Advertisement
  • গ | ল্প রোব-e-বর্ণ
  • এপ্রিল ৩০, ২০২৩

এজের মুন্সীর যাপিতজীবন

আশরাফ উদ্দীন আহমদ
এজের মুন্সীর যাপিতজীবন

চিত্র- দেব সরকার

আষাঢ়-শ্রাবণের বৃষ্টি মানে বাঁধনছাড়া বৃষ্টি। এতোটুকু থামার সময় নেই। দিনমান ঝরে যাচ্ছে একটানা। বিরাম নেই তো নেই-ই। কখনো আবার কড়াৎ-কড়াৎ শব্দে বিজলী পড়ে আশেপাশে কোথাও। চমকানিতে সমগ্র দেশটাকে প্রকম্পিত করছে। ওপাশে বিশাল বাঁশঝাড় বলে এলোমেলো হাওয়া পুরোপুরি গ্রাস করতে পারছে না কিছুতেই। বাঁশঝাড়ের পাশ দিয়ে সরু পায়ে চলা সড়ক এঁকেবেঁকে সাপের মতো চলে গেছে অনেকখানি দূরে। আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা, নিকষ কালো অন্ধকারে ঢেকে গেছে পৃথিবী। মৃত্তিকা সংলগ্ন মানুষগুলো ঝড়-বৃষ্টির মাঝখানে দাঁড়িয়ে অন্ধকারে যুদ্ধ করে নিজের সঙ্গে, এ যুদ্ধ বেঁচে থাকার জন্য, প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ ।

গভীর কালো অন্ধকার রাত্রের স্রোতে হারিয়ে যায় মানুষ, কোথায় যে হারিয়ে যায়, বোঝা বড় মুশকিল । হাতড়ে কাউকেই পাওয়া যায় না। তবুও বেঁচে থাকার জন্য কোনো তালপাতা-বৃক্ষ নয়তো বিশ্বাস খোঁজা। বৃষ্টিতে তামাম পৃথিবী ধুয়ে যাচ্ছে। দীঘি-পুকুর-পুস্কুনি নালা-ডোবা খানা-খন্দর বিল- হাওড় সব একাকার বর্ষার বারিধারায়। চারদিকে ব্যাঙের চিৎকার, মুহূর্তে কোথায় কড়কড় করে বাজ পড়লো যেন। বিকট গর্জন আর আলোক ঝলকানিতে চারদিকের গাছপালা ঝোঁপঝাড় স্তব্ধ হয়ে গেলো। ঝমাঝম করে আকাশ ভাঙা বৃষ্টি, বৃষ্টির মাতম বেড়েই চলে, বাতাসের এলোপাথারী মাতামাতি বৃষ্টি ও বর্ষার ভয়ংকর আওয়াজেকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। চতুর্দিকে নিরন্ধ ঘুটঘুটে অন্ধকার আর অন্তহীন দুর্যোগের মধ্যে মাথায় হাত দিয়ে বসে ভাবিছে মতলব শেখ। তার ভাবনার শেষ নেই, ভাবনাগুলো টালমাটাল হয়ে ঘুরে বেড়ায়। আকাশে সিঁদুরে মেঘ দেখলে ঘর পোড়া গরু যেমন ডরায়, তেমনি গেরস্থর বুক শুকিয়ে যায় আগামীর অনিশ্চয়তায়। আট/দশটা কাঠি নষ্ট করার পরও নিজের মধ্যে থেকে কোনোক্রমে জ্বলতে পারে না। চোখের সামনে অন্ধকার চাপ-চাপ। নিঝুম চরাচর রাতজাগা কোনো নিঃসঙ্গ পাখির মতো কিংবা ঘেঁয়ো কুকুরের মতো অন্ধকারকে সঙ্গি করে বৃষ্টির কলকল ধ্বনি-প্রতিধ্বনি শোনায়।
বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবিত গ্রামকে গ্রাম। কাজ নেই বলে মানুষের ঘরে অন্ন নেই, হা-হাভাতে সংসার শুধুই
বৃষ্টির ঝমঝমানি আর ব্যাংঙের ডাকাডাকি। ছেলে-পুলেদের চিৎকারে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত
হলেও তাতে কি যায় আসে, যে যার কাজে সে ব্যস্ত, বৃষ্টি থামবে কবে আর বৃষ্টি থামলেই পানি কবেই বা সরবে। পানি সরলেই ক্ষেতগুলোতে আবার বীজতলায় ভরবে। কিন্তু এখন তো কারো হাতে কাজ নেই, অফুরন্ত অবসর, অথচ মন-মেজাজ কারো ভালো নেই, চোখে সবারই শুধু অন্ধকার। এই অন্ধকার সাঁতরে কোথায় যাবে কে বা, যাওয়ার কোনো পথ নেই, পথ ডুবে গেছে মহাপ্লাবণে-মহাদুর্যোগে আর কালো মিসমিসে অন্ধকারে। হায় রে বৃষ্টি কালনাগিনী বলে ওঠে এজের মুন্সী ।

