Advertisement
  • এই মুহূর্তে বৈষয়িক
  • সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৫

হিন্ডেনবার্গ রিপোর্ট মামলায় আদানি গোষ্ঠীকে ক্লিনচিট সেবির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
হিন্ডেনবার্গ রিপোর্ট মামলায় আদানি গোষ্ঠীকে ক্লিনচিট সেবির

১ বছরেরও বেশি সময় ধরে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ওঠা ‘কারসাজি’ অভিযোগ শেষ পর্যন্ত খারিজ করল দেশের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি। মার্কিন শর্ট-সেলার হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের দায়ের করা বিস্ফোরক রিপোর্টে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ ওঠে। আদানির বিরুদ্ধে শেয়ার কারসাজি, হিসেব জালিয়াতি, ট্যাক্স হেভেনের মাধ্যমে অর্থ ঘোরানো সহ একাধিক দাবি করে মার্কিন সংস্থাটি। সেসব অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর বৃহস্পতিবার সেবির চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ, ‘অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।’ ফলে আদানি গোষ্ঠী ও তাদের কর্ণধার গৌতম আদানি কার্যত মুক্তি পেলেন এই মামলায়।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে হিন্ডেনবার্গের রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর ভারতীয় শেয়ারবাজারে ঝড় বয়ে গিয়েছিল। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে আদানি সংস্থার শেয়ার দর তলানিতে এসে ঠেকেছিল। আদানি এন্টারপ্রাইজেসের বহু প্রতীক্ষিত ২০ হাজার কোটি টাকার ফলো-অন পাবলিক অফার (এফপিও)ও কার্যত ভেস্তে যায়। অভিযোগ ছিল, আদানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থা থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদিকর্প এন্টারপ্রাইজেস প্রাইভেট লিমিটেডে পৌঁছে, সেখান থেকে ফের তা আদানি পাওয়ারের মতো তালিকাভুক্ত সংস্থায় ঢোকানো হয়েছিল। হিন্ডেনবার্গের দাবি, ২০২০ সালে প্রায় ৬২০ কোটি টাকা অনিরাপদ ঋণ আকারে আদিকর্পে ঢোকে এবং সেখান থেকে প্রায় একই অঙ্কের টাকা আদানি পাওয়ারকে ধার দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, এসব লেনদেনের কোনো উল্লেখ আদানি গোষ্ঠীর প্রকাশিত আর্থিক বিবৃতিতে নেই।

তবে সেবির তদন্ত বলছে অন্য কথা। সংস্থার বক্তব্য, এ লেনদেনগুলোকে ‘সম্পর্কিত পক্ষের লেনদেন’ হিসেবে ধরা যায় না। অর্থাৎ, তালিকাভুক্তি চুক্তি বা লোডর বিধি ভঙ্গ হয়নি। ফলে আইনভঙ্গ বা জরিমানার প্রশ্নই ওঠে না। সেবির পূর্ণকালীন সদস্য কমলেশ চন্দ্র তাঁর রায়ে স্পষ্ট লিখেছেন, ‘অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অভিযুক্তদের উপর কোনো দায় বর্তায় না।’ এ রায়ে স্বস্তির হাওয়া আদানি শিবিরে। বৃহস্পতিবার আদানি পাওয়ারের শেয়ার বন্ধ হয়েছে ৬৩০.৮৫ টাকায়। গোষ্ঠীর তরফে আগেই অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলা হয়েছিল। তবে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে, এত গুরুতর অভিযোগের পরও যদি সব খারিজ হয়, তা হলে প্রথম থেকেই শেয়ার বাজারে যে ধস নেমেছিল, বিনিয়োগকারীদের কোটি কোটি টাকার ক্ষতির দায় নেবে কে? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সেবির এ রায়ে আদানি গোষ্ঠীর মাথা থেকে চাপ কিছুটা কমল বটে, কিন্তু আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সময় লাগবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!