Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ২৪, ২০২৩

দূর-প্রাচ্যের কূটনীতিতে নাটকীয় মোড়। একযুগ পর আমেরিকায় দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়ুল। কিম জুজুর ভয়ে জো কে আরো বেশি কাছে চায় সিওল

মোদির নেতৃত্বে কোনদিকে এগোবে ভারত ? অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ব কূটনীতির চালচিত্রে রদবদল কি সম্ভব ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দূর-প্রাচ্যের কূটনীতিতে নাটকীয় মোড়। একযুগ পর আমেরিকায় দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়ুল। কিম জুজুর  ভয়ে জো কে আরো বেশি কাছে চায় সিওল

২০২২, সিওলে বাইডেন ইয়ুল বৈঠক

পাঁচ দিনের সফরে আমেরিকা পৌঁছোলেন ইয়ুন সুক ইয়ুল ।  ১২ বছরে দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো প্রেসিডেন্টের এটাই প্রথম মার্কিন সফর। আমেরিকা ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আন্তর্তজাতিক স্তরে  বৈঠক করেছে।  নিজের দেশে দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে  এক যুহগে আমন্ত্রণ জানায়নি। সোমবার থেকে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলবেন  বাইডেন-ইয়ুল। সম্ভবত তাঁদের বৈঠকে উঠে আসবে চিন সাগরের  উত্তেজনা, তাইওয়ান প্রসঙ্গ এবং উত্তর কোরিয়ার স্বৈর শাসক কিম জং -এর মারণাস্ত্র তৈরির প্রসঙ্গ।

পূর্ব এশিয়ার রাজনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইতিপূর্বে পারমানবিক অস্ত্রের ব্যবহার কীভাবে কমিয়ে আনা যায় তা নিয়ে একাধিক  বৈঠক হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘ এ ব্যাপারে প্রোটকল জারি করেছে। সে সবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বার বার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে গেছে কিম জং উন।কিমের পিছনে  চিনের পরোক্ষ সমর্থন কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। দিন কয়েক  আগে মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার সরাসরি জবাব দিয়েছেন কিম।  এবার  সামরিক উপগ্রহ আমেরিকাকে ধাওয়া করবে। ক্ষুব্ধ আমেরিকা জবাব দিতে বিলম্ব করেনি।  কিমের বিবৃতির অভিমুখ পরিষ্কার।  জাপান সাগরে জাপ-মার্কিন যৌথ মহড়া বনন্ধ করতে হবে।  শুধু বিবৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি উত্তর কোরিয়া।   পারমাণবিক শক্তির পরীক্ষা-নিরীক্ষা অব্যাহত রেখেছে।  জিনিপিং বলেছেন, চিন  উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে   একসঙ্গে পথ চলবে সামরিক  অস্ত্র তৈরির পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বাণিজ্যিক লেনদেনে। জিনপিং-এর বিবৃতির পর নড়ে বসে ওয়াশিংটন। দ্রুত দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেয়।  চিন সাগরের কাছাকাছি  জলপথে মার্কিন তৎপরতাকে বেজিং বিলকুল প্রশ্রয় দেবে না, এটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে  চিনের সহযোগী একমাত্র উত্তর কোরিয়া। আমেরিকার সহধর্মী অষ্ট্রেলিয়া, জাপান এবং দূরপ্রাচ্যের কয়েকটি  দ্বীপ রাষ্ট্র।  চিন একা লড়বে না।  প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় তার শক্তিবৃক্ষে আরো জোরদার করবে। প্রইয়োজনে ভারতের সঙ্গেও সমমোনোভাব গড়ে তুলবে। ভারতীয় বাণিজ্যতরীর গতিপথকে যথাসম্ভবঅবাধ করে তুলবে।       এরকম অবস্থায় দূর দেশ আমেরিকার  সাগরজল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাকে অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে হবে। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিবাদ ছাড়া চিনের অন্য কোনো সমস্যা নেই।  চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভারত সফরে আসছেন। দুই দেশ পারস্পরিক সমস্যা  নিয়ে কথা বলবে। সমস্যা দ্রুত মিটিয়ে ফেলার সুরাহা  বের করা অসম্ভব নয়।

দুনিয়া জুড়ে ভারত কূটনীতিতে ভারত নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখছে। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে মার্কিন চাপকে নস্যাৎ করে রাশিয়ার  পাশে দাঁড়িয়েছে। এটা শুধু তার অর্থনৈতিক স্বার্থে নয়। স্বার্থ আরো বড়ো, আরো প্রসারিত। দীর্ঘদিনের সুখ-দুঃখের মিত্রকে  ভারত ভোলেনি। ভুলবে না।  বিশ্বের কূটনীতির নতুন   মোড় তৈরি হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্ষমতা ও কূটনীতির শিবির বিন্যাসে ভারতের অবস্থান চতুর্থে চলে আসা অসম্ভব নয়।  আরো স্পষ্ট  করে বলা দরকার, আমেরিকার সংকোচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বিস্তর। ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার দক্ষিণাংশ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে বিশ্বের সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী দেশকে। প্রধানত শক্তি হয়ে উঠতে পারে চিন-রাশিয়ার যৌথ শক্তি। তৃতীয় স্থানে ভারত । সম্ভাব্য স্তর বিভাজনের পর  নিরপেক্ষ ভারত অবশ্যই রাশিয়ার পাশে থাকবে। ভারতের সঙ্গে চিনের বাণিজ্য অব্যাহত। তার বহর বাড়তে পারে। চিন-ভারত সংঘর্ষ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মৌনভাব কি প্রমাণ করে না তিনি বিষয়টিকে খাটো করে দেখছেন না। আবার এবিষয়ে উগ্র জাতীয়তাবাদী আস্ফালনকে প্রশ্রয় দিতেও বিশেষ আগ্রহী নন।  এ কীসের লক্ষণ ? বিশ্বকূটনীতিতে ভারতের সম্ভাব্য অবস্থানকে আরো জোরদার করে তোলবার চেষ্টা নয় তো ?  দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে যদি কখনো সরাসরি সংঘাত দেখা দেয়, ভারত অবশ্যই  যথাসম্ভব নিরপেক্ষতা অবলম্বন করবে।

 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!