- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- ডিসেম্বর ১, ২০২৫
কোহলির দুরন্ত সেঞ্চুরি, রাঁচিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৭ রানে জয় ভারতের
টেস্ট সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ধবলধোলাই হতে হয়েছিল ভারতকে। একদিনের সিরিজে কি মধুর প্রতিশোধ নিতে পারবে ‘মেন ইন ব্লু’? সাদা বলের ক্রিকেটে যেভাবে সিরিজ শুরু করল ভারত, ইঙ্গিত স্পষ্ট। আসলে ভারতীয় দলকে বদলে দিয়েছে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার উপস্থিতি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজের প্রথম ম্যাচেই প্রমাণিত এই দুই ক্রিকেটারের বিকল্প এই মুহূর্তে ভারতীয় ক্রিকেটে নেই। রোহিত ও কোহলির দাপটেই ১৭ রানে জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত। দুরন্ত সেঞ্চুরি বিরাট কোহলির।
রাঁচিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন এইডেন মার্করাম। চোটের জন্য অধিনায়ক তেম্বা বাবুমা শেষ মুহূর্তে ছিটকে যাওয়ায় মার্করামের হাতেই পড়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শেষ একদিনের ম্যাচে যেখানে সমাপ্ত করেছিলেন রোহিত শর্মা, রাঁচিতে সেখান থেকে শুরু করলেন। প্রথম থেকেই ঝড়। দিশেহারা মার্কো জানসেন, নান্দ্রে বার্গাররা।
যদিও চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই যশস্বী জয়সওয়ালকে (১৬ বলে ১৮) তুলে নিয়ে ভারতকে প্রথম ধাক্কা দেন নান্দ্রে বার্গার। এরপর সেই ‘রো–কো’ জুটির তাণ্ডব। রানের গতি যেন ফেরারি গাড়ির মতো।
তৎতর করে এগিয়ে চলছিল ভারতীয় ইনিংস। ২১.২ ওভারের মাথায় ছন্দপতন। মার্কো জনসনের বলে এলবিডব্লিউ রোহিত। আউট হওয়ার আগে ৫১ বলে করেন ৫৭ রান। মারেন পাঁচটি চার ও তিনটি ছয়। এরপর ঋতুরাজ গায়কোয়াড় (১৪ বলে ১৮) ওয়াশিংটন সুন্দর (১৯ বলে ১৩) দ্রুত ফিরলেও কোহলির ছন্দ নষ্ট হয়নি।
অধিনায়ক লোকেশ রাহুলকে সঙ্গে নিয়ে ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যান কোহলি। শেষ পর্যন্ত ১২০ বলে ১৩৫ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে আউট হন। মারেন ১১টি চার ও ৭টি ছয়। ৫৬ বলে ৬০ রান করে আউট হন লোকেশ রাহুল। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩৪৯ রান তোলে ভারত। ২০ বলে ৩২ রান করেন রবীন্দ্র জাদেজা। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে মার্কো জানসেন, নান্দ্রে বার্গার, করবিন বশ ও ওটনেল বার্টম্যান ২ করে উইকেট নেন।
জয়ের জন্য ওভার প্রতি ৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ২ ওভারের মধ্যেই রায়ান রিকেলটন (০) ও কুইন্টন ডি ককের (০) উইকেট হারায়। দ্বিতীয় ওভারেই দুজনকে ফেরান হর্ষিত রানা। এরপর চাপ আরও বাড়ে পঞ্চম ওভারে এইডেন মার্করাম (১৫ বলে ৭) আউট হওয়ায়। ১১ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ের পরে দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর ম্যাথিউ ব্রিৎজে ও টনি ডি জর্জি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পঞ্চদশ ওভারের শেষ বলে টনি দি জর্জিকে (৩৫ বলে ৩৯) তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন কুলদীপ যাদব। ১৩০ রানের মাথায় আউট হন ডিওয়ার্ল্ড ব্রেভিস (২৮ বলে ৩৭)।
১৩০ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর মনে হচ্ছিল ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু মার্কো জানসেন ও ম্যাথিউ ব্রিৎজের দুরন্ত লড়াই ম্যাচে ফিরিয়ে নিয়ে আসে প্রোটিয়াদের। একসময় জয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। মার্কো জনসেন ও ম্যাথিউ ব্রিৎজে পরপর আউট হওয়ায় আবার চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩৯ বলে ৭০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন জানসেন। অন্যদিকে ৮০ বলে ৭২ রান করেন ব্রিৎজে। শেষ দিকে করবিন বশ জয়ের আসা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলকে জয় এনে দিতে পারেননি। ৪৯.২ ওভারে ৩৩২ রানে গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। ৫১ বলে ৬৭ রান করে অপরাজিত থাকেন করবিন বশ। ৬৮ রানে ৪ উইকেট নেন কুলদীপ যাদব। ৬৫ রানে ৩ উইকেট হর্ষিত রানার।
❤ Support Us








