Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মে ১০, ২০২৩

পাকিস্তানে বিক্ষোভ অব্যাহত। পথে পথে ইমরানের সমর্থকেরা, হামলা পাক সেনা দফতরে। হাইকোর্টের নিঃসংকোচ রায়, ভূতপূর্ব প্রধানমন্ত্রীর গ্রেফতার বৈধ। পুলিশের বিশেষ আদালতে ইমরানকে পেশ, আরো বেশি ক্ষিপ্ত তহরিক

আশঙ্কা, পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত।

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পাকিস্তানে বিক্ষোভ অব্যাহত। পথে পথে ইমরানের সমর্থকেরা, হামলা পাক সেনা দফতরে।  হাইকোর্টের নিঃসংকোচ রায়, ভূতপূর্ব প্রধানমন্ত্রীর গ্রেফতার বৈধ। পুলিশের বিশেষ আদালতে ইমরানকে পেশ,  আরো বেশি  ক্ষিপ্ত তহরিক

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা তহরিক-এ-ইনসাফ সুপ্রিমো ইমরান খানকে গ্রেফতারের পর পাকিস্তানজুড়ে চলছে তুমুল বিক্ষোভ। গ্রেফতারের প্রতিবাদে পথে নেমেছেন ইমরান সমর্থকরা দলে দলে ।  হামলা হয়েছে পাক সেনার সদর দফতরে। একাধিক এলাকায় ইমরান সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের খবর এসেছে।  ইমরানের  অবিলম্ব মুক্তির আশা  দূর অস্ত্‌। ইসলামাবাদ হাইকোর্ট জানিয়েছে, ইমরান খানের গ্রেফতার অবৈধ নয়।

 পুলিশের সদর দফতরে বিশেষ আদালত বসেছে। সেখানে ইমরান খানকে হাজির করনো হয়েছে।  বাইরের  পরিস্থিতি ভয়াবহ।  ইমরান সমর্থকরা তাঁদের নেতার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। পরিস্থিতি  কোন দিকে মোড় নেবে তা অনিশ্চিত। আদালতের নির্দেশ সম্ভবত ইমরানপন্থীদের আরও ক্ষিপ্ত   করে তুলবে।

পাকিস্তানে কর্মরত  ভারতীয় কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এপর্যন্ত  ভারতীয় দূতাবাসে  হামলা কিংবা অন্য কোনো অঘটনের খবর নেই। কূটনীতিকরা  নিরাপদে রয়েছেন। অন্যান্য  দেশে কূটনীতিকদের নিরাপত্তা  নিয়ে উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্ট দেশগুলি। ইমরানের তহরিক-এ-ইনসাফ এ পর্যন্ত কোনো বিদেশি দূতাবাসে হামলা করেনি। তাদের ক্ষোভ নিজদেশের সরকার ও সেনার বিরুদ্ধে।

আদালতে বিরোধী নেতার গ্রেফতার একটি বিরল ঘটনা। আশির দশকে বিরোধীদের এমআরডি আন্দোলনের মুহুর্তে জিয়া প্রশাসন কঠোর হলেও  কখনো  সেনা সরাসরি হস্তক্ষেপ করেনি। কৌশলে বিক্ষোভের আঁচ এড়িয়ে গিয়েছিলেন নিজাম- এ -মুস্তাফার (ধর্মশাসন) প্রবক্তা।  ধুরন্ধর ব্যক্তি। কাকে কোথায় কীভাবে ঠেকাতে হয়, ভালো জানতেন। বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু না হলে, তাঁকে সহজে ক্ষমতাচ্যূত করা সম্ভব হত না হয়তো। ইমরান খানকে সরিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন শেহবাজ শরিফ। তাঁর শরিক সরকার অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে নাজেহাল। দৃষ্টি অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিতে, প্রতিশোধের রাজনীতি শুরু করেছেন। ইমরান আন্তর্জাতিক স্তরে  শেহবাজের চেয়ে অনেক বেশি পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির এক ডজন অভিযোগ এখনো অপ্রমাণিত। মামলা চলছে।  গতকাল দুটি মামলার শুনানিতে হাজিরা দিতে চেয়েছিলেন ইমরান। আদালত চত্বরেই আচমকা তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সঙ্গে ছিল বিপুল সংখ্যক সেনা ও আধা সেনা। তখনই ইমরান সমর্থকদের সঙ্গে রক্ষীবাহিনীর সংঘর্ষ বেঁধে  যায়। ইমরানকে পুলিশ সরিয়ে নিয়ে যায়। দেশ জুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ এবং বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ। ইমরান খানকে চার থেকে পাঁচ দিন হেফাজতে রাখার আবেদন জানাতে চাইছে  ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবেলিটি ব্যুরো । সেখানে তাঁর সশরীরি হেফাজতের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৪ দিন হতে পারে এবং আটক অবস্থায় তাঁকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ চলবে।

 ইমরানপন্থীদের অভিযোগ, গ্রেফতারের পর ইমরানকে শারীরিক নিগ্রহ করা হয়েছে।  ইসলামাবাদ পুলিশের মুখপাত্র অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন,  ওঁকে ভালোভাবেই রাখা হয়েছে, ওঁর সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার করা হয়নি।

 সরকারের অভিযোগ, ইমরান খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে আল কাদির ট্রাস্টের  বিপুল পরিমাণ অর্থ  কারচুপির সঙ্গে ইমরান জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও তদন্ত চলছে।  পাকিস্তানের মতো দুর্দশাগ্রস্ত দেশে এই ধরনের ঘটনা ব্যতিক্রম নয়। ক্ষমতাচ্যূত সরকার প্রধানকে দায়ী করে সরকার  প্রতিশোধের মাত্রা  বাড়িয়ে তোলে। ঝাঁপ দেয় মামলার পর মামলায়।  ৭৭ সালে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশেও ক্ষমতাশীল রাজনীতিক ইন্দিরাকে নানাভাবে হেনস্থা করা হয়। জেদী আর আত্মপ্রত্যয়ী ইন্দিরা তাঁর রাজনৈতিক লড়াই থেকে সরে দাঁড়াননি। লড়াই করতে করতে আবার ফিরে আসেন ক্ষমতায়। দেশি,বিদেশি চক্রান্ত তাঁকে  রুখতে পারেনি। ইন্দিরা ইজ ইন্দিরা একথা প্রমাণিত করেছিলেন লৌহ মানবী। ইমরানের ক্ষেত্রে এরকম পুনরাগমন সম্ভব কিনা, জানা নেই। ব্যক্তি জীবনে  রোম্যান্টিক, দানবীর এবং সমাজ মনস্ক ।  বাইরের বৃহৎশক্তি তাঁর অবস্থান মেনে নিতে পারেনি। উস্কানির আবর্তে জড়িয়ে পড়েন নেপথ্যবাসী সামরিক কর্তারা। আমলারাও  অভিযোগমুক্ত নন। ইমরানের আবেগ আর রোম্যাণ্টিকতার সুযোগ নিয়ে তাঁকে  সরিয়ে দেয় কায়েমি স্বার্থ। আজ তিনি অন্তরীণ। বাইরে থিকথিকে রোদ, বৃষ্টিহীন গ্রীষ্ম তাঁকে ডাকছে।  এ ডাকে সাড়া দিয়ে তহরিক-এ-ইনসাফ সম্ভবত গর্জে উঠবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!