনিটের সদস্য সংগ্রহ এবং অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছে একটি অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স, যার নাম ‘তুফতাতুল মুমিনাত’।

কী ভাবে ধাপে ধাপে নারীদের সংগঠিত করে তৈরি করা হচ্ছে জইশ-এর নারী ব্রিগেড, কীভাবে চলছে ‘জিহাদি’ প্রশিক্ষণ সেসব তথ্য সামনে এসেছে। নতুন এই ‘কোর্স’-এ প্রতিদিন ৪০ মিনিটের অনলাইন ‘লেকচার’ চলবে। শিক্ষক কারা? মাসুদ আজহারের দুই বোন — সাদিয়া আজহার ও সামাইরা আজহার। তাদের ধর্ম ও জিহাদের আলোকে নারীদের ‘দায়িত্ব’, বক্তব্য, কট্টর মতবাদ এবং ধর্মের নামে আত্মবলিদানের তত্ত্ব বোঝানোই এই কোর্সের মূল উদ্দেশ্য। এই অনলাইন পদ্ধতির পেছনে রয়েছে পাকিস্তানেরই সামাজিক বাস্তবতা। দেশটির বহু অঞ্চলে নারীদের একা বাইরে বেরোনোকে ভাল চোখে দেখা হয় না। এই প্রথাগত বাধা জঙ্গি সংগঠনটির কাছে নতুন সুযোগ হয়ে উঠেছে। তারা এটিকেই কাজে লাগিয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে নারীদের নিজেদের দলে টানছে। এখানেই শেষ নয়। প্রতিটি নারীর কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৫০০ পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ১৫৬ ভারতীয় টাকা) ‘ভর্তি ফি’ হিসাবে। সঙ্গে জমা দিতে হচ্ছে সদস্যপদ সংক্রান্ত একটি অনলাইন ফর্ম, যার মাধ্যমে সংগৃহীত হচ্ছে ব্যক্তিগত তথ্য। জইশের দাবি, এটি ‘অনুদান’। কিন্তু আসলে এটি সাংগঠনিক ফান্ডিংয়েরই একটি নতুন পদ্ধতি। আর এই ফান্ডিং শুরু হয়েছে মাসুদ আজহারের ২৭ সেপ্টেম্বর ভাওয়ালপুরের মারকাজ উসমান ও আলি-তে তাঁর শেষ ভাষণের পর থেকেই।

এই কোর্স ও ইউনিট গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয় ৮ অক্টোবর। এরপর ১৯ অক্টোবর পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে আসে এই নতুন পদক্ষেপের প্রথম দফা। নাম দেওয়া হয় — ‘দুখতারান-ই-ইসলাম’, অর্থাৎ ইসলামের কন্যারা। এখানেই শুরু হয় নারীদের সক্রিয়ভাবে সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া। গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, জামাত উল-মুমিনাত-এর নেতৃত্বে বসানো হয়েছে সাদিয়া আজহারকে। তিনি শুধু মাসুদ আজহারের বোন নন, তাঁর স্বামী ইউসুফ আজহার ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভাহাওয়ালপুরে নিহত হন। এছাড়াও ‘শুরা’ বা পরামর্শদাতা মণ্ডলীতে রয়েছে আজহারের অন্য বোন সাফিয়া, এবং আরও এক চাঞ্চল্যকর নাম — আফরিরা ফারুক। তিনি হলেন, ২০১৯ সালের পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার অন্যতম আত্মঘাতী জঙ্গি উমর ফারুকের স্ত্রী।

জইশের এই নতুন নারী ইউনিট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যেমন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তেমনই প্রশ্ন উঠেছে পাকিস্তানের নীতিগত অবস্থান নিয়েও। কারণ, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে তারা ফাইনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স বা ফএটিএফ -এর নিয়ম মেনে সন্ত্রাস দমন করছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, জইশ-এর মতো জঙ্গি সংগঠনগুলি অনলাইনে ‘ধর্মীয় শিক্ষা’ বা ‘ক্লাস’-এর নামে দেদার অর্থ সংগ্রহ করছে। হয় শাহবাজ সরকারের এসব কর্মকাণ্ডকে দমন করবার মতো সাহস নেই, নয়তো তাঁদের থেকেই পরোক্ষে মদত দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, জইশ এখন তাদের সংগঠনকে এমনভাবে ঢেলে সাজাচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে মহিলা জঙ্গিদেরও আত্মঘাতী হামলা বা ফিদায়িন আক্রমণ-এ ব্যবহার করা যায়। এ কৌশল মূলত নেওয়া হয়েছে আইএসআইএস, হামাস ও এলটিটিই-র মতো সংগঠনগুলোর থেকে, যারা নারী জঙ্গিদের ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক নজর কেড়েছিল।

ভারতের পক্ষে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কারণ, সীমান্তে সন্ত্রাসবাদ আগেই ছিল। এবার পাকিস্তান থেকে অনলাইনে নারীদের ধর্মীয় আবেগ উস্কে জিহাদে টেনে আনার প্রচেষ্টা একেবারেই নতুন রূপ নিচ্ছে। গোয়েন্দা মহল বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এসব তথ্য পেশ করে কড়া অবস্থান নেওয়ার কথাও উঠে আসছে দিল্লির কূটনৈতিক আলোচনায়। ধর্মীয় প্রচার, নারীর ভূমিকা এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে জইশ যেভাবে তাদের ‘আদর্শিক যুদ্ধ’-এর ক্ষেত্র প্রশস্ত করছে, তা শুধু পাকিস্তান বা ভারতের সমস্যা নয়, বরং গোটা উপমহাদেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে নতুন বিপদ সংকেত।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!