Advertisement
  • গ | ল্প রোব-e-বর্ণ
  • সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৩

ইউপিআই

সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়
ইউপিআই

 
সেদিন যখন চকডাস্টার ছেড়ে কম্পিউটারে পড়াতে বাধ্য হয়েছিল, সমস্ত সিস্টেমটার বিরূদ্ধে প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল পৃথা। প্রশ্ন তুলেছিল-
 
‘কেন সব মেনে নিয়ে কাজ করতে হবে? চাকরিতে ঢোকার সময় তো এমন শর্ত ছিল না!’
 
না সত্যিই ছিল না। শুধু পড়াবে আর পড়াশোনার মধ্যে থাকবে  বলে কম মাইনের অধ্যাপনাকেই জীবিকা করেছিল পৃথা। একদল পন্ডিত অধ্যাপকের জন্য বেগম নুরজাহান কলেজের যথেষ্ট নামডাক। যাতায়াতের একটু কষ্ট মেনে নিয়েও কলেজটাতে ছেলেমেয়েরা পড়তে আসে শুধু একটাই কারণে- কলেজটায় ভালো পড়াশোনা হয়। জীবনের তিরিশটা বছর এই কলেজে কাটিয়ে দিল পৃথা। ছাত্র ছাড়া কলেজের আর কিছুর সাথে কোন বন্ধন তৈরী হয়নি তার। সেই ছাত্রদের সঙ্গে অনলাইনে লুকোচুরির দেওয়া নেওয়া!  কিছুতেই মেনে নিতে পারে না পৃথা। তবু মেনে নিতে হয় অনেক কিছুই। আর এই মানার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে, শিখতেও হয় অনেক কিছু। প্রয়োজনের তাগিদে পৃথা শিখেছে অনেক।
 
আকাশের রঙটা আজ লজ্জাবস্ত্রের আড়ালে রাঙাবৌ এর মুখটার মত। কত রকমের রঙ। স্বপ্নের লাল, আবেশের গোলাপী, কল্পনার সবুজ, অন্তরঙ্গতার নীল।
 
‘মেম আজ বেড়াতে যাবে?’
 
পূর্বাকে আদর করে এই নামেই ডাকে পৃথা।
 
‘চলোনা মেম, আজ আকাশটা ডাকছে আমায়’
 
‘বেশ তো চলো!’
 
রূপনারায়নের চওড়া বাঁকটা বাংলোর বারান্দা থেকে অদ্ভুত রহস্যময় লাগছে। জলের সমস্ত ধারা যেন হঠাৎ  করে লুকিয়েছে আকাশের বুকে। তার ঠিক পিছনে কি আছে, ঠাহর করা বেশ কঠিন। নিঝুম অন্ধকারে বারান্দায় বসে নিজেদের সুখ দু:খ ভাগ করে নিচ্ছে দুই বন্ধুতে। বাংলোর ওয়েটার একটা বিল নিয়ে হাজির হয়েছে।
 
‘ম্যাডাম ফুড বিল কি এখন পে করে দেবেন?’
 
‘করে দিলেই হয়’
 
‘ক্যাশ না কার্ড ম্যাডাম?’
 
‘না ইউপিআই।’
 
বিস্ময়ে হতবাক পূর্বা ! পৃথা আর ফোন পে ? সমস্ত অনলাইন সিস্টেমের বিরূদ্ধে গর্জে ওঠা পৃথা করবে গুগল পে ?
 
‘সাহেব ! তুমি গুগল পে করতে শিখে গেছ ?’
 
‘কি করি মেম ! সবসময় ব্যাগে টাকা নিয়ে বেরোন হয় না, তাই দায় পড়ে শিখে নিয়েছি।’
 
‘তা বেশ করেছ, সবসময় ব্যাগে হার্ড ক্যাশ নিয়ে না বেরোনই ভালো। দিনকাল যা পড়েছে !’
 
