Advertisement
  • ধা | রা | বা | হি | ক রোব-e-বর্ণ
  • ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৪

ধারাবাহিক আত্মকথা: আমাদের বিদ্যানিকেতন

যখন শরৎ বিদায় নেয়, যখন হেমন্ত আসে, তারাই আমার নিঃসঙ্গতম অনুভূতিতে বসন্ত ফুটিয়ে তোলেন, আমার আঙুলির ডগায় নীল হয়ে যেতে চান তাঁরা, লাল ফুল নিয়ে বুকে ঝুলতে থাকে তাঁদের সবুজ চাষের স্বপ্ন...তারপর

জাকির হোছেন্
ধারাবাহিক আত্মকথা: আমাদের বিদ্যানিকেতন

আমিত্বহীনতার বৃত্তান্ত

এনইএফ-এর স্থপতি ডঃ জাকির হোছেইন আর গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজের অধ্যাপিকা ডাঃ ফিরদৌসি বেগমের প্রথম সন্তান ডাঃ ইজাজ হোছেইন ও চুমাইয়া ইসরাজ হোছেইন-এর বিয়ে হয়েছে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪। আজ রোববার, সামাজিকভাবে তাঁদের অভ্যর্থনা জানাবেন প্রায় ৪০০০ অতিথি। গুয়াহাটির ইম্পেরিয়াল ইস্টেটে। আনন্দমুখর আয়োজন। উপস্থিত থাকবেন সব স্তরের মানুষ। এ উপলক্ষে নিজের অতীত আর বর্তমানকে, তার শিক্ষাঙ্গনের বহুমুখী কর্মকে খতিয়ে দেখলেন জাকির। এখানেও তিনি আমিত্বহীন, আত্মতাহীন। বুঝিয়ে দিতে চাইলেন, বিবাহের মতো ব্যক্তিগত বন্ধনও কখনো কখনো ছাড়িয়ে যায় ব্যক্তিকে, হয়ে ওঠে সামাজিক দায়বদ্ধতার অবিভাজ্য দৃষ্টান্ত। এই উৎসব মুখর আবহে জাকির কেবল পিতা নন, কিংবা সুপরিচিত শিক্ষানিকেতনের সব সময়ের প্রাণপুরুষ নন শুধু, নির্বিশেষের নিকটাত্মীয় আর সামাজিক নির্মাণের একজন দায়বদ্ধ, আত্মতাহীন অভিভাবক।

সম্পাদক | ১৮.২.২০২৪

• পর্ব-২৩ •

যে কোনো উত্তরণ পরবর্তী উত্তরণকে প্রমাণিত করে। ব্যক্তিগত স্তরে কিংবা সামাজিক পরিসরে তার চেহারা প্রায় অভিন্ন। এ প্রসঙ্গে, আমাদের আইন মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন আর ক্রমাগত সাফল্যকে ছুঁয়ে পর পর যে-ভাবে একাধিক স্বাস্থ্যময় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠল, তার বিবরণ পেশ করা দরকার। একথা ভাবতে গিয়েও নির্মল আনন্দ অনুভব করছি, বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাইছি, চরৈবেতি। থেমো না, এগিয়ে চলো, উর্ধ্বে আকাশ, সম্মুখে সীমান্তহীন অনুপ্রাস আর অপরিহার্য অন্তরা। এটাই আমাদের নির্মাণের, আত্মবিশ্বাসের অন্যতম ভিত্। ভবিষ্যতেও আশা করি, তা সোজা মেরুদন্ডের মতো খাড়া থাকবে। এই যে বরপেটায়, বিস্তৃত ক্যাম্পাসে আর্য়ুবেদিক কলেজ ও হাসপাতাল গড়ার কাজ শুরু হয়েছে, জমিজমার খুচরো সমস্যা অতিক্রম করে চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে ব্রহ্মপুত্রের দুই পাড়ের বিস্তীর্ণ জনপদকে যুক্ত করতে চাইছি, তা এগিয়ে চলা এবং তারুণ্যময়তার অভিজ্ঞান নয় কি? মধুমেহরোগ, দেহে রক্তচাপ বহন করছি, আমাকে দেখে তা বোঝার উপায় নেই। দিনভর এক ক্যাম্পাস থেকে আরেক ক্যাম্পাসে ছুটতে হয়। দশটার মধ্যে খ্রিস্টান বস্তির আইন মহাবিদ্যালয়ে পৌঁছে যাই, ওখান থেকে অন্যান্য শিক্ষাকেন্দ্রে, প্রতিটি কাজ নিজে খতিয়ে দেখি, দায়িত্ব ভাগ করে দিই, সময় মতো মধ্যাহ্ন ভোজন; হ্যাঁ অনিয়ম আছে, ধুমপান একটু বেশি হয়ে যায়, একসময় থামিয়ে দেব।