গতবছর এমন বৃষ্টির দিনে ছোট মেয়েটিকে বাপের বাড়ি দিয়ে গেলো ওর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। জামাই মুদ্দেসের আলী বরাবরই এজের মুন্সীর সঙ্গে পালকির বেহারা ছিলো। কিন্তু হঠাৎ মতিগতি পালটে ফেলে জানালো স্বশুরের সঙ্গে সে আর থাকবে না। হাটে ব্যবসা করবে অর্থাৎ নগদ টাকা দিতে হবে। এজের মুন্সীর মাথায় হাত, টাকা শব্দটা শুনে আক্কেলগুম। অথচ মুদ্দেসের বিয়ে করেছিলো নিজের পছন্দে মমতাকে। একদিন দুদিন করে দেখতে-দেখতে ভালোবেসে ফেলে তারপর বিয়ে। তাও এজের মুন্সী খালি হাতে দেয়নি। বাড়ির নীচের নাবাল জমিটুকু বিক্রি করে জামাইকে যথাসাধ্য দেয়। কিন্তু ছয়মাস না যেতেই জামাই যে বেঁকে বসবে তা বা কে জানতো। মেজো মেয়ে নূরজাহান আজ সারে তিন বছর বিধবা হয়ে বাপের বাড়ি এসে আছে। সঙ্গে দু দুটো বাচ্চা। শ্বশুর-ভাসুর কেউই দায়িত্ব নেয়নি। উপায়হীন বাপের বাস্তুভিটায় পা রাখে। বাপ এজের মুন্সী ফেলে দেয়নি। নূরজাহানও সে রকম কর্মঠ এবং সচেতন বটে, লোকের বাড়ি ধান সেদ্ধ-ভাঙা থেকে শুকনো কাজ করে বাপের হাতে যখন যা পারে তুলে দেয়। এজের মুন্সী কখনো-সখনো মেজো মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বড় বেশি উদাসীন হয়ে যায় । -আব্বা আপনি কি ভাবতাছেন…

দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে এজের মুন্সী বলে, কি আর ভাববো বেটি, কি ভেবেছিলাম আর কি হয়ে গেলো— আর কিছুই বলতে পারে না। চোখ কেমন যেন ভিজে আসে।

বর্ষার বৃষ্টি লাগামহীন বুনো মোষ বড়ই অবাধ্য আর ক্ষেপাটে। এজের মুন্সীর কানে শুধুই ‘ উহুম না- — উহুম না… শব্দগুলো ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হয়। লাহিরীমোহনপুর রেলষ্টেশনের বটতলায় সোয়ারির অপেক্ষায় কতোদিন না কতো কাল দাঁড়িয়ে থেকেছে এজের মুন্সীর দল। চোখ ঝাপসা হয়ে ওঠে, বোবা জানোয়ারের মতো শুধু তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই এখন তার। পানি আর পানিতে ভাসিয়ে দিচ্ছে তামাম দেশ। এমন বর্ষার ঢল তো জীবনে কখনো দেখেনি। আকাশ ভেঙে এই বারিবর্ষণ কবে শেষ হবে, কেউ জানে না। কেনো আর জানতে যাবে, কার কি আসে যায়, সবাই শহরের দিকে পালাচ্ছে, শহর দু’হাত বাড়িয়ে রেখেছে যেন।
শহর মানে নিষ্ঠুর এক দানব। সে সমস্ত নিঃশেষ করে ফেলে। তার মনে কোনো মায়া নেই, ভালোবাসা নেই। শুধুই কঠিন হাতছানি। এজের মুন্সী শহর আর সভ্যতাকে কখনো ভালোবাসতে পারে না। তার চোখ শুধু পেছনে ফিরে যায়।