আজ আর বাংলোর খাবার খাবেনা ঠিক করেছে ওরা। এখানে সুন্দর রান্নার ব্যবস্থা। মেম-সাহেব বেরিয়ে পড়েছে বাজারে। খানিকটা চলে আসার পর পূর্বা খেয়াল করে, সে তার পার্সটা আনতে ভুলে গেছে।
 
‘সাহেব একটু দাঁড়াও পার্সটা ফেলে এসেছি’
 
‘আমার কাছে যা আছে হয়ে যাবে ছাড়ো। আর নাহলে গুগল পে তো আছে’
 
পৃথাকে যত দেখছে তত অবাক হয়ে যাচ্ছে পূর্বা। ডিজিটাল দুনিয়ায়  এত স্বচ্ছন্দ কি কবে হল সাহেব? কিছুদিন আগেও এটিএম এ টাকা তুলতে হলে পাঁচবার ভাবতো। যদি কিছু গোলমাল করে ফেলে ! চেক দিয়ে টাকা তোলার পুরোন অভ্যাসটাই বহাল ছিল।
 
‘যবে থেকে রিন্টু আমায় এই ফোন পে টা শিখিয়ে দিয়েছে আমি বেশ মজায় আছি জানো মেম!’
 
‘সাহেব তোমার ভয় করে না ! সারাজীবন নিজের সংসারটা টানতে কি হাড়ভাঙা খাটুনিটাই না খেটেছ। আর সেই কষ্টের টাকা !  যদি কিছু ভুলভ্রান্তি…….. ‘
 
পূর্বার কথা প্রায় উড়িয়েই দেয় পৃথা।
 
‘ভুলভ্রান্তি কেন হবে এ তো জলের মত সোজা’
 
পূর্বা এক দৃষ্টে তাকিয়ে থাকে পৃথার দিকে। এই কি সেই পৃথা! কয়েকবছর আগেও যে সমস্ত ডিজিটাল  সিস্টেমের বিরূদ্ধে জোরালো বক্তব্য রাখত! কলম ধরত মেহনতি  মানুষের লুঠ হয়ে যাওয়া কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য! উদাত্ত কন্ঠে গান ধরত- ওরা ভয় পেয়েছে রোবসন!
 
‘এই ডিজিটালের চক্রব্যুহে আমি নিজেই কখন ঢুকে পড়েছি সত্যিই বুঝিনি জানো মেম ! কিছুটা নিজের তাগিদে আর কিছুটা পরের প্রজন্মের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে নিজেদের নীতি, আদর্শের সাথে কোথাও বোধহয় আপোষ করতে বাধ্য হলাম’
 
পূর্বা মেনে নেয় পৃথার কথা। না মেনে উপায়ই বা কি! সে নিজেও তো একই পথের পথিক। প্রচন্ড ব্যস্ততায় ব্যাংকের পথ তো প্রায় ভুলতে বসেছে। এতদিন ভরসা ছিল কার্ড। এখন আবার এক পা এগিয়ে হয়েছে গুগল পে।
 
‘সব মিলিয়ে কত হল মাসি!’
 
পান খেয়ে কালো হয়ে যাওয়া দাঁতের ফাঁকে আঁচলের খুঁটটা ধরে সব্জীর মাসি বলল – ‘১৩৯ টাকা। খুচরো দেবে মাসি’
 
‘এ তো বড় মুশকিল হল! এত খুচরো কোথায় পাবো?’
 
‘না থাকলে গুগল পে করে দাও!’
 
