Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মার্চ ২৪, ২০২৩

লোকসভায় বিরোধীদের বিক্ষোভ। মুলতুবি অধিবেশন। খারিজ রাহুলের সাংসদ পদ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
লোকসভায় বিরোধীদের বিক্ষোভ। মুলতুবি অধিবেশন। খারিজ  রাহুলের সাংসদ পদ

সুরাট আদালতের রায়ে  বাতিল হয়ে গেল রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ।   মানহানির মামলায় তাঁকে গতকাল দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। পরে, একমাসের জন্য জামিন তাঁর জামিন মঞ্জুর করা হয়। । কিন্তু কোর্ট তাঁকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়নি। তাই বৃহস্পতিবার লোকসভায় বিজেপি সদস্যরা সাংসদ পদ খারিজের দাবি জানিয়েছিলেন।  অধ্যক্ষ ওম বিড়লাও তাঁদের  দাবি মেনে নিয়েছেন। লোকসভার সচিবালয়ের পক্ষ থেকে এব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। 

কংগ্রেস অবশ্য চুপচাপ বসে ছিল  না। রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে তাঁর সামনে লোকসভায় মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন বিরোধীরা। লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যাওয়ার পর ওয়েনাড় সাংসদ অধিবেশন  ত্যাগ করে  কক্ষ থেকে  বেরিয়ে যান। 

আইনসভার মধ্যে প্রতিবাদকে তাঁরা কেবলমাত্র সীমাবদ্ধ রাখেননি। দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভাপতিত্বে জেডিউ, আপ, সিপিএম, ডিএমকে সহ ১৪ বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তারপর তাঁরা  রাষ্ট্রপতি সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাসভবনে যান   সেখান থেকে পরে  সংসদ ভবন পর্যন্ত পদযাত্রায় সামিল  হন । তাঁরাও যৌথভাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির অপব্যবহার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন। ৫ এপ্রিল শুনানি। এছাড়াও পুরনো এক ভিডিওতে রেণুকা চৌধুরীকে ‘শূর্পনখা’-র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন  নরেন্দ্র মোদি।  তাই তাঁর  বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবছেন কংগ্রেস নেত্রী।

জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (১৯৫১) অনুযায়ী, আইনসভার কোনো সদস্য নিম্ন আদালতের রায়ে দু’বছর বা তাঁর বেশি সময়ের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সদস্যপদ বাতিল হবে। ছাড়া পাওয়ার পরও তিনি ছয় বছর ভোটে দাঁড়াতে পারেন না। কিন্তু ওই আইনের ৮(৪) ধারায় বলা হয়, শাস্তি ঘোষণার সময় যদি কেউ জনপ্রতিনিধি থাকেন, তাহলে পরবর্তী তিন মাস হাইকোর্টে সাজা পুনর্বিবেচনার আবেদনের নিষ্পত্তি না-হওয়া পর্যন্ত তাঁর সদস্যপদ খারিজ হবে না। আইনের মধ্যেকার এ দুর্বলতাকে দোষী সাব্যস্ত বহু সাংসদরা নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগিয়েছিলেন এবং স্বপদে বহাল ছিলেন।

২০১৩ সালে ৮(৪) ধারার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন লিলি টমাস এবং এস এন শুক্ল। বিচারপতি এ কে পট্টনায়ক এবং বিচারপতি এস জে মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ ওই ধারাকে ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিল, নিম্ন আদালত সাজা কার্যকরের নির্দেশ দিলেই ‘দোষী’ জনপ্রতিনিধির পদ খারিজ হবে। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের রায় আটকানোর জন্য দ্রুত একটি অধ্যাদেশ (অর্ডিন্যান্স) জারি করতে সচেষ্ট হয়েছিল তদানীন্তন ইউপিএ-২ সরকার। কিন্তু রাজীব তনয় নিজেই তা বাতিল করবার দাবি জানিয়েছিলেন। এখন তিনি সেই পুরনো আইনকে কাজে লাগিয়ে উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন,  যাতে তাঁর সাংসদ পদের মেয়াদ বাড়ে।   কিন্তু তার আগেই সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলেন কংগ্রেস নেতা।  


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!