কালের বিবর্তনে গ্রামবাংলার মেঠো পথে এখন সাত বেহারার পালকি বহরের উহুম না উহুম না উহুম নাহ… ধ্বনি আর হয় না। কান যেন বধির হয়ে গেছে, মানুষগুলো যন্ত্র! মানুষ এখন ঘড়ির কাটার সাথে পাল্লা দিয়ে ছোটে। কোথায় ছুটে যায়, এতো কিসের ব্যস্ততা… কিছুই বুঝে পায় না সে। বাদ্য-বাজনা আর আনন্দ-উল্লাসের মাঝে পালকির মধ্যে নববধূর লজ্জা রাঙানো ঘোমটা দেওয়া মুখ, আজকাল আর তেমন চোখে পড়ে না। চোখ থেকেও অন্ধ হয়ে গেলো নাকি বুঝে পায় না। সবাই কেমন আধুনিক হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সে তো এখন তেমনিই আছে। বুক ঠেলে কঠিন গরম নিঃশ্বাস বের হয় এজের মুন্সীর। পূর্বপুরুষের পেশায় সে আজ নিমজ্জিত। পেশা তো বদল করতে পারেনি। হয়তো বদল হয়ও না। মানুষের একজীবনে কি পেশা পরিবর্তন করা যায়! যায় না হয়তো। যে পেশাকে ভালোবেসে রুটি-রুজি মেলে, বংশপরম্পরা যে পেশা জীবনকে আটকে রেখেছে, সে জীবন মহাকালের স্বাক্ষী হয়ে ধাবিত হয়, নদীর মতো। সে জীবন তো মহাজীবন । বললেই তো আর সে পেশা বা জীবনকে বদলানো যায় না। বাপ-দাদা পরদাদার যে ভালোবাসা, যে মোহাব্বত রয়েছে, তাকে কিভাবে মুছে ফেলবে! মুছে ফেলা কি যায়।

আবহমান কাল ধরে বাংলার ঐতিহ্যবাহি পালকি ব্যবহার দিনেদিন কমলেও বৃহত্তর চলনবিল বা নগরবাড়ি-আরিচা বা বোয়ালমারীর বিভিন্ন এলাকায় চার বেহারার পালকি এখনো মাঝে-সাঝে কদাচিৎ দেখা যায়। বিশেষ করে বিয়ের অনুষ্ঠানে নববধূকে চার বেহারার পালকি চড়ে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার চমৎকার দৃশ্য প্রাচীন কথায় স্মরণ করিয়ে দেয়।

সভ্যতার রোশানলে পড়ে শহর বা গ্রামাঞ্চলে পালকি ব্যবহার ক্রমে-ক্রমে উঠে গেলেও নদীমাতৃক দেশের কোথাও- কোথাও বিশেষ করে চলনবিল বা দুর্গম প্রন্তরে যোগাযোগের জন্য পালকির ব্যবহার এখনো মোটামুটি আছে। এজের মুন্সীরা রঙবে রঙের পালকি নিয়ে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে পুরুষানুক্রমে। আজ রাস্তা-ঘাটের উন্নতি হওয়ায় রিকসাভ্যান নছিমন করিমন চলাচলে পালকির কদর দিনেদিন কমলেও মানুষজন পালকির সন্ধান করে। বিশেষ ভাবে বুনিয়াদি বংশের মানুষ এখনো পালকির জন্য হন্য হয়ে বেড়ায়। যদিও কয়েক দশক আগেও সমগ্র চলনবিল অঞ্চলে শত-শত পালকি চলাচল করতো। এজের মুন্সী সে সমস্ত দিনের ছবি দেখে মনের মধ্যে অন্যরকম সুখ অনুভব করে। মনে-মনে ভাবে আহা সেদিন যদি আবার ফিরে পেতাম। ফিরে তো আসে না, তারপরও একটা প্রত্যাসা যদি ফিরে আসতো! আহা কি মজা হতো ।

চলনবিলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ভৌগলিক অবস্থার কারণে চার দশক পূর্বেও বর্ষাকালে নৌকা আর শুস্ক মৌসুমে পালকিই ছিলো একমাত্র ভরসা বা বাহন। কিন্তু মহাকালের বিবর্তনে সমুদ্রের ন্যায় বিশাল চলনবিল আজ পলিমাটি সমৃদ্ধ উর্বর, সবুজ শস্য প্রান্তরে পরিণত হয়েছে। প্রকৃতির কি অপরূপ মহিমা! একসময় যা ছিলো জলরাশির দখলে আর আজ মানুষের নখদর্পণে। গ্রামীণ সড়কের যোগাযোগের উন্নতির কারণে মানুষ দ্রুতগামী রিকসাভ্যান নছিমন-সিএনজি ভটভটি চলাচলে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে দিনেদিন।

এজের মুন্সীর মতো মানুষেরা আজ মাজাভাঙা হেলে সাপের মতো দিন গুজরান করছে অতিকষ্টে । তাদের দুঃখ-দুঃর্দশার করুণ কাহিনী কেউই শোনে না। প্রতিনিয়ত শারীরিকভাবে অক্ষম, তারপরও পেটের দায়ে সংসারের বৃহৎ চাকা সচল রাখতে ছুটে বেড়ায় গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ক্লান্ত-অবসন্ন শরীর তাদের। ঠিকমতো নিঃশ্বাসের সুযোগটুকু আর পায় না। বর্ষা-রোদ-শীতেও তাদের জীবনে এতোটুকু শান্তি নেই। পৌষের কুয়াশাচ্ছন্ন হিমশীতল রাতের আধার আরো প্রকট-প্রখর সূর্যালোক উপেক্ষা করেও চলতে হয়, আবার বৃষ্টি-কাদা মাথার ওপর কড়াৎ-কড়াৎ বজ্রপাত। এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভেতর দিয়ে চলতে হয় গ্রামের এপথ থেকে ওপথে ।

এজের মুন্সীর চোখে ভাসে সেসব দিনের দৃশ্যাবলী। কানে ভেসে আসে অনেক দূর থেকে ছুটে আসা ট্রেনের হুইসেল । বাপের সাথে নিয়মিত থাকতো এজের মুন্সী। রেলষ্টেশনের বটতলার ভাঙা ঝুপড়ি ঘরে কর্মক্লান্ত দেহে, রাতের বিশ্রাম নিতো তার বাপ। তখন ট্রেনের হুইসেল শুনেই ঘুম ভেঙে যেতো তাদের। খুক-খুক করে কেশে বিড়ি ফুঁকতো নজের মুন্সী। চোখে ঘুমের রেশ থাকলেও কোনো হেরফের হয়নি কখনো। রেলগাড়ির হুইসেলের শব্দে মন কেমন চাঙ্গা হয়ে ওঠে। মন-প্রাণ দূর দিগন্তে হারিয়ে যায় তখন নজের মুন্সীর। রেলযাত্রীর অপেক্ষায় মন ভরে যায় কুষ্টিয়া জেলার গাংনী উপজেলার সুঠামদেহী পুরুষ ফজর মুন্সীর। জীবিকার তাগিদে কোনো এককালে এখানে এসে বেহারার কাজ করলেও তারা বরাবরই কর্মঠো মানুষ। গেরস্থবাড়ির জমি-জমা দেখভাল বা আধি বর্গাদার ছিলো তাদের পূর্বপুরুষেরা। ফজর মুন্সীর পর পর নজের মুন্সী তারপর এজের মুন্সী এ’ পেশায় বহাল থাকলেও আর বুঝি জীবন চলে না। এখানে কোনো জীবন নেই। শুধু অন্ধকার আকাশ আর অথৈ সমুদ্রে নিজেকে টেনে নিয়ে যাওয়া। দুঃখ কষ্ট আর অনাহার জীবনসঙ্গি। কোথাও এতোটুকু ভালোবাসা নেই। ভালোবাসাও যেন সতীনকাঁটা। কোথায় যেন হারিয়ে গেছে ।

