- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মে ১৫, ২০২৩
৫০ শতাংশ ভোট মেলেনি, তবু এগিয়ে এরদোগান। আবার কেমালের বিরুদ্ধে লড়তে হবে তাঁকে। মৌলপন্থীরা ঢেলে ভোট দিয়েছে একনায়ক প্রেসিডেণ্টকে। হতাশ আধুনিক তুরস্ক
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগণনা সমাপ্ত। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ভোট পেয়েছেন ৪৯.৪৯ শতাংশ, তাঁর বিরোধী প্রার্থী কেমাল কুলুচদারলুর দখলে ৪৪ . ৯৬ শতাংশ। তৃতীয়, সিনান ওগান পেয়েছেন ৫.২ শতাংশ।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে যে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছে, সেখানে এরদোগান এগিয়ে রয়েছেন। আশা করা হয়েছিল, এসব এলাকায় কেমাল কুলুচদারলু ভালো ফল করবেন । তা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ভোটারদের অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, ভূমিকম্প বিধ্বস্ত এলাকা সমূহে সরকারের যা করা উচিত ছিল, করেনি। তা সত্ত্বেও এসব এলাকায় ৭১ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন এরদোগান ।
নির্বাচন কমিশন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান অথবা কেমাল কুলুচদারলুর কেউই ৫০ শতাংশ ভোট পাননি। অতএওব আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে আবার দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে পারে। এরদোগান এবং কুলুচদারলু দুজনেই জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্যে তাঁরা প্রস্তুত ।
সিনান ওগান ভোটে অংশ নেবেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। সোমবার তিনি বলেছেন, এব্যাপারে শীঘ্রই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪০ লক্ষ। নতুন ভোটারের সংখ্যা ৫০ লক্ষ । আশা করা হয়েছিল উদারপন্থী নতুন ভোটাররা ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে ভোট দেবেন না। ফলাফলে চিত্র পরিষ্কার, এরদোগান তাঁদের ভোটও পেয়েছেন। তুরস্কের উদারপন্থীদের ক্ষোভের ছবিও প্রতিফলিত হয়নি। তারা এরদোগানের মৌলবাদ দুষ্ট নীতিতে বীতশ্রদ্ধ। ভোটের আগে তাঁরা এরদোগানকে ক্ষমতাচ্যুত করার সংকল্প ঘোষণা করেছেন। সে ঘোষণা কার্যত বাস্তবায়িত হয়নি। এরদোগানের এগিয়ে থাকা প্রকারান্তরে তাঁদেরই পরাজয়ের চিহ্ন হয়ে থাকল। ২০০২ সাল থেকে এরদোগানের নেতৃত্বাধীন একে পার্টি ক্ষমতায় রয়েছে। এরদোগান সর্বোচ্চ ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাষ্ট্রপতিশাসন চালু করেছেন, যা গণতন্ত্রবিরোধী বলে চিহ্নিত। তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী উদারপন্থা থেকে সরে গিয়ে ‘ওসমান তার্কি’ -র রক্ষণশীলতাকে ফিরিয়ে এনেছেন। একাধিক গির্জাকে ইসলামি রীতি-নীতির আওতাভুক্ত করেছেন। তাঁর এই মনোভাবে তুরস্কের আধুনিকতা খণ্ডিত । পশ্চিমি দুনিয়া তাঁর ওপর রুষ্ট। তাঁর অতীতমুখী রাজনীতির নিন্দা করেছেন দেশের জাগ্রত বুদ্ধিজীবীরা। ওরহান পামুকের মতো লেখক জনমত সংঘটিত করে প্রকাশ্যে জনসভা করেছেন। ছাত্ররা জড়ো হয়েছে সমাবেশে। একসময় বাংলাদেশ তুরস্ককে অনুসরণ করেছে। কামাল আতাতুর্কের ঐ তুরস্কুকে, তার আধুনিকতাকে গুড়িয়ে দিয়েছেন এরদোগান। ইসলামী দলগুলো তার প্রশ্নহীন সমর্থক। তাঁদের প্রচার , তার ভোটের সাফল্যে অনুকূল হাওয়া তৈরি করেছে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনেও ইসলামপন্থীরা তাঁর পাশে থাকবেন।
❤ Support Us





