Advertisement
  • গ | ল্প রোব-e-বর্ণ
  • জানুয়ারি ২১, ২০২৪

প্রলয়ের পর

হেমন্ত জানা
প্রলয়ের পর

অলঙ্করন: দেব সরকার

আমি অতীতের কথা বলতে পারি, আবার ভবিষ্যতেরও। অতীতের চেয়ে মানুষের ঝোঁক ভবিষ্যতের দিকে বেশি। তারা সকালে উঠেই প্রথমে দেখে দিনটা কেমন যাবে। জ্যোতিষের কাছে গিয়ে ভবিষ্যতের ছক কষে। তবে বেশি দূর ভবিষ্যতের কথা এরা ভাবে না। নিজের আর সন্তান–সন্ততির ভবিষ্যৎ নিয়েই এদের যত মাথা–ব্যথা। তাই বেশি দূর যাচ্ছি। আজ থেকে এক যুগ এগিয়ে যাই। মানে আজ থেকে ১২ বছর পর। একটা প্রলয়ের পর একটা সাধারণ গঞ্জের নতুন করে গড়ে ওঠার কথা বলি। মানুষগুলোর মানুষ হয়ে ওঠার কথা বলি।

গঞ্জের নাম চন্দনপুর। একটা বুড়ো বটের নিচে কয়েকজন ঊনিশ–কুড়ির ছেলে গোল হয়ে বসে। তাদের মুখ হাতে রাখা একটি যন্ত্রের দিকে আনত। দুধের শিশুর স্বপ্নে খেলা করা মতো নিজের মনেই তারা হাসছে, কখনও বিমর্ষ হচ্ছে, কখন আবার তাদের মুখ দিয়ে উদ্ভুত সব শব্দ বেরিয়ে আসছে। কিন্তু ছেলেগুলো কেউ কারও সঙ্গে কথাবার্তা বলছে না। এর ঠিক ছ’‌মাসে পর সেই ছেলেগুলোকেই দেখা যাচ্ছে চাঁদের আলোয় বসে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে। না, নিজেদের ভবিষ্যৎ নয়, সন্তান–সন্ততিদেরও ভবিষ্যৎ নয়, একটা গোষ্ঠীর মঙ্গলের কথা ভাবছে তারা। কী এমন ঘটল যে তারা আত্মভাবনা ছেড়ে গোষ্ঠী ভাবনায় রত!‌ শুনুন তাদেরই একজনের মুখ থেকে সেকথা। কথক ছেলেটির নাম কৌশিক।

ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে আমাদের পুরনো বাড়িটা। উঠোনে দাঁড়িয়ে, একে একে পড়শীদের নতুন পাকা বাড়িগুলোও হুড়মুড়িয়ে পড়ছে। চারিদিকে আর্ত চিৎকার। বাবার মতো কঠিন মনের মানুষটা ভেউ–ভেউ করে কাঁদছে

‘‌আমরা বটতলায় বসে মোবাইলে গ্রেম খেলছিলাম। কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যস্ত ছিল। তখন বেলা এগারোটা হবে। পায়ের তলার মাটি কেঁপে উঠল। ভূমিকম্প, ভূমিকম্প বলে সকলে চিৎকার করছে। যে যার বাড়ির দিকে ছুটছি। হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ছে সবকিছু। কোনও রকমে বাড়িতে এলাম। বাবা–মা, বোন তারা কোথায়!‌ ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে আমাদের পুরনো বাড়িটা। উঠোনে দাঁড়িয়ে, একে একে পড়শীদের নতুন পাকা বাড়িগুলোও হুড়মুড়িয়ে পড়ছে। চারিদিকে আর্ত চিৎকার। বাবার মতো কঠিন মনের মানুষটা ভেউ–ভেউ করে কাঁদছে। মাকে ধরে রেখেছে বোন। কূলদেবতা গোপালটাকে বেরে আনার জন্য বারবার ধ্বংসস্তূপের দিকে ছুটে যাচ্ছিল মা। এতদিনের সাজানো গোছানো একটা সভ্যতা কয়েক সেকেন্ডেই শেষ হয়ে গেল!‌ তার পর থেকে চারিদিকে শুধু কান্না আর কান্না!’‌

ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তার মধ্যেই জীবিত মানুষগুলো মাথা গুঁজেছে। প্রিয়জন হারানোর শোক ভুলে মাথা তুলে কোনও রকমে দাঁড়াচ্ছে। কেউ ভেঙে পড়া গাছপালা দিয়ে কুঠির বাঁনিয়েছে। পেটের খিদে মানুষগুলোর সেই দম্ভ–অহঙ্কার কেড়ে নিয়েছে। শুধু নিজে বাঁচার জন্য নয়, যারা বেচে আছে তাদের জন্য ফের আবাদ করতে নেমেছে বিলাসী মানুষগুলো। তারা কোথায় ছিল আর কোথায় এসে পড়ল!‌ চন্দনপুর দ্রুত শহর হয়ে উঠছিল। আবাদ ছেড়ে কলকারখানায় কাজে যাচ্ছিল এই গঞ্জের বাসিন্দারা। আর লেখা পড়া জানারা চাকরির সন্ধানে হচ্ছিল শহরমুখী। চাষযোগ্য জমিগুলো দ্রুত চরিত্র বদল করে বাসযোগ্য হচ্ছিল। মেঠো বাড়ির গন্ধ ছিল না। বাড়িগুলো প্রতিযোগিতায় মেতেছিল মাথাউঁচু করার। এক তলাবাড়ির গৃহস্বামীর যেন সামাজে মান থাকে না!‌ বাড়ির ছাদে ছাদে জলের আধার। ঘর ঘর মোটরযান। ছেলেমেয়েরা ছুটত শহরের স্কুল কলেজে। তাদের হাতে হাতে সেই যন্ত্রটি। তা নিয়েই রাতদিন মেতেছিল তারা। অষ্টপ্রহর চলত বার্তা চালাচালি। হেসেখেলে সময় যেত। তারা এখন হতাশায় ডুবে। এখনও হারিয়ে যাওয়া সময়টার ঘোর কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা। এদের সেই উচ্ছ্বল মনটাও যেন ভূমিকম্পের সঙ্গে ধুলোয় মিশে গেছে।

চন্দনপুর থেকে দুটো গঞ্জ ছাড়িয়ে কৌশিক বলে ছেলেটির প্রেমিকা মিত্রার বাড়ি। আজ ছ’‌মাস তাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। কৌশিক জানে না মিত্রা আদোও বেঁচে আছে কিনা। যার সঙ্গে প্রতিদিন প্রতি মুহূর্ত অন্তজালে ছেলেটি জড়িয়ে ছিল, সে আজ কোথায় সেখবর রাখে না। আসলে খবর নেওয়ার উপায়ও নেই। নেবে কীভাবে,  চেনা রাস্তা গুলো আর নেই। সেই গাছপালা, ঘরবাড়ি নেই। এখনও বাতাসে মানুষ, পশু–পাখির মৃতদেহের কটূ গন্ধ। সেই সভ্যতাটার কোনও নিশানা নেই। গাছের ডাল–পালা দিয়ে বানানো ছোট চালাটায় গাদাগাদি হয়ে শুয়ে আর রাতে প্রেমিকার জন্য মন জাগে না। ওদের ফেলে আসা সমাজটায় প্রেম নামে যেটা চালু ছিল সেটা আসলে একে অপরের সঙ্গে শুধু ভাল সময় কাটানোর। হাতে সেই যন্ত্রটি না থাকায় ছেলেমেয়েগুলো প্রেম প্রেম খেলাটাও ভুলে গেল!‌ যন্ত্রটির বিহনে অনেকেই মানসিক রোগী হয়ে গেছে। বাস্তবের বন্ধুবান্ধত তো এদের ছিল না, সবই ওই যন্ত্রটিতে, সেটা থেকেও নেই। কারণ তাকে চালাতে গেলে বিদ্যুৎ লাগে, তাতে নির্দেশ আদান–প্রদানের জন্য উঁচু মিনার লাগে। তার আর কোনও চিহ্ন নেই। তাই যন্ত্রটি থেকেও নেই। পাঁচজনে মিলে গল্প–গুজব করার অভ্যস ছিল না। তখন পাঁচজন একসঙ্গে জড়ো হলেও কারও সঙ্গে কারও কথা হত না। তারা হাতের তালুতে বন্দি যন্ত্রটি নিয়েই মেতে থাকত। ওই ছেলেগুলোর মধ্যে সন্দীপন নামের একজন পাগল হয়ে গেছে যন্ত্রটি বিহনে। কয়েকদিন গুম মেরে ছিল, কারও সঙ্গে কথা বলত না। পাড়ায় তার বন্ধু–বান্ধব ছিল না। অথচ শোনা যায় যন্ত্রটির ভেতর তার দশ হাজার বন্ধু ছিল। কয়েক হাজার তাকে অনুসরণ করত। প্রকৃতির ধ্বংস লীলার পর সে নিঃসঙ্গ হয়ে গেল। তার পর পাগল।

