Advertisement
  • দে । শ
  • মে ৩, ২০২৪

পরিবেশ বাঁচাতে ‘যুদ্ধে’ শামিল পূর্বস্থলীর এক ঝাঁক খুদে পড়ুয়া

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পরিবেশ বাঁচাতে ‘যুদ্ধে’ শামিল পূর্বস্থলীর এক ঝাঁক খুদে পড়ুয়া

মন্ত্রীমশাই নিদান দিলেন বাঁচাও পশুপাখি / জল দাও  যদ্দিন না আসে কালবোশেখি / তাপপ্রবাহে পুড়ছে বিশ্বসুদ্ধ / বিশ্বযুদ্ধ উঠুক শিকেয় / হোক গ্রীষ্মযুদ্ধ।

পূর্বস্থলীর মিনাপুর নিম্ন বুনিয়াদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সামার প্রজেক্টে’র এই হল রিং-টোন। দারুণ দহনের হলকার হামলা থেকে গোটা পরিবেশকে বাঁচাতে জানকবুল স্কুলের ‘মন্ত্রিসভা’। এলাকার জীবজগৎকে বাঁচাতে গাছের ডালে, জমির আলে, নিজের স্কুলে বসানো হল বিভিন্ন আকারের পাত্র। সেগুলিতে যাতে জল আর খাবারের জোগান অটুট থাকে, সেই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেয় মন্ত্রিসভা। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত  প্রধানশিক্ষক প্রসেনজিৎ সরকার বলছিলেন, ‘স্কুলের পড়ুয়াদের মধ্যে থেকেই একটা মন্ত্রিসভা গড়া হয়েছে। স্কুলের যাবতীয় বিষয়ে মন্ত্রিসভার অধিবেশন হয়। সেখানে আমরাও থাকি। সবাইমিলে বসে স্কুল ও এলাকার উন্নতিতে নানারকম কর্মসূচি নেওয়া হয়।’ রাজ্য সরকারের শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশিকা রয়েছে গ্রীষ্মের ছুটিতে পড়ুয়াদের সামার প্রজেক্ট তৈরি বাধ্যতামূলক। পরিবেশ আর জীবজগৎ বাঁচাতে সামার প্রজেক্ট হিসেবে যে কর্মসূচি নেওয়া হল, তা যেমন অভিনব, তেমনি খুবই প্রাসঙ্গিক ও পরিবেশবান্ধবও বটে।’ বলছিলেন স্কুলের সহশিক্ষক সংগীতা কর্মকার, পলাশ দেবনাথরা। স্কুলের এই সময়োপযোগী কর্মসূচির তারিফ করছেন অভিভাবকরাও।

কীভাবে গোটা বিষয়টি চূড়ান্ত হল? জানা গেল, ‘প্রধানমন্ত্রী’ পঞ্চমের ছাত্রী তামান্না মল্লিকের ‘পৌরোহিত্যে’ জরুরি বৈঠকে বসে গোটা মন্ত্রিসভা। আলোচ্য একটাই।  সামার প্রজেক্টের বিষয়। পরিবেশ মন্ত্রী পঞ্চমের ছাত্রী ইসমাতারা খাতুন প্রস্তাব দেন, প্রজেক্টের বিষয় হোক তাপপ্রবাহ থেকে জীবজগৎকে রক্ষা করা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র ইয়াকুব শেখ, শিক্ষামন্ত্রী চতুর্থ শ্রেণীর পড়ুয়া আয়েশা খাতুনরা এই প্রস্তাবকে দু’হাত তুলে সমর্থন জানান। শুরু হয়ে যায় মাঠে নেমে সিদ্ধান্তগুলির বাস্তবায়ন। রোদের প্রখর তাপ থেকে পাখিদেরকে  বাঁচাতে স্কুলের গাছের ডালগুলিতে ঝোলানো হয়েছে মাটির হাঁড়ি, ঝুড়ি। সেখানে থাকছে খাবার, জল। সেখানে পাখিরা বাসা বাঁধবে। তাপ থেকে বাঁচতে আশ্রয় নেবে। তেমনই জীবকুলকে বাঁচাতে বিভিন্ন পাত্রে রাখা হয়েছে জল ও খাবার। তাপপ্রবাহের রক্তচক্ষু এড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে ফি-বছর নিয়ম করে বৃক্ষরোপণেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কুলের মন্ত্রিসভা। ‘সাংবাদিক সম্মেলনে’ জানালেন পরিবেশ মন্ত্রী ইসমাতারা খাতুন। গাছে ঝুড়ি বাঁধার পাশাপাশি বিভিন্ন পাত্রে রাখা হচ্ছে মিড-ডে মিলের উদ্বৃত্ত খাবার ও জল। কুকুর, বিড়াল,হনুমানদের কথা ভেবেই এমন বন্দোবস্ত।
এখন রাজ্যজুড়ে সব স্কুলেই গ্রীষ্মাবকাশের ছুটি। মিড-ডে মিল বন্ধ। তাই বলে কি পশুপাখিরা শুকিয়ে থাকবে? তেষ্টায় ছাতি ফাটবে? মন্ত্রিসভার সদস্য ও তাদের সহপাঠীরা আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে  বাড়ি থেকেই খাবার ও জল নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় রাখা পাত্রে রাখছে। ‘প্রধানমন্ত্রী’ তামান্না মল্লিক জানালেন, ‘ভীষণ গরমে টেকা যাচ্ছে না। জীবজগৎ কথা বলতে পারে না। খিদে পেলেও জানাতে পারে না। ছুটি থাকায় এখন মিড-ডে মিল বন্ধ। তাই আমরা ঠিক করেছি, নিয়মিত স্কুলে খাবার ও জল দিয়ে আসব।’ প্রধানশিক্ষক প্রসেনজিৎ সরকার জানান, ‘অতিরিক্ত গরমে মানুষের মত পাখি, জীবজন্তুরাও খুব কষ্টে রয়েছে। গত ৫০ বছরেও এত গরম পড়েনি। স্কুল বন্ধ থাকলেও সরকারি নির্দেশে গ্রীষ্মকালীন প্রকল্পের কথা বলা আছে। পড়াশোনার পাশাপাশি পড়ুয়াদের মানবিক গুণের বিকাশে জীব ও প্রাণীকূলকে বাঁচিয়েে রাখতে এবারের সামার প্রজেক্টের বাস্তব রূপায়ণে খুদে পড়ুয়াদের অবদান অনবদ্য।’ জীবজগতের খাদ্য-পানীয়র জোগান ঠিক রাখার পাশাপাশি মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্কুলের পড়ুয়ারা নিয়ম করে এলাকায় পরিবেশ সচেতনতা প্রচার করছে। তাতে বৃক্ষরোপণ, জলাশয় বোজানো রোখা, প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার রোধের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি রয়েছে।

পরিবেশ বাঁচানোর যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে পূর্বস্থলীর খুদে পড়ুয়ার দল। এই ধর্মযুদ্ধে ‘শরিক হোক’ সবাই। চাইছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। সবার জন্য বাঁধা হয়েছে স্লোগান। নিজের জন্য বাঁচাই আসুন গোটা জীবজগৎ / তবেই রচিত হবে সুন্দর ভবিষ্যৎ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!