বর্ধনগাছা গ্রামের সোহরাবের আটটি, ধনেখালি গ্রামের কাঁচু সরদারের এগারোটি, বানিয়াগাছির জয়নাল হাওলাদারের ছয়টি পালকি ছিলো এক সময়। ব্যবসা মন্দার কারণে সমস্ত সর্দারেরা একে একে পালকিগুলো বিক্রি করে। স্থানীয় সর্দারেরা এগুলো ক্রয় করে হয়তো ভাড়া খাটাচ্ছে, কেউ বা কদিন লোকসান গুণে অথবা বেহারার বাহক না পেয়ে বাড়ির উঠোনের কোণে ফেলে রেখে দেয়। এজের মুন্সীর মতো মানুষেরা আজো কষ্টের যাতাকলে দিনাপাত করছে অন্ধকারে। ঘরে খাবার নেই, মনে সুখ নেই, পূর্বপুরুষের পেশা ধরে আর জীবন চলে না। জীবন যেন আটকে আছে কঠিন চোরাবালিতে, কোথায় যাবে, সে যাওয়ার পথেও শামুকের গর্ত।

অনেক-অনেক রাত্রে, জীবনের তামাম লেনদেন ফুরিয়ে গেলে চোখের মধ্যে ছোঁপ- ছোপ স্মৃতি স্মৃতি সে সমস্ত জীবনের ছবি ভেসে ওঠে। আহা কি দিন চলে গেলো, সোনায় মোড়ানো দিন যেন। বাপ- দাদার হাত ধরে কতো আনন্দ আর সুখ সাগরে নিজেকে নিমজ্জিত রেখেছে। আর আজ সবই স্বপ্ন। স্বপ্ন স্বপ্ন রাঙানো ভোর যেন আর ফিরে আসে না। আকাশের শুকতারাটির মতো জ্বলজ্বল করে দুঃখ অভাব আর দারিদ্র্যতা। ওদিকে ছোট মেয়েটা বড় হয়েছে, তাকেও বিয়ে দিতে হবে। ভালো পাত্র পাওয়া তো সোনার হরিণ! কে আসবে অন্ধকার তিমিরে । নিজেকে নিজে অনেক- অনেক প্রশ্ন করে। প্রশ্নে প্রশ্নে নিজেই যেন জর্জড়িত হয়ে যায়। কিন্তু তারপরও প্রশ্নগুলো কর্পূরের মতো হাওয়ায় উড়ে যায়। রাত্রের অন্ধকার সমস্ত কষ্ট কেটে যাবে। কিন্তু জীবনের ধাবমান অন্ধকার কিভাবে কাটবে। জানে না। কোনোভাবেই জানতে পারে না। সুখ-সুখ স্মৃতিগুলো ফিরে ফিরে আসে, কখনো বাপ- দাদার রুহ এসে সামনে দাঁড়ায়, তারপর আবার উড়ে যায়। কোথায় মিলিয়ে যায় আন্দাজ করা যায় না। ঝলমলে জ্যোৎস্নার ভেতর শুস্ক মূর্তি এসে দাঁড়ালে, এজের মুন্সী ঠাওড় করে তার জীবনের সময় আর হয়তো বেশি দিন নেই। তারপরও অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নেয়। ছোট মেয়েটার এখনো গতি করা হয়নি।

♦—♦


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!