Advertisement
  • দে । শ
  • মার্চ ২, ২০২৩

প্রবল সংকটে মিশর, দেশ জুড়ে ধিকিধিকি স্ফুলিঙ্গ।পণ্যমূল্যে আগুন।সরকারি সংস্থা বেচে ঋণ মেটাবে সিসি সরকার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
প্রবল সংকটে মিশর, দেশ জুড়ে ধিকিধিকি স্ফুলিঙ্গ।পণ্যমূল্যে আগুন।সরকারি সংস্থা বেচে ঋণ মেটাবে সিসি সরকার

চিত্র : ইণ্টারনেট

মিশরে  হু-হু করে চড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম। ডিম থেকে শুরু করে মুরগির মাংসের দাম যেভাবে চড়ছে তাতে নিম্নবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্ত নাগরিকদের পাতে প্রোটিন কার্যত বিলাসিতা।  অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ছে চাল, রুটি, সবজি, ভোজ্যতেল এবং রান্নার গ্যাসের।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করে।   এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে  মিশরের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে।  এর জেরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামে আগুন।

রাজধানী কায়রো ও গ্রামীণ এলাকাগুলিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সাধারণ নাগরিকদের সামর্থ্যের বাইরে। সরকারি হিসেব, শহরাঞ্চলে খাদ্যপণ্য, রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে অন্তত ৪৮ শতাংশ।  ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতির শিকার মিশরে  মুদ্রার অধোগতি দ্রুত বাড়ছে। 

 চাকরিজীবীরা উদয়াস্ত পরিশ্রম করছেন। ৪৩ বছর বয়সি হানি হাসান, কফিহাউসের সাধারণ কর্মী। সপ্তাহে একদিনও ছুটি  নেন না। দৈনিক ১২ ঘণ্টা চাকরি করে মাসিক  আয়  ১০০ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। খাদ্যপণ্যের দাম উত্তরোত্তর যেভাবে বাড়ছে, তাতে স্ত্রী ও চার সন্তানের  খাবার জোগাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মধ্যবিত্ত শ্রেণির একাংশ নিম্নবিত্তের স্তরে নেমে এসেছেন।  মিশরের জনসংখ্যা ১০ কোটি ৮০ লক্ষেরও বেশি। অধিকাংশই দরিদ্র। আরবের অন্য দেশগুলির মধ্যে  মিশরই  জনবহুল।

অর্থশাস্ত্রীদের অভিমত, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও গমের দাম বেড়েছে।  গম ও জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে  খরচ হু-হু করে বাড়ায় মিশরের  অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। কোষাগার প্রায় ডলারহীন। 

এরকম সঙ্কটজনক পরিস্থিতির মোকাবিলায় ইতিমধ্যে সরকার যে সব ব্যবস্থা নিয়েছে, তা সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। বরং, অর্থনৈতিক সঙ্কট  আরও প্রকট হয়ে উঠছে।

মিশরের সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্তে গম ও জ্বালানির আমদানি একধাক্কায় কমিয়ে দেওয়া হয়। মুদ্রাস্ফীতি আরও ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে। ইউরোপিয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে। চলতি বছরে আর্থিক বৃদ্ধির হার কমে দাঁড়াবে ৪.৩ শতাংশ। গত বছরে যা ছিল ৫ শতাংশ।

কেবল রাশিয়া বনাম ইউক্রেনের যুদ্ধই মিশরের অর্থনৈতিক দুর্দশার একমাত্র কারণ নয়। দায় সরকারের আর সমাজের । ভুল কৌশল, উৎপাদন বৃদ্ধিতে নির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণের ব্যর্থতা, আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। অর্থনৈতিক  সংস্কারের অজুহাতে সরকার  আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ  ঋণ নিয়েছে। ধার মেটাতে পারছে না।  খরচ ক্রমশ বাড়ছে। এতে  অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে খাদের কিনারায় পৌঁছে গেছে। গণ অসন্তোষ তীব্র, মরূ ভূখণ্ডে প্রবল উত্তেজনা আর উত্তাপ। যেকোনো মুহুর্তে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। অমিতব্যয়ী সরকার উন্নয়নের ঢাক ঢোল  পিটিয়ে বেসরকারিকরণের রাস্তায় হাঁটছে্। এব্যাপারে  সিসি সরকারের যুক্তি, ২০২১ সালে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বেসরকারি সংস্থাগুলির অবদান ছিল ৩০ শতাংশ। ২০২৫ সালে এর লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৬৫ শতাংশ করতেই বেসরকারিকরণই পথে হাঁটতে হচ্ছে।  মোড় ফেরানোর এ কৌশল আদৌ ধোপে টিকবে না। সংকট আরো বাড়বে। আবার আরব বসন্তের স্বপ্নে উতলা হয়ে উঠতে পারে পিরামিড ও আরব সভ্যতার ভূখণ্ড।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!