প্রসঙ্গত বলতে ভালো লাগছে, পরিবার আর সামাজিকতাকে যথাসম্ভব সময় দিই। ছুটির দিনে, কমপিউটারের সামনে বসি না, ছেলেমেয়ে আর স্ত্রীর সঙ্গে আড্ডা দিই, আলোচনা করি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রাজ্যের নানা জায়গায় যেতে হয়, সামাজিক কাজকর্মের সামনে নয়, নিঃশব্দে পেছনে দাঁড়াতে হয়। এই অভ্যাস রক্তবাহিত। বাবাকে দেখেছি গ্রামের, সংলগ্ন অন্যান্য অঞ্চলের দুঃস্থ পরিবারগুলির খবর নিচ্ছেন, তাঁধের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করছে কি না, জানার চেষ্টা করছেন, প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াচ্ছেন, আদর্শ শিক্ষক ছিলেন, নিয়মিত পঠন-পাঠনের সঙ্গে যুক্ত। কোকরাঝাড়ের গ্রামাঞ্চলে তাঁর শিক্ষাদানের স্মৃতি অম্লান। ওই শিক্ষকের ছেলে আমি, বিদ্যাদাতার সাংগঠনিক দায়িত্ব এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়, আমার পক্ষে। শিক্ষার নির্মাণ আর নবায়ণের রাস্তা আমার ভাগ্যচিহ্ন। যা নিজেই বেছে নিয়েছি। ব্যক্তিগত ধর্মবোধও আমাকে পরিসর দিয়েছে, সুযোগ তৈরির রসদ যুগিয়েছে পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষার নির্দেশ।

ইসলামকে ইউরোপ যে-ভাবে দেখেছে, যে প্রকট আর উগ্র ধারণা তৈরি করেছে প্রাচ্যের কোনো কোনো দেশ, তা ইতিহাস সম্মত নয়, যুক্তিগ্রাহ্য নয়। বাণিজ্যিক পরিবেশে, কৃষিস্নাত মদিনায় তার উত্থান। তার বহির্বিস্তারে কৃষক ও বণিক শ্রেণীর অবদান অসামান্য হলেও তাকে ঘিরে বিকশিত আরব-সভ্যতার মূল কাঠামো বাণিজ্য নির্ভর। বণিকরা কখনো আক্রমণাত্মক হয় না, তাদের সঙ্গ দেয় মধ্যমপন্থা আর শান্তিপূর্ণ অবস্থান। যেখানে যায়, মানিয়ে চলে, গ্রহণযোগ্য আর সহনশীল তাদের চিন্তা। ইসলাম তরবারি হাতে কোথাও প্রবেশ করেনি, পূর্ব আর পশ্চিমে কোথাও নয়

