- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৫
মৎস্যজীবী সেজে পুলিশের অভিযান, কাকদ্বীপে মাঝসমুদ্রে নাটকীয় ভাবে গ্রেফতার শিশু পাচারে অভিযুক্ত ব্যক্তি
২০টি রাজ্য ঘুরে শেষে ধরা পড়ল সমুদ্রের মাঝখানে। পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে এক বছর ধরে পালিয়ে বেড়ানো পকসো অভিযুক্তকে অবশেষে গ্রেফতার করল নদিয়ার রানাঘাট জেলা পুলিশ। আর সেই গ্রেফতারি হল একেবারে সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো— জেলের ছদ্মবেশে পুলিশ, গভীর রাতে মাঝসমুদ্রে অভিযান, এবং এক ঝটকায় গ্রেফতার!
সম্প্রতি রানাঘাট জেলার হরিণঘাটা থানা এলাকায় এক নাবালিকার নিখোঁজের অভিযোগ জমা পড়ে। পরিবারের দাবি অনুযায়ী অপহরণের মামলা রুজু করে পুলিশ। তদন্তে উঠে আসে আরোগম্ভীর তথ্য, সেই নাবালিকাকে না কি পাচার করা হয়েছিল এবং যৌন নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছিল তাঁকে। চলতি বছরের জুলাইয়ে কল্যাণী থেকে উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ নাবালিকাকে। ডাক্তারি পরীক্ষায় ধরা পড়ে সে অন্তঃসত্ত্বা। এরপর অপহরণ ও যৌন নির্যাতন মামলা ছাড়াও যোগ হয় পকসো আইনের ধারা। তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় ডিএসপি পদমর্যাদার এক আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে তৈরি বিশেষ তদন্তকারী দলের হাতে।
এ মামলায় মূল অভিযুক্ত পুলিশকে একপ্রকার নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাতে থাকে। কখনো বিহার, কখনো ওড়িশা, কখনো আবার মধ্যপ্রদেশ, অসম, ছত্তিশগড়, দেশের প্রায় ২০টি রাজ্যে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল সে। একাধিক বার মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করেও যখন পৌঁছাতে তাঁকে ধরতে পারছিল না, তখন কৌশল পাল্টাতে হয়। অবশেষে, গোয়েন্দারা জানতে পারেন, অভিযুক্ত বর্তমানে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা ও কাকদ্বীপ এলাকার আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। কিন্তু কীভাবে তাকে ধরা হবে? গোপন সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত এক মাছ ধরার ট্রলারে জেলে সেজে আত্মগোপন করেছে, সমুদ্রের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। পুলিশ অনুমান করেছিল, যদি সে পুলিশের উপস্থিতি টের পায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ট্রলার থেকে লাফ দিয়ে পালাতে পারে বা আত্মহত্যার চেষ্টা করতে পারে। তাই নেওয়া হয় অভিনব কৌশল। এদিন, রানাঘাট জেলা পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ ও তদন্তকারী দল স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সহযোগিতায় এক ‘রোল প্লে’ পরিকল্পনা করে। এসআই দেবরুণ দাস, এসআই শুভম হালদার, কনস্টেবল সুখান্ত বিশ্বাস এবং বিধানচন্দ্র মণ্ডল —৪ জনের এই বিশেষ টিম ছদ্মবেশে নামেন সমুদ্রে। গায়ে লুঙ্গি, মাথায় গামছা, হাতে মাছ ধরার সরঞ্জাম। একটি ভাড়া করা নৌকায় চড়ে অভিযুক্তের ট্রলারের দিকে এগিয়ে যান তাঁরা। রাতের অন্ধকারে ট্রলারে চড়ে পড়ে দলটি। অভিযুক্ত কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে পাকড়াও করা হয়। মাঝসমুদ্রে ঘটেছে এই নাটকীয় দৃশ্য।
রানাঘাটের পুলিশ সুপার আশিসকুমার মৌর্য জানান, ‘গত এক বছর ধরে অভিযুক্ত পলাতক ছিল ধৃত ব্যক্তি। নারী ও শিশু পাচারচক্রের সঙ্গে সে যুক্ত থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। এই সফল অভিযান আমাদের টিম ওয়ার্ক ও পেশাদারিত্বের নিদর্শন।’ তিনি আরো জানিয়েছেন, ‘সমুদ্রের মাঝখানে এ ধরনের অভিযান খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু আমার সহকর্মীরা সাহস ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সফলভাবে কাজটি করেছেন।’ অভিযুক্তকে শনিবারই আদালতে পেশ করা হয়েছে। পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে। তবে, তদন্তকারীরা মনে করছেন, অভিযুক্ত একা নয়। এর পিছনে আরো বড়ো কোনো শিশু ও নারী পাচারচক্র কাজ করছে। শুরু হয়েছে সে দিকেও অনুসন্ধান। উদ্ধার হওয়া নাবালিকার জবানবন্দি ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগোচ্ছে।
❤ Support Us