তেলচিটে টাকার থলির ভিতর থেকে ফস করে বের করে দিল ইউপিআই স্ক্যানারখানা। চোখ কপালে উঠল পূর্বার। নদীতীরের এই প্রত্যন্ত গ্রামের বাজারে, নিজের ক্ষেতের খানকতক সবজি নিয়ে বেচতে আসে এই চাষীবৌ। তার কাছেও ফোনে টাকা লেনদেনের গুপিযন্ত্র! পৃথার আনন্দ আর ধরে না। ব্যাগের টাকা ব্যাগেই রইল অথচ মনপসন্দ বাজার হয়ে গেল এক ব্যাগ।
 
একটু সময় পেলেই শহর থেকে শহরতলীতে বেরিয়ে পড়ে মেম-সাহেব। খাস কলকাতার শপিং মল থেকে শান্তিনিকেতনের কোপাই, সোনাঝুরির হাট, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার পর্যটন স্থল থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম। কখনো পলাশের প্রদীপ শিখা, কখনো বা মাটিতে ছড়িয়ে থাকা কৃষ্ণচুড়ার আবির মাখানো পথ। কখনো  অমলতাসের ঝাড়লন্ঠনের মৃদু আলো কখনও বা গাছ ভর্তি সবুজ থেকে হলুদ হতে থাকা আম, কিছুই ওদের দেখার পরিধির বাইরে যায় না।
 
সেদিন সন্ধ্যেবেলা প্রান্তিকের ক্যানালের রাস্তায় যখন টোটোটা উঠেছে, ঘন কালো মেঘ জমেছে আকাশে। ক্যানেলের এপারে তখন আলো। পৃথা আর থেমে থাকতে পারে না। ওর কন্ঠে ঈশ্বর যে সম্পদ দিয়েছেন তাকে বোধহয় তিনি নিজেই ঈর্ষা করেন। পৃথা গেয়ে চলেছে- ‘রাত্রি এসে যেথায় মেশে দিনের পারাবারে…..’। হঠাৎ থেমে গেল ছেলেমানুষের মত।
 
‘মেম ফুচকা খাবে?’
 
ঘাড় নাড়ার অবকাশটাও পায়নি পূর্বা। টোটো থামিয়ে নেমে পড়েছে সাহেব। শান্তিনিকেতনে এলে পৃথা ভুলেই যায় তার কত বয়স, কি তার পেশা। একেবারে অন্য এক সাহেবকে খুঁজে পায় পূর্বা। মাথার দুপাশের লম্বা বেণী হারিয়ে গিয়েছে ছোট চুলের আড়ালে, কাঁধের ঝোলানো কাপড়ের ব্যাগ ছোট হয়েছে। পরিপাটি করে কুঁচিয়ে পড়া শাড়ির জায়গায় এখন হালকা ঢিলেঢালা পোশাক। মনের দিক থেকে সে আজও কলাভবন, হাতিপুকুর, গৌড়প্রাঙ্গন, সঙ্গীতভবন, হস্টেলের আশেপাশে ছুটে বেড়ানো  এক অষ্টাদশী।
 

এই রুক্ষ পাথুরে মাটি থেকে প্রাণশক্তি শুষে নিয়ে পলাশ গাছগুলো এদের বেঁচে থাকার রসদ যোগায় । এ সম্পর্ক শাশ্বত, আবহমান, চিরআধুনিক। এ কখনো ডিজিটাল হয় না। কোন পেমেন্টের দাঁড়িপাল্লায় মাপা যায়না এই সম্পর্কের ওজন

 
‘এই ফুচকাওয়ালার কাছে একদম ভিড় নেই। চলো এখানেই ফুচকা খাবো’
 
নিখুঁত ভাবে ফুচকার আলু মাখায় সাহেব। ‘বেশি ঝাল দেবে না, গন্ধরাজ লেবু দাও, পেঁয়াজ খুব অল্প, জলে আর একটু তেঁতুল……হ্যাঁ এইবার ঠিকঠাক হয়েছে’
 
আয়োজনই সার। মেম-সাহেবের ফুচকা খাওয়ার দৌড় দেখলে ছোট বাচ্চাও হেসে উঠবে।
 
‘কত হল গো’
 
‘চল্লিশটাকা দিদি’
 
‘গুগল পে আছে?’
 
