Advertisement
  • Uncategorized দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • আগস্ট ১৩, ২০২২

ভেন্টিলেশনে রুশদি, বাকরুদ্ধ। চোখে লিভারে আঘাত গুরুতর। এক চোখের দৃষ্টি হারাতে পারেন!

আততায়ী নিউ জার্সির বাসিন্দা, দফায় দফায় পুলিশের জেরার সম্মুখীন। নাম হাদি মাতার।

বাহার উদ্দিন
ভেন্টিলেশনে রুশদি, বাকরুদ্ধ। চোখে লিভারে আঘাত গুরুতর। এক চোখের দৃষ্টি হারাতে পারেন!

চিত্র সংগৃহিত

আততায়ী-এর আঘাতে গুরুতর জখম সলমান রুশদিকে হাসপাতালের ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। বিশেষ চিকিৎসক দলের তত্ত্বাবধানে তিনি। রুশদির এজেন্টের সূত্রে যানা গেছে, তার লিভার ও চোখে আঘাত লেগেছে। একটি চোখে দৃষ্টি হারাতে পারেন। লিভারে অস্ত্রপ্রচার করা হতে পারে। সংকট কাটেনি। কথা বলতে পারছেন না। তাঁর উপর হামলায় উদ্বিগ্ন বিশ্বের সব দেশের বুদ্ধিজীবি ও সচেতন সমাজ।

গতকাল নিউইয়র্ক থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে শটৌকা ইন্সটিটিউশনের মঞ্চে, তাঁর পরের উপন্যাস ‘ভিক্টরি সিটি’ – নিয়ে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন তিনি। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন হেনরি রিস। তখনই রুশদির উপর ঝাঁপিয়ে পরে কালো পোষাকের আততায়ী। রুশদি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার উপর অনবরত ছোরা চালাতে থাকে ওই ব্যাক্তি। আঘাত লাগে রুশদির মুখে, চোখে, কন্ঠনালীতে। অনুষ্ঠানের সঞ্চালকও আহত হন। সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী আততায়ীকে পাকরাও করে। জানা গেছে তার নাম হাদি মাতার, নিউ জার্সির বাসিন্দা। অঘটনের পর লোকজন হল ছেড়ে বেরিয়ে যান। রুশদিকে অতি দ্রুত হ্যালিকপ্টারে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। রুশদির বিতর্কিত উপন্যাস ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ প্রকাশিত হওয়ার পর নানা দেশে আলোড়ন তৈরি হয়। কোথাও কোথাও দাঙ্গা পরিস্থিতি দেখা দেয়। ইরানের তখনের রাষ্ট্রগুরু আয়াতুল্লাহ খুমেনি তার মাথার দাম নির্দিষ্ট করে মৃতুদন্ডের নির্দেশ দেন। তখন থেকেই রুশদি আত্মগোপনে। নাম বদলে এক জায়গায় থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। গত কয়েক বছর আগে ইরান মৃতুদন্ডের নির্দেশ তুলে নেয়। তখন রুশদির কটাক্ষ করে বলেছিলেন, আমার মাথার আর গুরুত্ত নেই। তবুও তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হয়নি। প্রায় অন্তরীন অবস্থায় দিন কাটাতে হয়। এরকম পরিস্থিতিতেও তাঁর কলম বন্ধ হয়েনি। একটির পর একটি বই বের হতে থাকে। জোসেফ অ্যান্টন শীর্ষক স্মৃতিগ্রন্থে মৃতুদন্ড থেকে অন্তরীন জীবনের খুটিনাটি বৃত্তান্ত পেশ করেছেন। ইসলামে ইতিহাসের মেধাবী ছাত্র তার পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা বলেছেন। বাবা আনিস রুশদ স্বাধীন চিন্তার অনুসারী। প্রথাগত রুদ্ধ অনুশাসনে বিশ্বাস ছিল না তাঁর, ইসলামের ঐতিহ্য, মুক্ত চিন্তা তাঁকে প্রভাবিত করত। এই জন্যই আরব দার্শনিক ইবনে রুশদের নামের অনুকরণে নিজের পদবি বদলে দিয়েছিলেন আনিস রুশদ। লন্ডনে পড়তে গিয়েই রুশদ থেকে রুশদিতে রূপান্তরিত হয়ে যায় সলমান রুশদির নাম।

রুশদি তার বাবার মতই স্বাধীন চিন্তায় বিশ্বাসী। আরব দুনিয়ায় যে মুক্ত চিন্তা একসময় বুদ্ধিজীবিদের আলোড়িত করে তুলেছিল— সেটাই রুশদির ভাবনা চিন্তাকে প্রভাবিত করে। ‘স্যাটানিক ভার্সাস’ -এর কোথাও কোথাও তাঁর বাড়াবাড়ি অনেকের ক্ষোভের কারণ হয় ওঠে। ইরানি ধর্মগুরু আয়াতুল্লাহ খুমেনি রুশদির উপন্যাসে নিজেকে চিত্রিত হতে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ফতোয়া জারি করে ‘বুকার’ লেখকের মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই নির্দেশ প্রত্যাহিত হলেও নিউ জার্সির অধিবাসী আততায়ী রুশদিকে খুন করতে গিয়েছিল। সে এখন জেলে। তাঁকে পুলিশ দফায় দফায় জেরা করছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!