- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- অক্টোবর ৭, ২০২৫
বালোচিস্তানে ট্রেন বিস্ফোরণ, ফের নিশানায় জাফর এক্সপ্রেস। আইইডি বিস্ফোরণে লাইনচ্যুত ৬ টি কোচ, আহত বহু
আবারও রক্তাক্ত বালোচিস্তান। ফের নিশানায় পাকিস্তানের যাত্রীবাহী ট্রেন। মঙ্গলবার সকালে, পাকিস্তানের সিন্ধ-বালোচিস্তান সীমান্তের সুলতানকোটের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণে লাইনচ্যুত হল কোয়েটামুখী জাফর এক্সপ্রেস। আহত বহু যাত্রী। সূত্রের খবর, রেললাইনের নীচে পুঁতে রাখা আইইডি বিস্ফোরণের জেরে ৬টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে ইতিমধ্যেই উদ্ধারকার্য শুরু করেছে পাক-সেনা ও স্থানীয় প্রশাসন। শেষ পাওয়া অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা নিয়ে কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।
হামলার দায় স্বীকার করেছে বিদ্রোহী সংগঠন বালোচ রিপাবলিক গার্ডস। তাদের দাবি, ‘পাকিস্তান দখলদার সেনাবাহিনীর সদস্যরা ওই ট্রেনে যাত্রা করছিলেন। সে কারণেই আমরা হামলা চালিয়েছি। বিস্ফোরণে কয়েকজন সেনা নিহত হয়েছেন।’ সংগঠনের হুঁশিয়ারি— ‘বালোচিস্তানের স্বাধীনতা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত এমন অভিযান চলবে।’ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা। চারদিক ঘিরে ফেলেছে পাকিস্তান সেনা ও আধাসেনা বাহিনী। ট্রেনের বগিগুলির ভেতর থেকে আহতদের উদ্ধার করে কোয়েটা ও জাকোতাবাদের সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, রক্তাক্ত অবস্থায় যাত্রীরা লাইনের ধারে পড়ে আছেন, চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ট্রেনের ধ্বংসাবশেষ।
প্রসঙ্গত, কোয়েটা থেকে পেশোয়ারের মধ্যে চলাচল করে জাফর এক্সপ্রেস, বিগত কয়েক মাসে একাধিকবার জঙ্গি হামলার নিশানায় পড়েছে সেটি। চলতি বছরের মার্চে একই ট্রেনে ভয়াবহ হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২১ জন যাত্রী ও ৪ জন নিরাপত্তা কর্মী। সেই ঘটনায় জড়িত ৩৩ জন জঙ্গিকে পরে গুলি করে হত্যা করে নিরাপত্তা বাহিনী। যদিও, এর পরেও থামেনি রক্তপাত। আগস্ট মাসেই মাস্তুং জেলায় ২ বার আইইডি বিস্ফোরণ ঘটে। সেপ্টেম্বরেও স্পিজেন্ড এলাকায় ট্রেনটিতে বোমা বিস্ফোরণে আহত হন অন্তত এক ডজন মানুষ, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও ছিলেন। আগস্টের শুরুতে সিবি রেলস্টেশনের কাছে অল্পের জন্য বেঁচে যায় একই ট্রেন। সে সময় ট্রেনটি পেরিয়ে যেতেই বিস্ফোরণ ঘটে রেললাইনে। গত ৪ আগস্ট কলপুরে জাফর এক্সপ্রেসের পাইলট ইঞ্জিনে ৫ রাউন্ড গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। সেই হামলার দায় নেয় অন্য এক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি ।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বালোচিস্তানে সামরিক ও অবকাঠামোগত উপস্থিতি বাড়ানোয় ক্রমেই চাপে পড়ছে ইসলামাবাদ। প্রদেশজুড়ে বিক্ষোভ ও বিদ্রোহী হামলার ঘটনা এখন প্রায় রোজকার। ‘এই পরিসরেই রেলযাত্রা হয়ে উঠছে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ!’ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের এক সাবেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক। গত জুনে জাকোতাবাদে রেললাইনে রিমোট নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণে একই ট্রেনের ৪টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছিল। জুলাইয়ে, সুক্কুরে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হলে প্রথমে সেটিকেও হামলা বলে মনে করা হয়, যদিও পরে পাক রেলমন্ত্রক জানায়, সেটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ঘটা দুর্ঘটনা মাত্র। যদিও, যাত্রীবাহী ট্রেনে লাগাতার হামলার পর প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তান রেলওয়ের নিরাপত্তা কতটা কার্যকর? কেন্দ্রীয় প্রশাসনের তরফে এ পর্যন্ত কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, সেখানকার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, কোয়েটা থেকে পেশোয়ার— এই দীর্ঘ রেলপথ আজ বালোচিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতার নতুন প্রতীক হয়ে উঠেছে।
❤ Support Us








