- দে । শ
- মে ৬, ২০২৩
পাকিস্তানে শিয়া সম্প্রদায়ের শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদে শ্রীনগরে মোমবাতি মিছিল
সম্প্রতি পাকিস্তানে সাতজন শিয়া স্কুল শিক্ষককে চিহ্নিত করে হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার শ্রীনগরে গভীর রাতে মোমবাতি মিছিল হল।
শিয়া সম্প্রদায়ের দ্বারা আয়োজিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল থেকে একজন বলেছেন, ” সন্ত্রাসবাদের এই জঘন্য কর্মকাণ্ডের জন্য বিশ্বব্যাপী মুসলিম নেতাদের এগিয়ে আসা উচিত এই ধরণের ঘটনার নিন্দা করা উচিত। ওই বক্তা আরও বলেন, আমরা ইসলামের সাথে সন্ত্রাসবাদকে যুক্ত করার যে কোনও প্রচেষ্টারও নিন্দা করছি, বিশ্বের যে কোনও জায়গায় সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করছি।
বৃহস্পতিবার, সুন্নি মুসলিম সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর শাখা তেহরিক-ই-তালেবান, পাকিস্তানের একটি সরকারি স্কুলে শিয়া শিক্ষকদের এই হত্যার দায় স্বীকার করেছে। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কুররাম জেলায় এই সাত শিক্ষক নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার শ্রীনগরের আলমগারি বাজার, জাদিবাল এলাকায় বিক্ষোভকারীরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের জন্য পাকিস্তান সরকারকে দায়ী করে বলেছে, পাকিস্তান সরকারকে এই খুনের ঘটনার জন্য দায়ী করার কারণ তারা এখনও এই ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার জন্য কোনও রকম পদক্ষেপ নেয়নি।
এই প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী এক ব্যক্তি বলেন, আজ আমরা এখানে সাতজন শিয়া শিক্ষকের হত্যার প্রতিবাদ জানাতে সমবেত হয়েছি। আমরা তাদের সমর্থনে একাত্মতা প্রকাশ করছি। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান সরকার এই হামলার পিছনে রয়েছে। আমরা একত্রিত হয়েছি কারণ আমরা পাকিস্তানকে বোঝাতে চাই যে এই জাতীয় সন্ত্রাসবাদী হত্যাকাণ্ডের প্রতি আমাদের ঘৃণা আছে এবং আমরা এই ঘটনার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান নিয়ে চলছি।
শুক্রবার একটি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনা উল্লেখ করে ওই ব্যক্তি বলেন, জমিয়ত উলেমা ইসনা আশারিয়া কারগিল বা JUAIK লাদাখ পাকিস্তানে শিয়া সংখ্যালঘুদের উপর এই হামলার নিন্দা করেছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে জওয়াইক লাদাখের সভাপতি শেখ নাজির মেহেদি মোহাম্মদী বলেন,পাকিস্তানের শিয়া মুসলমানদের উপর এই জাতীয় নিপীড়ন নতুন কিছু নয়, কোয়েটা হোক বা অন্য কোথাও, শিয়াদের খুনিরা পরিচিত এবং স্বাধীনভাবেই ঘুরে বেড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি এখন এসসিও সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে রয়েছেন । আমরা ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছে দাবি জানাচ্ছি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তিনি বিষয়টি তুলে ধরে যারা এই হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে সেই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি জানান।
স্থানীয় পুলিশ জানা গেছে, অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকধারীরা এসে তরি মঙ্গলের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের স্টাফরুমে ঢুকে সাতজন শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত শিক্ষকদের গুলি করে। ঘটনার সময় স্কুলের সমস্ত শিক্ষকরাই ওই স্কুল ভবনে উপস্থিত ছিলেন এবং স্কুলে পরীক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঘটনার পর এই অঞ্চলের সব হাসপাতালেই জরুরি অবস্থা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
ঠিক একই রকম ঘটনা ঘটেছে আপার কুর্রামের পারাচিনার অঞ্চলে।এখানকার শালোজান রোডে গাড়িতে করে যাওয়ার সময় একজন স্কুল শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একদিনে মোট ৮ জন শিক্ষক হত্যার ঘটনা ঘটল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাড়ির ভেতরে যে শিক্ষক নিহত হয়েছেন সেই মোহাম্মদ শরীফ পাকিস্তানের ওই একই স্কুলের শিক্ষক ছিলেন।
এর আগে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় বিশিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী সাজ্জাদ কারগিলি বলেন, তাকফিরি সন্ত্রাস একটি বিশ্বব্যাপী হুমকি । বিশ্বজুড়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সন্ত্রাসবাদী সত্তার আদর্শকে নির্মূল করতে হবে। তাকফিরি হচ্ছে সেই ধর্মবিশ্বাস যা ধর্মীয় মৌলবাদী ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপকে সমর্থন করে ও প্ররোচিত করে। তাকফিরি আদর্শ হচ্ছে হচ্ছে এমনই ধর্ম বিশ্বাস যা একজনকে বিধর্মী বলে দেগে দেওয়াকে প্রশ্রয় দেয় এমনকি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রীতিতেও এরা অভ্যস্ত। তিনি বলেন, “পারাচিনারের ঘটনা একটি উদাহরণ, আমরা অতীতেও ডিআই খান, হাঙ্গু, কোয়েটা ও চিলাসে এই রকম ঘটনা ঘটতে দেখেছি। চিলাসের অপরাধীরা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি, ইতিহাসের পাতা থেকে সন্ত্রাসকে মুছে ফেলতেই হবে।
প্রশাসনের বক্তব্য, শান্তি আলোচনার পরবর্তীতে কয়েকশ জঙ্গি এবং তাদের নেতাদের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তারাই আবার সংগঠিত হয়ে এবং নতুন সংগঠন তৈরী করে এই আক্রমণ শুরু করতে সক্ষম হচ্ছে।
❤ Support Us






