Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • জানুয়ারি ৩, ২০২৫

সিওলে নাটকীয় পরিস্থিতি। বরখাস্ত প্রেসিডেন্টকে গ্রেফতারির চেষ্টা রুখতে ব্যক্তিগত রক্ষী এবং সমর্থকদের বিক্ষোভ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সিওলে নাটকীয় পরিস্থিতি। বরখাস্ত প্রেসিডেন্টকে গ্রেফতারির চেষ্টা রুখতে ব্যক্তিগত রক্ষী এবং সমর্থকদের বিক্ষোভ

দক্ষিণ কোরিয়ার সাময়িক বরখাস্ত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইউলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জাড়ি করলো আদালত । আজ সকালে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিতে বাসভবনে পৌঁছোয়  সেদেশের কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা । বরখাস্ত রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজের দেশের সামরিক আইনের অপব্যবহার করে রাষ্ট্রদ্রোহকে উসকে দিয়েছেন ।

সিওলে, স্থানীয় সময় ৮ টায় ৬৪ বছরের ইউনকে গ্রেফতার করতে সংস্থার কর্মকর্তা, সিনিয়র প্রসেকিউটর লি ডাই- হোয়ান সহ পুলিশকে রাষ্ট্রপতির বাসভবনে প্রবেশ করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইয়োনহাপ জানিয়েছে, ওই টিমে ১২০ জন পুলিশ সদস্য এবং সিআইও- এর ৩০ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। এর মধ্যে আশি জন প্রেসিডেন্টের বাসভবনের মূল কম্পাউন্ডে প্রবেশ করেছেন এবং বাকি সদস্যরা বাইরে পাহারা দিচ্ছেন। অভিযান চালানোর আগে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের ফুটপাত ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেয় পুলিশ। তাঁর গ্রেফতার ঠেকাতে তদন্ত দলটিকে বাধা দিয়ে যাচ্ছে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনী।

কেন হঠাৎ করে দেশে সামরিক আইন লাগু করতে চেয়েছিলেন আপাত বরখাস্ত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইউল ? এপ্রসঙ্গে কোরিয়ার দুর্নীতি তদন্ত সংস্থা (সিআইও) তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইলে, সেই সমন বারকয়েক এড়িয়ে যান ইউল ।তারপরই সে দেশের আদালতে হস্তক্ষেপে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয় । গত ৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার পার্লামেন্ট ইউনকে সাময়িকভাবে মার্শাল ল’ ঘোষণার চেষ্টা চালানোয় তিরস্কার করে। পরে ১৪ ডিসেম্বর দেশটির আইনপ্রণেতারা অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিলে, তাকে দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করা হয়। তবে দেশের সাংবিধানিক আদালত বরখাস্তের এই আদেশ বহাল রাখলেই কেবল তাকে পদচ্যুত করা সম্ভব। ইউল দুই সপ্তাহ ধরে তদন্তকারীদের তলব এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং তাঁর মার্শাল ল’র সিদ্ধান্ত সঠিক বলে দাবি করে আসছেন।যদিও প্রেসিডেন্টের আইনজীবী এই আদেশকে “অবৈধ” বলে উল্লেখ করে, আইনি লড়াইয়ের কথা বলেছেন। ইউলের পিপল পাওয়ার পার্টির নেতাকর্মীরা তদন্তকারীদের “অযৌক্তিক গ্রেফতার প্রচেষ্টা” থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

আগেও ইউলের অফিস এবং বাসভবনে পুলিশি তল্লাশির চেষ্টা হয়, সমর্থকদের বাধায় ফিরে যায় পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি বিচার চলার জন্য আপাতত সে প্রেসিডেন্টের পদে তিনি নেই । কিন্তু তাঁর নিরাপত্তায় এখনো মোতায়েন প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিস (পিএসএস) এবং সিওল শহরের নিরাপত্তা রক্ষাকারী সামরিক ইউনিট। তারাই শুরু থেকেই ইউলকে গ্রেফতারে বাধা দিয়ে আসছে । বিরোধী দলের এমপি পার্ক চ্যান-ডে ইউলের নিরাপত্তারক্ষীদের সতর্ক করে বলেছেন, “কেউ যদি গ্রেফতারে বাধা দেয়ার চেষ্টা করে তাহলে তাকে সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা এবং বিদ্রোহে সহযোগিতার অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হবে।” এই গ্রেফতারি পরোয়ানার মেয়াদ ৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত, সুতরাং তদন্ত কর্মকর্তাদের এই সময়ের মধ্যেই ইউনকে গ্রেফতার করতে হবে – যদি তা না হয় তবে তাদের আবার নতুন ওয়ারেন্টের জন্য আবেদন করতে হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, তদন্তকারী সিআইও কর্মকর্তারা ইউলকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিজেদের হেফাজতে নিয়ে,  সিওলের কাছে গওয়াচিওনে, তাদের দফতরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যেতে চান। ওয়ারেন্ট অনুযায়ী তাঁকে ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে।যদিও গ্রেফতারির পর, নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য নতুন করে আবেদন করতে হবে সংস্থাকে।

গ্রেফতারির বিরোধিতায় বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ইউলের বাড়ির সামনে জমায়ের শুরু করেন তাঁর সমর্থকরা ।তাঁরা সারা রাত বাড়ির বাইরে ক্যাম্প করে অবস্থান করছেন। কেউ কেউ প্রিয় প্রেসিডেন্টের জন্য সারা রাত প্রার্থনা করেছেন। শুক্রবার ভোরে দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা এবং প্ল্যাকার্ড হাতে অসংখ্য মানুষ রাষ্ট্রপতি ভবনের গেটের সামনে জড়ো হতে থাকে। তদন্ত কর্মকর্তারা সেখানে পৌঁছালে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে স্লোগান ওঠে ।

২০২২ সালে, রাজনীতিতে আনকোড়া ইউন সুক ইউল দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে জয়ী হন। প্রেসিডেন্ট হবার পর থেকেই দ্রুত জড়িয়ে পড়েন নানা কেলেঙ্কারিতে। যার বেশিরভাগ ছিল তার স্ত্রী কিম কিওন হি-কে নিয়ে। গত এপ্রিলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিরোধী দল আশ্চর্য জয় পাওয়ার পর, ইউন কার্যত দূর্বল প্রেসিডেন্টে পরিণত হন, যার ক্ষমতা বলতে ছিল কেবল ‘বিল ভোট’ দেওয়া। রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা ইউন এরপরই মার্শাল ল’র ঘোষণা করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা এর আগেও ২০০০ এবং ২০০৪ সালে দেশের আইন প্রণেতাদের জন্য গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে একইরকমভাবে ব্যর্থ হয়েছিল। দলের সদস্য এবং সমর্থকরা সাত দিনের জন্য পুলিশকে আটকে দিয়েছিল, ঠিক যেমন আজ ইউনের সমর্থকরা করতে চাইছেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!