Advertisement
  • প্রচ্ছদ রচনা
  • এপ্রিল ৬, ২০২২

জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার, বিক্ষোভের মুখে মাথা নোয়ালেন প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষে ।

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার, বিক্ষোভের মুখে মাথা নোয়ালেন প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষে ।

প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষে পার্লামেন্টে প্রধান সমর্থকদের হারানোর পর বিক্ষোভকারীরা মঙ্গলবার রাতে আবার রাস্তায় নেমে আসে ।

শ্রীলঙ্কা এখন বিদ্যুৎ ঘাটতি এবং জ্বালানি সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছে। অর্থনীতির বেহাল দশা এবং বৈদেশিক মূদ্রার সঞ্চয় কমে যাওয়ায় দ্বীপদেশটি নাজেহাল। দেশজুড়ে শুরু হওয়া প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে পড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে। তাঁর সরকারের ৪০ জনের বেশি এমপি জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ক্ষমতাসীন জোট তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষ-এর শ্রীলংকান পডুজানা পেরামুনা পার্টির নেতৃত্বাধীন জোটে ছিল এমন কিছু দলের এমপিরা বলেছেন, তাঁরা এখন পার্লামেন্টে স্বতন্ত্র অবস্থান নেবেন। এর ফলে শ্রীলঙ্কার সরকারের পক্ষে এখন কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে । তিনি সব দলকে আহ্বান জানিয়েছিলেন সরকারকে সমর্থনের জন্য। দেশের এই পরিস্থিতিতে সকলকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে—তাঁর এই আহ্বানে তেমন সাড়া মেলেনি। বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে  এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়ে দেন, জরুরি অবস্থার নির্দেশ প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল সেদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষিত হলেও তা জারি হয় ৩ এপ্রিল। চিন থেকে ঋণ নিয়ে বিপাকে পরে  দেশটি। গত সাত দশকে সবচেয়ে বড় আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে ভারতের প্রতিবেশী এই দ্বীপরাষ্ট্র। বিদ্যুতের অভাবে ব্ল্যাক আউট চলছে দেশে। খাবার, ওষুধ অগ্নিমূল্য। এমনকী মিলছে না প্রতিদিনের প্রয়োজনের রান্নার গ্যাস। এই অবস্থায় অনেকেই শ্রীলঙ্কা ছেড়ে ভারতে চলে আসছেন।দেশজুড়ে চলা প্রবল গণবিক্ষোভের জেরে রবিবার রাতে শ্রীলঙ্কায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভার বাকি ২৬ জন মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে তথা দেশের যুব এবং ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী নামাল রাজাপক্ষের পদত্যাগের পরে রটে যায় প্রধানমন্ত্রী মহিন্দা রাজপক্ষেও ইস্তফা দিয়েছেন। কিন্তু সেই খবরকে গুজব বলে খারিজ করে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। গোটা মন্ত্রিসভা ইস্তফা দিলেও, প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন রয়েছেন মাহিন্দা রাজাপক্ষে।

গতকাল, মঙ্গলবার সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে বর্তমান সরকার। সব মিলিয়ে ৪১ জন সাংসদ ওয়াক আউট করার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় মঙ্গলবার রাতে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করে নেওয়া হল।জনগণ যেটা চায়, তা হলো, প্রেসিডেন্ট এবং তার পুরো সরকারের পদত্যাগ, বলছেন শ্রীলংকার প্রধান বিরোধী জোট সামাগি জানা বালাওয়েগায়া দলের নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা।এর আগে মঙ্গলবার সদ্য নিযুক্ত অর্থমন্ত্রী আলি সাবরি পদত্যাগ করছেন। অর্থমন্ত্রী হতে রাজী হওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তিনি সরে দাঁড়ানোর কথা জানালেন।সেদেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পর্যন্ত ক্ষোভে ফুঁসছেন। সাধারণ ফল বিক্রেতা থেকে চাল ব্যবসায়ী, সকলেরই দাবি, দেশের সব কিছুই চিনকে বেচে দিয়েছে রাজাপক্ষে সরকার। এখন অন্য দেশের থেকে ঋণ নিয়ে বাঁচতে চাইছে। যা অসম্ভব বলেই দাবি তাঁদের। এরই মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বৃষ্টির মধ্যেও দল বেঁধে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে মিছিল করতে দেখা গিয়েছে সেদেশের পড়ুয়াদের একাংশকে ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!