এখন চন্দনপুরে যতজন বেঁচে আছে তারা সবাই একটা জায়গায় জোট বেঁধেছে। ইতিহাসের সেই গোষ্ঠী কৌমর কথা মনে আছে ?‌ অনেকটা সেরকমই। একটাই সংসার। এক জায়গায় সকলের রান্না। এক জায়গায় খাওয়া। একজনের খাওয়ার পর পাত্রটি ধুয়ে আরেকজনের তাতে খাওয়া। এনিয়ে কারও মনে কোনও খেদ নেই। এসময়ে ‌অন্ন এরা পাচ্ছে কোথা থেকে!‌ এখনও নতুন শষ্য তো জন্মায়নি!‌ তাহলে শুনুন, সকালে ওই ঊনিশ–কুড়ির ছেলেগুলি ধ্বংসের মধ্যে গৃহস্থের চাপা পড়া ভাড়ার খুঁজে বেড়ায়। হাড়গোড়ের সঙ্গে মেলে চালের বস্তা, ডাল, ঝাল–মশলার কৌট। সেগুলো বেছে পরিষ্কার করে চালে ডালে রান্না হয়। এখন যা খায় আগে হলে ও জিনিস গলা দিয়ে নামত না। কতজন চাপা পড়ে বেঁচে গিয়েও না খেয়ে মারা যাচ্ছে। একবারই খাওয়া–দাওয়া। সন্ধে হলেই চরাচর অন্ধকার। আকাশের চাঁদই ভরসা। এখন শুক্লাপক্ষের জন্য মুখ চেয়ে থাকে এখানকার মানুষেরা।

জীবতদের দলে কম বয়সীই বেশি। এরা চাপা পড়েও বেরিয়ে আসতে পেরেছি। বয়স্ক–শিশু–মায়েরাই সবচেয়ে বেশি মারা পড়েছে। রাজ, বিট্টু, পাপাই, তাতাই, রোহিত কৌশিকরা কষ্ট কী জিনিস জানত না। বাবাদের অগাদ অর্থ ছিল। দু–হাতে উড়িয়ে বেড়িয়েছে। বিলাস–বৈভবে সময় কাটিয়েছে। এই এরাই এখন ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিজের এলাকাটা পরিষ্কার করছে। এদের মধ্যে বিট্টু খুব বুদ্ধিমান ছেলে। ও হারিছে বাবাকে। মায়ের পা ভেঙেছে। সুঠাম–সৌম্য দর্শন রাজের পাড়াতেই ছিল প্রেমিকা রিমা। রিমাদের পরিবারে আর কেউ বেঁচে নেই। রোহিত ছিল খুব অন্তমুখী। মা–বাবা দুজনকে নিয়েছে ভয়ায় ভূমিকম্প। বোনটা বেঁচেছে। আদরের তাতাই তার বাবা–মাকে হারিয়েছে। রোহিতের বাবা বেঁচেছে, দু–দিন পরে দেওয়াল সরিয়ে মা–বোনকে মৃত অবস্থা পাওয়া গেছে। শুধু ভাগ্যবান কৌশিক। সে কিছুই হারায়নি। তবে তার সেই সমাজের বিদ্যে নিয়ে বড় অহঙ্কার ছিল। প্রযুক্তি নিয়ে বড়াই করত। আজ সে নিজেকে খুব ক্ষুদ্র মনে করে।

আস্তে আস্তে একটা গঞ্জের সঙ্গে আরেক গ্রাম জুড়ে যায়। আজ আর গ্রাম–গঞ্জের মধ্যে কোনও তফাৎ নেই। প্রাণের সাড়া পেলে আরেক প্রাণ তার কাছে দৌড়ে যায়। জড়িয়ে ধরে। বাঁচার জন্য আকুতি ঝড়ে পড়ে গলায়। সকলেই আসলে বাঁচতে চায়