ইসলামের শিক্ষাকেন্দ্রিক ঐতিহ্য খুবই সমৃদ্ধ। পয়গাম্বরের প্রত্যাদেশ প্রাপ্তির আরম্ভয় উচ্চারিত হয়েছিল, পড়ো, পড়ো, ইকরাং ইকরা। নবিকে বলেছিলেন, ঈশ্বরের দূত, সমস্ত সৃষ্টির আদিতে আমি কলম তৈরি করেছি। নবি এই নির্দেশকে মান্যতা দিয়েছে তাঁর বাণী আর কর্মে, অনুভব করেছেন মর্মে আর মর্মে। ইসলামকে ইউরোপ যে-ভাবে দেখেছে, ইউরোপের প্রভাবে যে প্রকট আর উগ্র ধারণা তৈরি করেছে প্রাচ্যের কোনো কোনো দেশ, তা ইতিহাস সম্মত নয়, যুক্তিগ্রাহ্য নয়। বাণিজ্যিক পরিবেশে, কৃষিস্নাত মদিনায় তার উত্থান। তার বহির্বিস্তারে কৃষক ও বণিক শ্রেণীর অবদান অসামান্য হলেও তাকে ঘিরে বিকশিত আরব-সভ্যতার মূল কাঠামো বাণিজ্য নির্ভর। বণিকরা কখনো আক্রমণাত্মক হয় না, তাদের সঙ্গ দেয় মধ্যমপন্থা আর শান্তিপূর্ণ অবস্থান। যেখানে যায়, মানিয়ে চলে, গ্রহণযোগ্য আর সহনশীল তাদের চিন্তা। ইসলাম তরবারি হাতে কোথাও প্রবেশ করেনি, পূর্ব আর পশ্চিমে কোথাও নয়। সবই প্রথমে সড়ক পথে কিংবা সমুদ্র পথে ঢুকেছেন তার অনুগামী ব্যবসায়ীরা। তৈরি করেছেন অনুকূল পরিবেশ, তাঁদের সঙ্গে এসেছেন সুফিরা, প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে ঝলসে উঠেছে অস্ত্র, অস্ত্রের ঝনঝনানিকে আমল দেয় সহযোগী সুফি আর বিদ্ধজ্জনেরা। ইসলাম ন্যায়-নিষ্ঠ, নৈতিকতাময় বিশ্বধর্ম। নৈতিক শিক্ষাদানে এগিয়ে থাকতেন তার সুফিমন্ডলী। সম্ভবত, এ কারণেই যে কোনো ফ্রন্টিয়ার রিজিয়নে সুফিদের প্রভাব চিরউজ্জ্বল। এই যেমন, অসম, বাংলা, দিল্লি, কাশ্মীর, পাকিস্তানের উত্তর পশ্চিম সীমান্ত, ইরান ও মধ্য এশিয়ার প্রতিটি দেশে। ইরান, আর উজবেকিস্তান সুফিদের গর্ভগৃহ অবশ্যই। কিন্তু তার লালনভূমি অবশ্যই কাশ্মীর থেকে বাংলা হয়ে অসম। অসমে সুফিদের সাধানার চাষবাস বেড়েছে পুরাতন পূর্ব ও পশ্চিম বাংলা থেকে আগত কৃষকদের হাত ধরে। ব্রহ্মপুত্রের দুই তীরের চরঅঞ্চলে, জঙ্গল ঘেরা এলাকায় তারা বসতবাড়ি গড়েছেন, ধর্মবোধ আর প্রকৃতি তাদের নৈতিক শিক্ষা দিয়েছে, সে-শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জমিকে চাষযোগ্য করে তুলেছেন। সুযোগ, আর প্রবল বন্যাকে তোয়াক্কা করেননি, সহনশীল পরিবেশ তৈরি করেছেন, তাঁদের হাতেই বর্ষায়, শরতে, হেমন্তের চাষবাসে যে-ভাবে কৃষিহীন এলাকা সুজলা-সুফলার আকার ধারণ করেছে, তার দৃষ্টান্ত বিরল, বিরলতর। আরেকটি বিষয়, এসব কৃষক পূর্ব পুরুষের স্মৃতি আঁকড়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকেননি। নতুন স্মৃতিশালা নির্মাণ করেছেন, স্থানীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়েছেন; সামাজিক নৃতত্ত্বের ইতিহাসে এরকম গ্রহণশীল আর সহনশীল জাতির অস্তিত্বের খোঁজ সচরাচর মেলে না। ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিবাহ কিংবা পরভাষী আবহে কেউ কেউ স্বভাষা ত্যাগ করে থাকতে পারেন, নিজেকে স্থানীয় ভাষিক গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ভাবতেও অসুবিধা হয় না, কিন্তু সঙ্ঘবদ্ধভাবে কোনো জনগোষ্ঠী নিজের পঠন-পাঠন ও যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে স্থানীয় ভাষাকে মাতৃভাষা বলে আদম সুমারিতে চিহ্নিত করেছে, এরকম অদ্বৈত উদাহরণ অসমের চরাঞ্চলের কৃষক ছাড়া কোথাও নেই। দুর্ভাগ্য, কতিপয় ভাগ্যবানের নৃশংস রাজনীতি তাঁদের কেবল ভোট ব্যঙ্ক ভেবেছে, মানুষ ভাবেনি, মাতৃভাষীর সংখ্যাবৃদ্ধিতে তাঁদের সাহায্য নিয়েছে, কিন্তু স্বভাষী ভাবতে পারেনি। আমি এই ভাগ্যহতদের অন্যতম সন্তান। মৃত্যু, ধ্বংস আৎ আক্রমণাত্মক রণভঙ্গি দেখতে দেখতে বড়ো হয়েছি, জেদ বেড়েছে, জেদের ভেতরেও বাইরে তৈরি হয়েছে আমার সামাজিক ব্যবসার ( সোসাল বিদনেস) পরিকল্পিত সঙ্কল্প। বুঝতে শিখেছি, উপযোগী আর ব্যবহারিক শিক্ষা ছাড়া প্রান্তিক আর দুঃস্থ পরিবারগুলি বাঁচবে না।

