Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ৯, ২০২৩

পাঁচ বছরে গুজরাটে ৪০ হাজার মহিলা নিখোঁজ, উদ্ধব নিশানায় মোদি-শাহ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পাঁচ বছরে গুজরাটে ৪০ হাজার মহিলা নিখোঁজ, উদ্ধব নিশানায় মোদি-শাহ

গুজরাট থেকে নিখোঁজ ৪০ হাজার মহিলা,  সে প্রসঙ্গে শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করলেন। শিবসেনা মুখপত্র সামনাতে এই বিষয়ে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়েছে। তাতে ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোকে উল্লেখ করে মোদি-শাহের বিরুদ্ধে শিবসেনা এই অভিযোগ তোলা হয়েছে। বলা হয়েছে,গত পাঁচ বছরে গুজরাট থেকে ৪০ হাজার মহিলা নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছেন।

ওই নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে নারী পাচারের এই ঘটনা যখন গুজরাটের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে তখন মোদি ভক্তরা গুজরাট মডেলের প্রচারে নরেন্দ্র মোদির প্রশস্তি করে চলেছে। সামনা -র ওই নিবন্ধে ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য উল্লেখ করে লেখা হয়েছে যে গত পাঁচ বছরের সময়সীমার মধ্যে গুজরাট থেকে ৪০ হাজার মহিলার নিরুদ্দেশ হয়েছে। শিবসেনার তরফে বিবেক অগ্নিহোত্রীকে কটাক্ষ করে বলা হচ্ছে, কাশ্মীর ফাইলস, দ্য কেরালা স্টোরির মতো এবার এই ৪০ হাজার মহিলার গুজরাট থেকে নিরুদ্দেশ হওয়া নিয়ে “গুজরাট ফাইলস” নামের একটা সিনেমা বানান। সামনা-র ওই সম্পাদকীয়তে মহারাষ্ট্রেও  একই ভাবে নারী পাচারের বিষয়টি উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, মহারাষ্ট্রে রোজ ৭০ জন মহিলা বেপাত্তা হয়ে যাচ্ছেন। গত তিন মাসে ওই রাজ্যে ৫ হাজার মহিলা নিরুদ্দেশ হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

“শিন্দে-ফড়নবীস সরকার এটা নিয়ে কী ভাবছে ?” এই প্রশ্ন তোলা হয়েছে ওই সম্পাদকীয়তে। ওই সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়েছে, গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের বর্তমান সরকার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের সমস্যাগুলি সমাধান করার পরিবর্তে ‘বজরংবলি ও  হনুমান চালিসা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে এবং ধর্মান্তরকরণ-এর মতো বিষয়গুলিকেই গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে।

ওই সম্পাদকীয়তে নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করে বলা হয়েছে, নরেন্দ্র মোদি তাঁর মন কি বাত অনুষ্ঠানে জওহরলাল নেহেরু ও মহাত্মা গান্ধিজিকে  গুজরাটে মহিলাদের নিরুদ্দেশ হওয়া ও  নারী পাচারের জন্য দায়ী করে বক্তব্য রাখছেন, এভাবেই মানুষদের তিনি বিভ্রান্ত করছেন। ওই সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়েছে, গুজরাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বদল হলেই একমাত্র এই মহিলা এবং তাদের পরিবারগুলো  ন্যায়বিচার পাবে। অন্যথায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির  ‘মন কি বাত’-এ  নেহেরু এবং গান্ধি সম্পর্কে এই মন্তব্য শুনে তারা আরও বিভ্রান্ত হবে।

রেসলিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার প্রধান ব্রিজ ভূষণ সিং-এর গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের দাবিতে রাজধানীতে কুস্তিগীরদের বিক্ষোভের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সামনা বলেছে, “এমনকি দিল্লিতে ধর্নায় বসে থাকা মহিলা কুস্তিগীরদেরও জন্যও কেন্দ্রের সরকারের কোনও হেলদোল নেই।  প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেউই তাদের বিষয়ে কথা বলতে প্রস্তুত নয়। ওই সম্পাদকীয়তে রাজনীতি আরব ধর্মকে মিশিয়ে ফেলার যে কাজ দেশ জুড়ে চলছে সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নিরুদ্দেশ মহিলাদের যদি পুলিশ একান্তই খুঁজে বের করতে না পারে তাহলে গুয়াহাটিতে গিয়ে রীতি মেনে মহিষ বলি দিক। নিখোঁজ মহিলাদের খুঁজতে দেবতার সহায়তা নিক।
এতেও না হলে রানা দম্পতির (নবনীত এবং রবি রানা) গুজরাটের সবরমতী আশ্রমে বসে হনুমান চালিসা পাঠ করুক  এই নিখোঁজ মেয়েদের খুঁজে পাওয়ার জন্য। এতো কিছুর পরেও যদি প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং অমিত শাহরা নিখোঁজ মেয়েদের খুঁজে বার করার বিষয়ে চিন্তা না করেন, তবে ধরে নিতে হবে যে এই নিখোঁজ মেয়েদের বিষয়টিকে তাঁরা গুরুত্বই দিতে রাজি নয়, এসব কোনও কিছুর তাঁরা পরোয়া করে না।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!