আগে কৌশিকের সঙ্গে বিট্টুর কথাবার্তা ছিল না। সে ত্রিকোণ ঝামেলা। এই প্রলয়ের পর মিল হয়েছে। একে ওপরকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছেটা ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন এরা যা পায় ভাগ করে খায়। তষ্করের মতো লুকিয়ে নিয়ে আত্মসাতের ইচ্ছেটা আর নেই !‌ তখন কৌশিকের ওই যন্ত্রটিতে মিত্রা ধরা পড়েনি। পাড়ার সেমন্তীর সঙ্গে প্রেম চলছিল। বিট্টুও সেমন্তীকে ভালবাসত। কৌশলে কৌশিককে পিছনে ফেলে বিট্টু এগিয়ে গেল। পালিয়ে গিয়ে সেমন্তীকে বিয়েও করল। সেই ইস্তক দুজনের কথাবার্তা ছিল না। এখন আর বিট্টুর ওপর রাগ নেই কৌশিকের। এই তো সেদিন আহত সেমন্তীকে দেখে এল কৌশিক। বিট্টু এখন প্রতি সকালে কৌশিকের কাছে আসে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এরা আবার রাস্তাঘাট বানাচ্ছে। একটা গঞ্জের সঙ্গে আরেকটাকে আবার জুড়তে চায়। কৌশিক এখনও হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। বিট্টু ডাকতে এলে বলে, ‘‌আর কী উঠে দাঁড়াতে পারব বিট্টু!‌’‌ বিট্টু তার কাঁদে হাত রেখে বলে, ‘‌মানুষের দ্বারা সব সম্ভব রে। ‌এই মানুষই তো একদিন গুহাবাসী থেকে এই নগর গড়েছিল। আমরা তো তাদের চেয়ে বুদ্ধিমান। আমরা পারব না কেন!‌ হাল ছাড়ব না। আমাদের পারতেই হবে।’‌ বিট্টুর সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে কৌশিক। রাজের হাতে কোদাল!‌ রোহিত নিয়েছে বেলচা। পাপাই কাঠারি। এগুলো কোনওদিন ওদের হাতে আগে উঠেনি। ধ্বংসের পাহাড় সরিয়ে ওরা কাজ করে। ‌

আস্তে আস্তে একটা গঞ্জের সঙ্গে আরেক গ্রাম জুড়ে যায়। আজ আর গ্রাম–গঞ্জের মধ্যে কোনও তফাৎ নেই। প্রাণের সাড়া পেলে আরেক প্রাণ তার কাছে দৌড়ে যায়। জড়িয়ে ধরে। বাঁচার জন্য আকুতি ঝড়ে পড়ে গলায়। সকলেই আসলে বাঁচতে চায়। এভাবে গ্রামের সঙ্গে গঞ্জ জুড়তে জুড়তে একদিন কৌশিক বলে ছেলেটা তার প্রেমিকা মিত্রার কাছে পৌঁছে যায়। মিত্রা তার বাবা–মাকে হারিয়েছে। ঠাকুমাকে নিয়ে একটা চালা বানিয়ে আছে। তারাও একটা গোষ্ঠী গড়েছে। সেখানেও একসঙ্গে খাওয়া–দাওয়া চলছে। ‌প্রথম যেদিন দেখা হল দু–জনেই একটু অবাক হয়েছিল। কেউ কাউকে জীবিত দেখব তো আশা করেনি। কিন্তু পরক্ষণেই মিত্রা তার ঠাকুমার জন্য খাবার আনতে চলে গেল। কৌশিকও তার কাজে লেগে গেল। এমনটা আমরা আশা করিনি। একটা প্রলয় এসে এভাবে বদল দিল ছেলেমেয়েগুলোকে!‌

প্রলয়ের পরে যে সমাজ বা সভ্যতা নির্মাণ হচ্ছে সেখানে আমার আমার বলে কারও চিৎকার শোনা যাচ্ছে না। এখানে এক জায়াগায় ফসল ফলানো হচ্ছে। সেখানে সকলেই মজুর খাটে। সব ফসল একটা জায়গায় জোড়ো হয়। একজায়গায় এক সঙ্গে রান্না–খাওয়া। মা–বোনেরা রান্নাবান্না করে। সকলেই শোকে কাতর। তবুও তারই মধ্যে মৃদু আন্দন লহরি বইতে থাকে। মিলেমিশে থাকা–খাওয়ার সুখ কী কেউ জানত না। সেই সুখে সকলে সকলের জন্য কাঁদে। সান্ত্বনা দেয় একে অপরকে। শরীর খারাপ হলে সকলে ঝাপিয়ে পড়ে। আর কেউ কাউকে হারাতে চায় না। যারা বেঁচে আছে তাদের বাঁচাতে, খেতে ফসল ফসলাতে দরকার গোষ্ঠীতে আরও সদস্য। পুরুষ আছে প্রকৃতির বড় অভাব গোষ্ঠীগুলোতে। প্রলয়টা গেছে প্রকৃতির ওপর দিয়েই।