দূরশিক্ষার কর্মসূচি থেকে এনইএফ কলেজ – আয়ুর্বেদিক কলেজ আর মাল্টিস্পেশাল হাসপাতাল পর্যন্ত প্রতিটি প্রকল্পে আমরা যেমন গুরুত্ব দিয়েছি সামাজিক বিন্যাসকে, তেমনি মানুষের স্বপ্ন দেখা, স্বপ্নের প্রয়োগকে প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে, ব্যক্তিগত পরিসরেও শিল্পিত ছবির মতো উৎসবমুখর আনন্দের মতো সাজিয়ে তুলতে সঙ্কলবদ্ধ

অস্ত নয়, বিভাজন নয়, নৈতিক মূল্যবোধের ব্যবহার তার দৃশ্য অদশ্য শক্তি। আমারও ভরসা তা। এ ছাড়া আমি পুরোপুরি অসম্পূর্ণ। অসংগঠিত [আন অরগানাইজ]। সংগঠনহীন ব্যবস্থা বা সমাজ টেকে না। আমরা সবাই টিকে থাকতে চাই। টিকে থাকার উপায় কী? নিরন্তর স্বপ্ন দেখা স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করে তোলবার অপ্রতিরোধ্য চেষ্টা। দূরশিক্ষার কর্মসূচি থেকে এনইএফ কলেজ – আয়ুর্বেদিক কলেজ আর মাল্টিস্পেশাল হাসপাতাল পর্যন্ত প্রতিটি প্রকল্পে আমরা যেমন গুরুত্ব দিয়েছি সামাজিক বিন্যাসকে, তেমনি মানুষের স্বপ্ন দেখা, স্বপ্নের প্রয়োগকে প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে, ব্যক্তিগত পরিসরেও শিল্পিত ছবির মতো উৎসবমুখর আনন্দের মতো সাজিয়ে তুলতে সঙ্কলবদ্ধ। অপ্রাসঙ্গিক নয়, আবার প্রদর্শনকামিতার বিষয়ও নয়, যা ঘটেছে, যা ঘটবে, ভবিষ্যতেও সমুচ্চারিত হবে, হতে থাকবে, তার একটি পারিবারিক নমুনা এখানে বলা প্রয়োজন। আজ, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪-এ আমার ছেলে ডাঃ ইজাজ হোছেইন আর পুত্রবধু সোমাইয়া ইছরাজ সুলতানরা বউভাতের অনুষ্টান। যার পোশাকি নাম অভ্যর্থনা। পারিবারিক পর্যায়ে এই আনুষ্ঠানিকতা সীমাবদ্ধ রাখা যেত। আমরা তা করিনি। আশা করি, মনোহর এই ঘটনার সাক্ষী থাকবেন সমাজের সবস্তরের প্রায় চারহাজার অতিথি। গুয়াহাটির ইম্পরিয়েল ইস্টেটে। বিশেষ আড়ম্বরের আয়োজন নেই, গণসমাবেশের ব্যবস্থা করে। জানিয়ে দেবার চেষ্টা করছি, আমাদের সকল কর্মে, কর্মের বন্ধন আর মর্মে স্বপ্নের তরঙ্গ বেজে উঠুক। বিসমিল্লাহ খানের করুন সানাই আর নীতিনিষ্ঠ আনন্দ এক হয়ে