Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ৪, ২০২৩

বস্তারের আদিবাসী গ্রামে আবার ড্রোন হামলা। অভিযোগ, মাওবাদীদের দমনের নামে বহুজাতিকের স্বার্থসিদ্ধিতে মদত রাষ্ট্রের। বিজেপিকে দায়ী করলেন মানবাধিকার কর্মীরা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বস্তারের আদিবাসী গ্রামে আবার ড্রোন হামলা। অভিযোগ, মাওবাদীদের দমনের নামে বহুজাতিকের স্বার্থসিদ্ধিতে মদত রাষ্ট্রের। বিজেপিকে দায়ী করলেন মানবাধিকার কর্মীরা

চিত্র সৌজন্য: স্কোল ডট ইন

সন্ত্রাস দমনের নামে, ফের নিরীহ গ্রামবাসীদের ওপর ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠল। ছত্তিশগড়ের বস্তারের গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ বহুজাতিকের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই বারবার মাওবাদ দমনের অছিলায় আদিবাসীদের ভূমিহীন করতে অত্যাচার চালাচ্ছে প্রশাসন । বস্তারের বিজাপুরের গ্রামবাসীদের অভিযোগ, আগের কয়েকবারে মতো, এবারেও গত ৭ এপ্রিল ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের মদতপুষ্ট পুলিশ । বহুজাতিকের স্বার্থরক্ষায়, আদিবাসী উচ্ছেদ পরিকল্পনার যে চক্রান্তের অভিযোগ উঠছে, সে তথ্যে বল দিচ্ছে কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন । তারা সরাসরি রাষ্ট্রীয় চক্রান্তের অভিযোগ তুলছেন।

এপ্রিলের শেষ সপ্তাহেই বস্তারে দুই পুলিশ ভ্যানে মাওবাদিরা হামলা চালায় । তার কিছুদিন আগে থেকেই অঞ্চলে রাষ্ট্র বিরোধী সন্ত্রাস দমনে তৎপর হয়ে ওঠে ছত্তিশগড়ের পুলিশ। তাদের এই মাওবাদ দমন আসলে আঞ্চলিক জনজাতিকে ভূমিচ্যুত করার জন্যই, এই অভিযোগ স্থানীয়দের । সেইজন্যই জব্বাগাট্টা, মীনাগট্টা, কাভারগাট্টা এবং ভাট্টিগুড়া গ্রামে ড্রোনের মাধ্যমে মোবা ফেলেছে পুলিশ । পাশাপাশি রাতের আকাশে কপ্টারের আওয়াজও শুনেছেন গ্রামবাসীরা । মোরকেমেট্টা পাহাড়ের গায়ে, বিমান থেকে বোমাবর্ষণ এবং গুলি চালানোর অভিযোগও তুলেছেন তারা । জব্বাগাট্টা গ্রামের কালমু নামের এক স্থানীয় জানিছেন, জঙ্গলে মহুয়া ফুল সংগ্রহের সময় তিনি গোলাগুলির আওয়াজ পান । বোমাবর্ষণ এবং ভারী বন্দুকের গুলির আওয়াজে ভয় পেয়ে পালাতে গিয়ে তিনি মাথায় ও কানে আঘাত পেয়েছেন ।

ড্রোন হামলায় আহত গ্রামবাসী

স্থানীয় আদিবাসীদের অভিযোগ, অঞ্চলে ড্রোন হামলা নতুন নয়, মাসদুয়েক আগেও রাতের অন্ধকারে পুলিশ ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালিয়েছে । এবিষয়ে কোঅর্ডিনেশন অফ ডেমোক্রেটিক রাইটস অর্গানাইজেশন-এর ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম গ্রামবাসীদের বোমাবর্ষণের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এলে বিজাপুর গ্রামের প্রবেশ পথেই পুলিশি অবরোধে তারা ফিরে যেতে বাধ্য হয় । গত মার্চে আবার তারা বিজাপুরে এসে গ্রামবাসীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখেন, বোমাবর্ষণের হামলাস্থলগুলি পরিদর্শন করেন । তাদের রিপোর্টেও উসুর ব্লকের মেট্টুগুদা, বোটেথং এবং এড়াপল্লি গ্রামে ড্রোন ও হেলিকপ্টার থেকে বোমা গুলিবর্ষণের উ্ল্লেখ আছে ।

গত কয়েক বছর ধরেই মাওবাদীদের প্রতিহত করতে আকাশ পথে ড্রোন ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পুলিশের বিরুদ্ধে বোমা হামলার অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসীরা । বছর দুয়েক আগে, ১৯ এপ্রিল বিজাপুর জেলার বোতালঙ্কা এবং পালাগুদেম অঞ্চলের অন্তবর্তী আদিবাসী গ্রামে, ড্রোনের মাধ্যমে ১২টি বোমা ফেলা হয়েছিল বলে অভিযোগ । এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে, বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন গুলি বারবার রাজ্য সরকার এবং নয়াদিল্লির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইলেই, সুরাহা দুরস্ত। বরং আরও জোড়ালো হয়ছে রাষ্ট্রীয় দমন, এমনি বক্তব্য স্থানীয়দের । সন্ত্রাস দমনে ড্রোন হামলার বিরোধিতার সপক্ষে, এই অঞ্চলে সক্রিয় মানবাধিকার সংগঠন গুলির বক্তব্য, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ সংঘাত মোকাবিলায়, কোনো জনবসতিতে বিমান হামলা নিষিদ্ধ । সেক্ষেত্রে প্রসাশন কীভাবে সেই আইন লঙ্ঘন করে হামলা চালাচ্ছে । ওই প্রসঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নীরাবতা নিয়েও সরব হয়েছেন তারা । সম্প্রতি নয়াদিল্লির এক জনসংগঠন ফ্যাকাম, সংবাদ মাধ্যমের একাংশকে জানিয়েছে, বস্তারের আদিবাসীদের সমস্যাকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় স্তরে সচেতনতা এবং গণ আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!