‘আছে’
 
পূর্বা আর হাসি চাপতে পারে না।
 
‘সাহেব তুমি তো…….’
 
হেসে গড়িয়ে যাচ্ছে পূর্বা। এমন বোকার মত হাসি একটু বিরক্তই করছে পৃথাকে।
 
‘এত হাসির কি হল?’
 
‘তুমি তো এবার পাবলিক টয়লেটে গিয়েও গুগল পে করবে মনে হচ্ছে’
 
‘কত সুবিধে বলো তো? সঙ্গে টাকা রাখতে হয়না, কার্ড রাখতে হয় না। শুধু স্ক্যান করো কাজ শেষ। দারুণ। আমার তো এখন পুরো লাইফটা জুড়েই গুগল পে। নো ক্যাশ’
 
সাহেবের এই ডিজিটাল হাবভাবে বেশ মজা পায় পূর্বা।  আরও মজা হয় যখন তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে নিজের পিনটাই গুলিয়ে ফেলে সাহেব। মাথা চুলকে নিষ্পাপ চোখে পূর্বার দিকে তাকিয়ে বলে
 
‘মেম পিনটা একটু বলবে?’
 
মেম-সাহেবের বিশ্বাসের মজবুত বুনিয়াদ। আর এই জন্যই মাঝে মাঝে ভয় হয় পূর্বার। কখনো কোন ছোট্ট ভুলে যদি বড় ক্ষতি হয়ে যায় সাহেবের? সবসময় আগলে রাখে তার আদরের সাহেবকে। হঠাৎ ডিজিটাল হয়ে যাওয়ার উন্মাদনায় সে যেন কোন বিপদে না পড়ে।
 
বড়ন্তির বাংলোর পলাশগাছটা নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে প্রকৃতির কোলে। কয়েকটা বাচ্চা মেয়ে পলাশের মালা নিয়ে এসেছে রিসর্টের উঠোনে। ট্যুরিস্টদের পলাশের মালা বিক্রি করে দু’পয়সা রোজগার হয়। তেলচকচকে কালো মেয়েটির মুখের হাসি, ফুটে থাকা পলাশের চেয়েও সুন্দর।
 
‘দিদি একটা মালা নাও না। কুড়ি টাকা দাম’
 
পূর্বা কনুইএর ঠেলা দিয়ে বলে- ‘ও সাহেব গুগল পে করবে নাকি!’
 
সাহেব উত্তর দেয় না। এই রুক্ষ পাথুরে মাটি থেকে প্রাণশক্তি শুষে নিয়ে পলাশ গাছগুলো এদের বেঁচে থাকার রসদ যোগায়। এ সম্পর্ক শাশ্বত, আবহমান, চিরআধুনিক। এ কখনো ডিজিটাল হয় না। কোন পেমেন্টের দাঁড়িপাল্লায় মাপা যায়না এই সম্পর্কের ওজন। পূর্বা মালা কেনে না। মেয়েটিকে বলে
 
‘তোর সব বন্ধুদের ডেকে নিয়ে আয়। আজ এই রিসর্টে আমরা সবাই মিলে খাব।’
 
একঝাঁক পলাশপ্রিয়া রিসর্টের বারান্দায় সারি বেঁধে খেতে বসেছে। এ দৃশ্যের মূল্য গুগল পে করে চোকানো যায় না।
 