জয়গান করুক তারুণ্যের, কাঙ্খিত মাধুর্যের, এবং দুই তরুণ – তরুণীর অনুচ্চারিত, অবশ্যম্ভাবী প্রাত্যহিঙ্কতার। যে- কোনো বিবাহে, বিবাহকেন্দ্রিক নির্মাণে- ভবিষ্যত উঁকি দেয়, খোলা দরজা দিয়ে আমাদের ক্রমাগত এগিয়ে যাওয়ার মহান বার্তা শোনায়। বলে, কোথাও সীমান্ত নেই। ঘরে বাইরে আমরা সবাই অভিন্ন, অখন্ড বিশ্বমানব হবার সাধনা করছি। এই সাধনারই এক অপরিহার্য সিঁড়ির নাম বিবাহ। ধাপে ধাপে যা আমাদের উত্তরণের রাস্তা দেখায়। শেখায় দায়িত্ববোধের সামাজিক আচারণ। এক অর্থে বিবাহ নিছক প্রথাগত প্রতিষ্ঠানের সূচনা নয়, এও আরেক মহৎ শিক্ষা নিকেতনের আরম্ভ। দৃশ্যগত যার শূরু আছে, শেষ নেই। আমৃত্যু যা স্বপ্ন দেখায় ব্যক্তিকে। পরিবারকে সমাজকে। স্বপ্নের উর্বরতাকে। প্রার্থনা করি, আমার ছেলে ইজাজ আর নরপরিণিত কন্যা, চুমাইয়া (সুমাইয়া) মহামিলনের দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে যেন, তাদের জীবন-যাপনের প্রতিটি দিনে, প্রতিটি রাত ভরে উঠুক বসন্তে, ফুল ফুটক গৃহকোণে, এই পথেই তৈরি হোক গোলাপী জামুর লগ্ন ( গোলাপি জামের লগ্ন, নীলমণি ফুকনের কবিতা) যে মুহূর্ত ঝুলন্ত নয়, নৃত্যরত সবসময়। আমিন।

ইজাজ আর চুমাইয়ার বিয়ে (নিকাহ) হয়েছে ১৫ ফ্রেব্রুয়ারি। ওর বাবা ডাঃ ইসহাক আলি নওগাঁর বাসিন্দা। মা পারভিন সুলতানা। সম্পন্ন আর সম্পূর্ণ তাঁদের পরিবার। চুমাইয়া গুণবতী মেয়ে সমাজবিজ্ঞানের মেধাবি ছাত্রীর ইজাজের সহযাত্রী হওয়ার যোগ্য। আমাদেরও ভালোবাসা আর সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল প্রতিনিধি হয়ে উঠবে। আমি বিশ্বাস করি, যুক্তি আর বিবেকের সুইচ টিপে, সমাজের গভীর, গভীরতর অন্ধকারে আলো, আরো আলো আলো ফুটিয়ে তুলবে সে, কর্মে আর মর্মে ছবি আঁকবে অখন্ড, অবিভাজ্য মানুষের।

ক্রমশ…

♦—♦♦—♦♦—♦♦—♦

লেখক: উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম বেসরকারি কলেজ গোষ্ঠী এন.ই.এফ-এর চেয়ারম্যান। গুয়াহাটির বাসিন্দা

আগের পর্ব পড়ুন: পর্ব-২২


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!