- ক | বি | তা রোব-e-বর্ণ
- অক্টোবর ১, ২০২৩
গুচ্ছ কবিতা
চিত্র: ম্যাক্সিমিলিয়ান মারিয়া আর্নস্ট।১৯২৭। শিরোনাম: শোকাহতার নদী অতিক্রম
না বলা অনেক কথা
কেবল গদ্যকার আর কবি নন। শুধু চিকিৎসা শাস্ত্র আর মনোবিজ্ঞানে নয়, যে কোনো সব্যসাচীর চেয়েও দক্ষ, দক্ষতর তাঁর উভয় হস্ত এবং তৃতীয়, চতুর্থ নয়ন। আনায়াসে শুদ্ধেন্দুর লেখালেখিতে, বিশেষ করে কবিকৃতিতে যুক্ত হয়ে ছুটতে থাকে না বলা, না ভাবা বহুকথার ইতিবৃত্ত। মনের উন্মোচনমুখী সৌভিক বলেই কি গল্প কবিতায় শুদ্ধেন্দু জাগিয়ে তুলতে জানেন বাংলা সাহিত্যের সেই ঐতিহ্য, যাঁর সফল কারিগর ছিলেন রাজশেখর বসু, মনোজ বসুর মতো সৃষ্টির চৌরস আর স্বনির্ভর একাধিক চক্রধর। শুদ্ধেন্দুর সঙ্গে কারো তুলনা করা অনুচিত, তাঁর নির্মিত পথ একান্ত নিজস্ব, তাঁর ভাবনার গদ্যায়ন, পদ্যায়ন যেমন নির্মেদ, তেমনি সংশয়হীন, কন্ঠস্থ সুরের মতো খানিকটা ব্যক্ত, খানিকটা রহস্যময়, যে কোনো ব্যতিক্রমের সাধ আর সাধনার সঙ্গে মাঝে মাঝে শব্দ ধ্বনিতে তরঙ্গায়িত, ব্যক্তি প্রতিভার স্বভাবধর্মে দীক্ষিত। সাহিত্যপ্রীতি আর নাগরিকতা বোধের খরার এই মুহূর্তে, এরকম একজন কবি, একজন গল্পকার এবং না উদাসীন রূপকারের সর্বক্ষণিক, সর্বময় উপস্থিতির প্রয়োজন বড়ো বেশি। আপসোস নয়, অহেতুক তর্জাময়তা নয়, যাঁর আত্মমগ্নতার সংযত, সংহত স্বর স্তরে স্তরে ঘা দেবে ঘুমন্তের স্বপ্নহীন জাগরণে। আশা করি, শুদ্ধেন্দু টিকিয়ে রাখবেন তাঁর প্রতি নিখিলের ছায়াবলম্বী, পল্লবিত ভরসাকে।
বাহার উদ্দিন
১.১০.২০২৩

চিত্র: ম্যাক্সিমিলিয়ান মারিয়া আর্নস্ট
এই ঘুণধরা হাত
এই ঘুণধরা হাত
কতটা লিখতে পারবে গান
অথচ এই গানটুকু ছাড়া কখনও ভাবিনি কিছু
জরুরিবাতির বাঁশি বিলাশখানি টোড়ির মতো
আছড়ে পড়েছে বারবার ।
তানপুরার তারে আঙুল স্পর্শ করি
রোমকূপের মতো তারা জেগে ওঠে
গানটুকু
এই ঘুণধরা বাজুবন্ধ
কতটুকু গান লেখা যায় !

চিত্র: ম্যাক্সিমিলিয়ান মারিয়া আর্নস্ট
একটি বাগদত্তা পিতার প্রতি
একটা সুড়ঙ্গর ভিতর জলপথ আছে
সে সুড়ঙ্গর চাবি দখল করে রেখেছে রাক্ষস
এই রাক্ষসকে তুমি দেখেছ অনেকবার
সীমান্তে টহল দিতে দিতে দেখেছ
হাসপাতালে মেঝের উপর গড়াগড়ি খেতে দেখেছ
কবি শ্যামলকান্তি দাশের কবিতার খাতায় দেখেছ
এ রাক্ষস প্রকাণ্ড দাঁত
দুহাতে অসীম বল
উদগ্র রোশানল দুই চোখ
সমুদ্রভরা ক্ষিদে
তবু সুড়ঙ্গপথের চাবি হাতে
ওই রাক্ষসকে তোমার অসহায় মনে হয় রোজ
তার দুচোখে জল
তার দুই ঠোঁটে না বলা অনেক কথা
দুই বাংলার…

চিত্র: ম্যাক্সিমিলিয়ান মারিয়া আর্নস্ট
কানা ময়ুরাক্ষী
মাটির দেওয়ালে বনফুল ফুটে আছে
ফুলের পাপড়ি ভরা মধু
মধুর স্পর্শে মত্ত মৌমাছি অঘোরীসাধকের মতো
টলমল করে ফিরে যাচ্ছে ফুলের বুকে
ঢেউ নাচে নদীর দুকূলে
ডুব দিলে মোহনা পাওয়া যাবে
বারে বারে ডুব দিলে ক্লান্তি আসবেই
দুই চোখে মেশা বালির দানায়
সরু স্রোতা বয়ে যাবে দুটি উরু বেয়ে
কানা ময়ূরাক্ষীর মতো
♦–♦♦–♦♦–♦♦–♦♦–♦
❤ Support Us







