- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জুন ১৭, ২০২৩
পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী কেন ? হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের নির্বাচন কমিশন
কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন করানোর নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। শনিবার সকালে ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, “এখনও কিছু ঠিক করা হয়নি।” তবে, কমিশন সূত্রে জানা গেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকার এই মামলার জন্য সুপ্রিম কোর্টে ইফাইলিং করেছে।
রাজ্যের ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের যুক্তি, রাজ্য নির্বাচন কমিশন এখনও স্পর্শকাতর জেলা চিহ্নিত করেনি। রাজ্যের পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে নির্বাচন পরিস্থিতি সামলাতে পারছে। পরিস্থিতি এমন নয় যে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচন করতে হবে। তাই কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন করার বিরোধিতা করে শীর্ষ আদালতে গেল রাজ্য ও কমিশন।
এদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি কমিশনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, “রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজ্যের ক্রীতদাস। তাই রাজ্য কি বলছে সেটা দেখে রাজীব সিনহা সিদ্ধান্ত জানাচ্ছেন। আসলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহস নেই মানুষের ভোটে লড়াই করার। তাই তিনি রাজ্যের মানুষের টাকা খরচ করে মানুষের ভোট লুঠ করার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে গেলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন ভিন রাজ্য থেকে পুলিশ আনবেন রাজ্যের পয়সা খরচ করে। অথচ কলকাতা হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিল তাতে রাজ্যে কেন্দ্রের খরচে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনার কথা বলা হয়েছিল। আসলে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথার বাইরে যাবেন না।”
এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “এই সন্দেহ ছিলই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চান না। কমিশন সেটাই করতে চলেছে। কলকাতা হাইকোর্ট যখন বলছে কেন্দ্রের খরচে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী কেন্দ্রকে পাঠাতে হবে। এই নির্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজি না হয়ে ভিন রাজ্য থেকে রাজ্যের পয়সা খরচ করে পুলিশ আন্তে চাইছে। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শান্তিতে নির্বাচন চান না।”
এই প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “রাজ্য ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের চরিত্র পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। সরকার যা চাইবে সেভাবে যদি নির্বাচন কমিশন চলে তা হলে কমিশনের থেকে কি লাভ? কমিশন বেআব্রু হয়ে যাচ্ছে, তাই রাজ্যের মুখের দিকে তাকিয়ে হাইকোর্টের কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে সারা রাজ্যে নির্বাচন করাবার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে যাচ্ছে আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এতো অশান্তির পরেও শান্তিতে মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলছেন। আসলে রাজ্য সরকার চায় না শান্তিতে পঞ্চায়েত নির্বাচন হোক।”
গত মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্ট প্রথম নির্দেশ দিয়েছিল যে স্পর্শকাতর ৭ জেলায় কমিশনকে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচন করতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে কমিশনকে কেন্দ্রের কাছে চিঠি পাঠাতে হবে। কিন্তু দেখা গেল হাইকোর্টের এই নির্দেশ নিয়ে দুদিন টালবাহানার পর আদালতের এই সিদ্ধান্তকে পুনর্বিবেচনা করার আবেদন বৃহস্পতিবার রাজ্য ও রাজ্য নির্বাচন কমিশন কলকাতা হকোর্টে জানাল। কমিশনের যুক্তি ছিল, তারা স্পর্শকাতর ৭টি জেলা নিয়ে যে তথ্য দিয়েছে সেখানে কোনও ভুল বোঝাবুঝি ছিল। আদালতের কাছে কমিশন আরও ৪৮ ঘন্টা সময় চায়। এদিকে এর মধ্যে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে ভাঙ্গর, ক্যানিং রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে ভাঙড়, চোপড়ায়। এই অবস্থায় কল্কস্টে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ তার পর্যবেক্ষণে বলে এর পর আরও সময় দিলে প্রাণ ও সম্পত্তির আরও ক্ষতি হয়ে যাবে। কমিশনকে ভর্ৎসনা করে শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম রাজ্যের ২২টি জেলাতেই কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে নির্বাচন করার নির্দেশ দেন, নির্দেশে বলা হয় এই নির্দেশ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর করতে হবে কমিশনকে। বৃহস্পতিবার রাতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহাকে আদালতের এই নির্দেশ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, “কমিশন আদালতের নির্দেশ মানবে।”
এদিকে শুক্রবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাকদ্বীপ থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে কেন পঞ্চায়েত নির্বাচন রাজ্যে হবে সেই প্রশ্ন তুলে ২০২১ সালের বিধানসভা নিৰ্বাচনে সীতালকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে প্রাণহানির ঘটনা উল্লেখ করে এবং মণিপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনী কি করতে পারছে, মন্ত্রীর বাড়ি জ্বলছে বলে মন্তব্য করে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে রাজ্যে পঞ্চায়েত নিৰ্বাচনের বিরোধিতা করে বক্তব্য রাখেন। এর পরেই শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব এবং এডিজি আইন শৃঙ্খলা রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের অফিস আসেন, বেশ কিছুক্ষণ তাঁদের মধ্যে বৈঠক হয়। এর পর রাজীব সিনহা যখন শুক্রবার সন্ধ্যায় অফিস থেকে বার হচ্ছেন তখন তাঁর কাছে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করে, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে আপনারা বৈঠক করলেন? উত্তরে রাজীব সিনহা বলেন না , যা বলার পরে বলব। শুক্রবার রাতেই বোঝা যায় রাজ্য এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশন কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতে যাচ্ছে। শনিবার সকালে রাজীব সিনহা যখন তাঁর অফিস ধুলিকছেন তখন তাঁকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, কমিশন কি শীর্ষ আদালতে যাচ্ছে? এই উত্তর এড়িয়ে তিনি বলেন, এখনও কিছু ঠিক হয়নি, এই বলে দ্রুত নিজের অফিস তিনি ঢুকে যান। আর তার কিছুক্ষণ পরেই কমিশন সূত্রে জানা যায় রাজ্য সরকার ও রাজ্য নির্বাচন কমিশন কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে।
❤ Support Us