কলকাতার তীব্র গরম মানুষের জীবনযাত্রাটাই পালটে দিয়েছে। বাজারে তেমন ভিড় নেই। সবজিপাতি মাছ মাংস সব কিছুই ক্রমশ: নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। কেউ বলছে ধান সব জ্বলে যাচ্ছে, কেউ বলছে সবজির হাল খারাপ। মাছের দোকানি বলছে পুকুর তো শুকিয়ে গেল, মাছ আর কি খাবেন! সকলের কণ্ঠে কেবল হতাশা। একি বিশ্ব উষ্ণায়ন নাকি পরিকল্পিত দরিদ্রায়ন? ঠিক বুঝে উঠতে পারে না পূর্বা। নিষ্ঠুর এই বাস্তব অনুভব করার মত কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনও হয়নি সে। কিন্তু জীবন মাঝে মাঝে  চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে যায় অনেক কিছু। প্রশ্ন রাখে, সকলকে বাদ দিয়ে কি ভালো থাকা যায়? গুগল পে’ র মত বিচ্ছিন্ন সে বেঁচে থাকা। শুধু কয়েকটি সংখ্যার হেরফেরে রাজাধিরাজ হয়ে যেতে পারেন পথের ভিখারি।
 
নটা সাড়ে নটা বাজতেই ক্রমশ: রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায় আজকাল। চল্লিশ ডিগ্রির অগ্নিবাণে বিদ্ধ হয়ে ওষুধ দিতে এসেছে কোম্পানির ছেলেটা।
 
‘ম্যাডাম, একগ্লাস জল দেবেন? আর পেমেন্ট টা যদি ক্যাশে দেন…..’
 
একটু অবাক হয় পূর্বা। কোম্পানিগুলো তো রাতদিন গুগল পে করতেই বলে, এর আবার হল কি?
 
‘আসলে আপনার পেমেন্টটাই আমার আজকের কমিশন। ক্যাশে দিলে আর অফিসে যেতে হয় না। বড্ড গরম তো ম্যাডাম!’
 
ছেলেটার করুণ মিনতি শেলের মত বুকে বিঁধল পূর্বার। সত্যি তো কাগজের টাকা ছাড়া সবার যে সব প্রয়োজন মেটে না। অনলাইন পেমেন্টের চক্করে আজকাল বাড়িতে নগদ টাকাও কমই থাকে।  তার মধ্যে থেকেই ছেলেটিকে তার টাকা মেটালো পূর্বা। সঙ্গে কিছু টাকাও রাখল। পথে যদি  কাগজের টাকার প্রয়োজন হয়!
 
একেবারে শুনশান রাস্তার ধারে গনগনে আঁচে ঘেমে নেয়ে একসা হয়ে একমনে ইস্ত্রী করে যাচ্ছে লোকটা। মুখটা ইঞ্জিনে কয়লা দেওয়া সেই মানুষটার কথা মনে করিয়ে দিল। প্রচন্ড উত্তাপে যার সমস্ত শরীরটা মোমবাতির মত একটু একটু করে গলে যায়।
 
বিজয় এসে বলে – ‘ম্যাডাম, ইস্ত্রীওয়ালা কিছু আডভান্স চাইছে’ –
 
‘বলিস কিরে! ইস্ত্রির আবার আডভান্স ? কবে থেকে চালু হল? যাক গে দিয়ে দে কি আর করা যাবে’
 
একটু বিরক্তই হয়েছে পূর্বা। হঠাৎ চোখ তুলে দেখে ঘর্মাক্ত ইস্ত্রিওয়ালা তার গাড়ির জানলার কাছে হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে আছে।
 
‘গুসসা হোবেন না দিদি। আমি কোনদিন ইস্ত্রির টাকা আগে লিই না। সোকাল থেকে সোব কাস্টমার শুধু গুগল পে করে যাচ্ছে। কৌটোয় টাকাই লাই। আপনার টাকাটা দিয়ে ঘরে একটু চাল কিনব। আপনি গুসসা হোবেন না দিদি।’
 
নিজের অজান্তে কখন চোখের পাতা ভিজে গিয়েছে পূর্বার। গাড়িটা মোড় ঘুরে যাওয়ার সময় দেখল লোকটা তখনও হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে আছে। পুর্বার কানে বাজতে থাকে – ‘ঘরে একটু চাল কিনব। আপনি গুসসা হোবেন না দিদি।’

 

♦—♦♦—♦♦—♦♦—♦

 

 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!