Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২৯, ২০২৫

নির্ধারিত দিনেই হবে এসএসসি পরীক্ষা, শনিবার ‘অযোগ্য’দের তালিকা প্রকাশ করবে রাজ্য

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নির্ধারিত দিনেই হবে এসএসসি পরীক্ষা, শনিবার ‘অযোগ্য’দের তালিকা প্রকাশ করবে রাজ্য

আগামী ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে ‘দাগি’ বা ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদের পরীক্ষায় বসতে দেওয়া যাবে না বলেও সর্বোচ্চ আদালত কড়া নির্দেশ। এসএসসির আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জানান, শনিবারের মধ্যেই ‘দাগি’দের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

শুক্রবার, সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও সতীশচন্দ্র শর্মা স্পষ্ট ভাষায় জানান, ‘এক জনও ‘দাগি’ প্রার্থী পরীক্ষায় বসতে পারবেন না।’ নির্দেশ বাস্তবায়নের সম্পূর্ণ দায়িত্ব দেয়া এসএসসি কর্তৃপক্ষের। দুর্নীতির অভিযোগে অযোগ্য ঘোষিত প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করেই তা নিশ্চিত করতে হবে যে, কেউ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারে। এদিনের শুনানিতে আদালত জানতে চায়, কতজন ‘দাগি’ প্রার্থী রয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় ১,৯০০ জন প্রার্থী এই তালিকায় রয়েছে। শুনানির সময় ‘যোগ্য শিক্ষক’দের আন্দোলনকারী চিন্ময় মণ্ডল বক্তব্য রাখতে গেলে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে থামিয়ে দেন। বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মা বলেন, ‘আপনি কি মামলা দায়ের করেছেন? না হলে দয়া করে পিছনে চলে যান। এটি কোনো জনসভা নয়।’ এরপর বেঞ্চ পুনরায় বলেছে, এক জনও অযোগ্য প্রার্থীকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া যাবেনা।

এসএসসি ইতিমধ্যেই পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোডের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে। যদিও সুপ্রিম কোর্ট পরীক্ষার সময়সূচি পিছানোর পরামর্শ দিয়েছিল, পুজোর ছুটির কারণে নতুন কোনো তারিখ পাওয়া সম্ভব হয়নি। তার পাশাপাশি শীর্ষ আদালতের নির্দেশ রয়েছে, ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৫ লক্ষ পরীক্ষার্থী এসএসসির এই দুই ধাপে পরীক্ষা দিতে বসবেন। পরীক্ষা ঘিরে উত্তেজনা ও প্রস্তুতি দুইই তুঙ্গে। ‘যোগ্য’ প্রার্থীরা দাবি জানাচ্ছেন, ‘দাগি’ প্রার্থীদের চিহ্নিত করা হলে কেন তাঁদেরকেও পরীক্ষা দিতে হবে, তবে এ দাবি খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের বক্তব্য, পরীক্ষা দিতে হবে, সাফল্যের ভিত্তিতে নিয়োগ হবে।

২০১৬ সালের নিয়োগ প্যানেল বাতিল হওয়ার পর প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। তাঁদের নিয়োগ পুনরায় নিশ্চিত করার জন্য শীর্ষ আদালত আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সে নির্দেশ মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হচ্ছে এসএসসিকে। তাই সময়মতো পরীক্ষা নেওয়াই এখন প্রধান ইস্যু। এই মুহূর্তে শিক্ষা দপ্তর ও জেলা প্রশাসন প্রস্তুতিতে ব্যাপকতর সক্রিয়। পরীক্ষার সুষ্ঠু ও নির্ভরযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় নতুন করে আলোড়ন উঠেছে শিক্ষক নিয়োগের জটিলতায়। পরীক্ষার প্রস্তুতি ও নিয়োগ নিয়ে চূড়ান্ত অবস্থান গ্রহণ করায় অনেকের আশা, দীর্ঘদিনের এই গণ্ডগোল থেকে অবশেষে মুক্তি মিলবে শিক্ষাক্ষেত্রে। তবে ‘যোগ্য’ ও ‘অযোগ্য’দের বিতর্ক এখননো শেষ হয়নি, তাও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে আন্দোলনকারীদের কথায়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!