এটা শুক্লাপক্ষের অষ্টমী। আকাশে চাঁদ উঠেছে। এখন চাঁদ এদের কাছে খুব আদরের। আকাশে চাঁদ না থাকলে ঘোর অন্ধকার। সেই চাঁদের আলোয় ঊনিশ–কুড়ির সেই ছেলেগুলো গোল হয়ে বসে গল্প করছে। অনেকদিন পর তারা পরস্পর খুনসুটিতে মেতেছে। শোকে রুক্ষ্ম হয়ে যাওয়া মনভূমিতে মৃদু বাতাস বইছে। কারণ খেতে ফসল ওঠার সময় হয়েছে। আর তাদের সকালে উঠে ধ্বংসস্তূপ ঘেটে খাবার খুঁজতে হবে না। খেতে ভাল ফসল হয়েছে। হেসেখেলে কয়েক মাস চলে যাবে সকলের। বিট্টু বাবা হতে চলেছে। কৌশিকেই প্রথম খবর জানিয়েছে বিট্টু। সকলের খু্ব আনন্দ। নতুন সভ্যতায় নতুন অতিথি আসছে। সভ্যতাকে ভরাতে আরও মানুষ দরকার। একদিন প্রকৃতির ওপর নির্যাতন চালানো মানুষগুলোর এখন প্রকৃতিকে দরকার। মিত্রাকে এবার খুব মনে পড়ছে কৌশিকের। মিত্রার প্রয়োজনীয়তা এমনভাবে কোনওদিন ভাবেনি কৌশিক। মিত্রাকে একটা মেয়ে, পুরুষ–ভোগ্য বলে ভেবে এসেছিল এতদিন। এখন মিত্রা তার কাছে আর মেয়ে নয় প্রকৃতি স্বরূপ।
গোল হয়ে বসে থাকা সেই ঊনিশ–কুড়ির মুখগুলো আজ আনত প্রকৃতির দিকে।

পুনশ্চ:‌ আমি কাল বা সময়। আমার ধর্ম শুধু অনন্ত থেকে অনন্তে বয়ে যাওয়া। জীবকে কিছু পরামর্শ দেওয়ার আমার হোক নেই। তবে এমনটা সভ্যতার স্বপ্ন আমি দেখি। যেখানে মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াবে। মানুষের ওপর মানুষের হিংসা দ্বেষ থাকবে না। একটা প্রাণ আরেকটা প্রাণের জন্য কাঁদবে। প্রলয় পেরিয়ে সেই সভ্যতার কথা বললাম, যা আমার একান্ত স্বপ্নে দেখা।

♦–♦–♦–♦

 


  • Tags:

Read by:

❤ Support Us
Advertisement
Hedayetullah Golam Rasul Raktim Islam Block Advt
Advertisement
homepage block Mainul Hassan and Laxman Seth
Advertisement
শিবভোলার দেশ শিবখোলা স | ফ | র | না | মা

শিবভোলার দেশ শিবখোলা

শিবখোলা পৌঁছলে শিলিগুড়ির অত কাছের কোন জায়গা বলে মনে হয় না।যেন অন্তবিহীন দূরত্ব পেরিয়ে একান্ত রেহাই পাবার পরিসর মিলে গেছে।

সৌরেনি আর তার সৌন্দর্যের সই টিংলিং চূড়া স | ফ | র | না | মা

সৌরেনি আর তার সৌন্দর্যের সই টিংলিং চূড়া

সৌরেনির উঁচু শিখর থেকে এক দিকে কার্শিয়াং আর উত্তরবঙ্গের সমতল দেখা যায়। অন্য প্রান্তে মাথা তুলে থাকে নেপালের শৈলমালা, বিশেষ করে অন্তুদারার পরিচিত চূড়া দেখা যায়।

মিরিক,পাইনের লিরিকাল সুমেন্দু সফরনামা
error: Content is protected !!