- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ৭, ২০২৫
হড়পা বানে অসমের কয়লাখনিতে আটক ১৫ শ্রমিক, মৃত ৩। উদ্ধারকার্যে নামলো সামরিক বাহিনী
গতকাল থেকে ডিমা হাসাওয়ের খনিতে আটকে ১০-১৫ জন শ্রমিক। ৩ জনের মৃত্যুর খবর। উদ্ধারকার্যে ‘স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স’ (এসডিআরএফ) এবং ‘ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স’ (এনডিআরএফ)। সেনাবাহিনীর সাহায্য চেয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হেমন্ত বিশ্বশর্মা।
অসমের অন্যতম পাহাড়ি জেলা ডিমা হাসাওয়ের অন্তৰ্গত উদ্যোগনগরী উমরাংসো। ৬ জানুয়ারি থেকে সেখানে প্রায় ৩০০ ফুট গভীর কয়লা খাদানে আবদ্ধ হয়ে পড়েছেন ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক। সোমবার সকালে কাজ করতে এসেছিলেন তাঁরা। রোজকার মতো কাজ শুরুও করেন। খাদানে আচমকা দ্রুতগতিতে হড়পা বানের জল ঢুকে পড়ায় এই দুর্ঘটনা। আবদ্ধ শ্ৰমিকদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে স্থানীয় মানুষজন, ‘স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স’ (এসডিআরএফ) এবং ‘ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স’ (এনডিআরএফ) অভিযানে নেমেছে। ইতিমধ্যে ৩ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা এই দুৰ্ঘটনা সম্পৰ্কে উদ্বেগ ব্যক্ত করেছেন, উদ্ধার অভিযানে সব ধরনের সহায়তা করা হবে জনান তিনি। সেনাবাহিনীর সাহায্য চেয়েছেন তিনি।
নিজের এক্স হ্যান্ডলে মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা লিখেছেন, ‘খাদানে আবদ্ধ শ্রমিকদের সঠিক সংখ্যা এবং অবস্থা এখনও অজ্ঞাত। জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং আমার সহকর্মী (পরিষদীয় মন্ত্রী) কৌশিক রাই ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্য রওয়ানা হয়েছেন। সবার নিরাপত্তার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছি।’ আটকে পড়া শ্রমিকদের নামও পোস্ট করেছেন তিনি, “গঙ্গা বাহাদুর শ্রেথ, হুসেন আলি, জাকির হুসেন, সার্পা বর্মন, মুস্তফা শেখ, খুশি মোহন রাই, সঞ্জিত সরকার, লিজান মাগার এবং শরৎ গোয়ারি।” যদিও এঁরা ছাড়া আর কেউ আটকে পড়েছে কি না, সংশয়ে অসম সরকার।
শেষ পাওয়া খবর, কয়লা খাদানের ভিতরে আবদ্ধ শ্রমিকদের এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ভিতরে আবদ্ধ শ্রমিকদের অবস্থা সম্পর্কে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তবে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কয়েকটি পাম্পের সাহায্যে খাদান থেকে জল বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধারকারীরা তাঁদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা প্রয়োগ করছেন। জানা গেছে, পাম্পের সাহায্যে খনির জলস্তর অনেকটা কমানো গেছে । তবে প্লাবিত খাদানের ভিতরে ধস নামার আশঙ্কাও রয়েছে। এটা আবদ্ধ এবং উদ্ধারকারী দুই দলের কাছে বিপজ্জনকও। তবু তাঁরা আবদ্ধ খাদান-শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
ডিমা হাসাও জেলার তিন কিমি জুড়ে এই কয়লা খনি গড়ে উঠেছে। তবে এই জায়গাটি অত্যন্ত প্রত্যন্ত বলে জানান সরকারি কর্তারা। সুতরাং এখান থেকে শ্রমিকদের উদ্ধার করতে অনেকটা সময় লাগবে। ওই কয়লা খনিতে বন্যা হওয়ার পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ওখান থেকে কোনওরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে দু’তিনজন শ্রমিক বাইরে বেরিয়ে আসেন বলে খবর। এই কয়েকজন শ্রমিকই খনির মালিক এবং স্থানীয় পুলিশকে দুর্ঘটনার কথা জানান। সূত্রের খবর, দুর্ঘটনাগ্রস্ত কয়লা খনি আসলে অবৈধ। যাকে বলে ‘ব়্যাট হোল মাইন’। প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই খনির বিষয়ে সেভাবে কোনো নজরদারি ছিল না। সেই সুযোগে সেখান থেকে গোপনে কয়লা তোলা হচ্ছিল। শুধু অসম নয়, প্রতিবেশী রাজ্য মেঘালয়েও এমন অবৈধ কয়লা উত্তোলন করতে দেখা গিয়েছে। একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বহু শ্রমিক মারা গিয়েছে। মেঘালয়ের ঘটনায় এধরনের কয়লা খনি নিষিদ্ধ করেছিল ‘ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল’। যদিও তাতে থামেনি অবৈধ কয়লা খনন।
দিমা হাসাও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে; ৬ জানুয়ারি থেকে আটকে পড়া ৯ জন খনি শ্রমিকদের মধ্যে ৭ আসামের এবং বাকি ২ জন নেপাল ও পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। তাঁদের পরিবারের উদ্বিগ্ন সদস্যরা ঘটনাস্থলে জমায়েত হয়েছেন। অত্যন্ত উৎকণ্ঠার মধ্যে তাঁরা তাঁদের প্রিয়জনদের উদ্ধারের অপেক্ষা করছেন।
❤ Support Us







