Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ২৪, ২০২৩

নতুন সংসদ ভবনে ঠাঁই পাবে ‘সেঙ্গোল’। ভারতীয় ঐতিহ্যের স্বীকৃতি না দক্ষিণ ভারত জয়ের নয়া গেরুয়া কৌশল, উঠছে প্রশ্ন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নতুন সংসদ ভবনে  ঠাঁই পাবে ‘সেঙ্গোল’। ভারতীয় ঐতিহ্যের স্বীকৃতি না দক্ষিণ ভারত জয়ের নয়া গেরুয়া কৌশল, উঠছে প্রশ্ন

আগামী রবিবার, ২৮ মে নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেসময় অধ্যক্ষের আসনের কাছে একটি রাজদণ্ড স্থাপন করবেন তিনি। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেছেন, সেঙ্গোলের ইতিহাস অনেকের অজানা তাই কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি,  ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার সমন্বয় সাধনের জন্য এ উদ্যোগ গৃহীত হল ।  তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন, নরেন্দ্র মোদিকে এমন উদ্ভাবনী পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য। বিরোধীদেরও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে যা কংগ্রেস, তৃণমূল সহ ১৯ বিরোধী দল ইতিমধ্যেই  খারিজ করে দিয়েছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

সেঙ্গল রাখা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বুধবার বলেছেন, পার্লামেন্টের নতুন ভবনের উদ্বোধন উপলক্ষে ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে।  সেঙ্গল-এর ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। তামিল ভাষায় একে বলা হয় ‘সেনমাই’ যার অর্থ ন্যায়পরায়ণতা। চোলদের রাজত্বকালে এক রাজার হাত থেকে যখন আর এক রাজার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরিত হত, রাজদণ্ডের অধিকারও তখন অন্যের হাতে চলে যেত। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার প্রাক্কালে ভাইসরয় ও গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউণ্ট ব্যাটেন জওহরলাল নেহেরুর সঙ্গে আলোচনায় বসেন কীভাবে এ ক্ষমতা হস্তান্তরকে প্রতীকী করে তোলা যায়।  নেহেরু পরামর্শ চান চক্রবর্তী রাজা গোপালাচারির কাছে। রাজাজি তাঁকে বলেন, তামিল সংস্কৃতির এ ঐতিহ্যবাহী অঙ্গকে স্বীকৃতি দিতে। উত্তর ভারতীয় নেহেরুর তামিল ঐতিহ্যের খুঁটিনাটি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা ছিল না। তাই  পরাধীন ভারতের মাদ্রাজের  প্রথম ‘মুখ্যমন্ত্রী’-র উদ্যোগে তৈরি হয় সেঙ্গোল। আর তাঁর প্রস্তাবমতোই, দিল্লিতে ক্ষমতা হস্তান্তরের অনুষ্ঠানের আগে  গঙ্গাজল ছিটিয়ে  তাকে ‘পবিত্র’ করে তোলা হয়। পরে, মধ্যরাত্রে স্বাধীনতার মাত্র ১৫ মিনিট আগে মাউন্টব্যাটেনের থেকে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর হাতে হস্তান্তরিত হয় ক্ষমতার রাজদণ্ড।

কর্ণাটকের  সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পর দক্ষিণ ভারত থেকে  বিজেপি ধুয়ে-মুছে সাফ। মূলত,  উত্তর-উত্তর পূর্ব, মধ্য ও পশ্চিম মিলিয়ে মোট নয়টি রাজ্যে  বিজপি বা বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ক্ষমতায়  রয়েছে। তাই দক্ষিণে পদ্ম ফোটানোর প্রচেষ্টার সম্ভাবনাকে বাতিল করা যায় না।  দক্ষিণ ভারত ব বরাবরই গোটা ভারতের থেকে ভিন্ন পথে হাঁটার নজির রেখেছে।দেশের তথা বিশ্বের প্রথম নির্বাচিত সরকার গড়ে ওঠে দক্ষিণ ভারতের এক রাজ্য   রাজ্য কেরলে। গোটা ভারতে তখন কংগ্রেসি শাসনের রমরমা।জরুরি অবস্থার সময়ে উত্তর ভারতে ইন্দিরা গান্ধির বিপর্যয় ঘটে।  তবে, দক্ষিণের আর্শীর্বাদ থেকে তিনি বঞ্চিত হননি। রাজীব গান্ধির অপরিণামদর্শী রাজনীতি তামিল ভূখণ্ডে কংগ্রেসকে জনপ্রিয়তাহীন করে তুললেও  তা চিরস্থায়ী হয়নি। নিজেদের স্বাতন্ত্র্যকে  বরাবর সযত্নে লালন -পালন করে চলা  দক্ষিণ জয়  উত্তর ভারতের যে কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে কঠিন চ্যালেঞ্জ।   আঞ্চলিক পরিচিতিকে বাদ দিয়ে  হিন্দুত্বের রাজনীতি এখানে সফল হতে পারে না। নিজেদের পরাজয় থেকে এ  শিক্ষাই  কি নিতে চাইছে গেরুয়া শিবির?  তাই কি   সুদূর তামিলনাড়ুর  এক অস্বীকৃত ঐতিহ্যকে স্বীকৃতি দিয়ে শুরু হল দক্ষিণ জয়ের উদ্দেশে আবার  পথ চলা?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!