Advertisement
  • টে | ক | স | ই
  • মার্চ ২৯, ২০২২

রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রতিবাদে গর্জে উঠে গ্রেপ্তার, অশীতিপর রুশ বৃদ্ধা শিল্পী।

রং-তুলিকে হাতিয়ার করে পুতিন বিরোধী প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় নামলেন তিনি।

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রতিবাদে গর্জে উঠে গ্রেপ্তার, অশীতিপর রুশ বৃদ্ধা  শিল্পী।

বয়সের ভারে তিনি ন্যুব্জ। গায়ের চামরায় কুচকে গেলেও মুখমণ্ডলের পেশিতে দূঢ়তা স্পষ্ট। তাঁর সাহসিকতা কিংবা মনের জোর তরুণ-তরুণীদের প্রেরণা জোগাবে । তাঁর হাতে ধরে থাকা প্ল্যাকার্ডই তার অকাট্য প্রমাণ। তাতে লেখা, ‘পুতিন মানেই যুদ্ধ! পুতিনের জন্য আমরা দেশের তরুণদের হারাতে চাই না।’ সম্প্রতি, রাশিয়ার বুকে সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে রুশ প্রেসিডেন্টের বিরোধিতা করতে দেখা গিয়েছে ৭৬ বছর বয়সি মহিলা শিল্পী এলেনা ওসিপোভাকে। যদিও তাঁর এই সাহসিকতার পুরস্কার স্বরূপ তাঁকে দেশদ্রোহি চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার হয়েছেন অশীতিপর শিল্পী।

এলেনা জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক শিল্পী নন। সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ তাঁর কর্মকাণ্ড। এমনকি শিল্পজগৎ থেকেও তিনি অবসর নিয়েছেন বছর দশেক আগে। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতিতে আবার রং-তুলিকে অস্ত্র করে সাজিয়ে প্রতিবাদের ভাষায় সেজে উঠেছে ক্যানভাস। কখনও তাঁর তুলির টানে পুতিন হয়ে উঠেছে বাইবেলের সেটান বা শয়তান, তরুণ সৈনিকদের ভয়াবহ মৃত্যুর ছবি, কখনও আবার শুকিয়ে ঝরে পড়া টিউলিপ ফুলের ছবি— ‘হোয়্যার হ্যাভ অল দ্য ফ্লাওয়ার্স গন’।

তাঁর ছোট্ট সেন্ট পিটার্সবার্গের অ্যাপার্টমেন্টে, ৭৬ বছর বয়সী শিল্পী এলেনা ওসিপোভা তাঁর তৈরি যুদ্ধবিরোধী ছবিগুলো সাংবাদিকদের দেখাচ্ছেন ।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর থেকেই বহু রুশ নাগরিকের মতো যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছিলেন এলেনা। রুশ সৈনিকদের মায়েদের নিয়ে তৈরি করেছিলেন ‘সোলজারস মাদারস’ নামে একটি সংগঠনও। রুশ সৈনিকদের ঘরে ফিরিয়ে আনা এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। আর এই আবেদন সরকারের কাছে পৌঁছে দিতেই আবার জেগে ওঠে তাঁর শিল্পসত্ত্বা। রং-তুলিকেই হাতিয়ার করে সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরের বিখ্যাত জাদুঘরের সামনেই তিনি হাজির হন । হাতে আঁকা প্ল্যাকার্ড আর ছবি নিয়ে। আর এই উদ্যোগে এগিয়ে এসেছিলেন বহু সাধারণ নাগরিকও। তবে বাধ সাধল প্রশাসন।
সম্প্রতি, দেশদ্রোহিতার অপরাধে গ্রেপ্তার করা হল ৭৬ বছর বয়সি বৃদ্ধা রুশ শিল্পীকে। একই সঙ্গে তাঁর সমস্ত শিল্পকর্ম ও প্ল্যাকার্ড বাজেয়াপ্ত করেছে রুশ পুলিশ। তবে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এখনও নিজের সিদ্ধান্তেই অবিচল এলেনা। তাঁর অভিমত, ইউক্রেনে রুশ আক্রমণ ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কিত একটি অধ্যায়। প্রশাসন দেশবাসীর মনে মিথ্যে দেশপ্রেম জাগানোর প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। অসংখ্য রুশ সৈনিকদের ঠেলে দিচ্ছে মৃত্যুর মুখে । যতক্ষণ না যুদ্ধ বন্ধ হচ্ছে রাশিয়ার বিভিনন্ প্রান্ত থেকে এমনভাবে এগিয়ে আসবে এলেনারা। যাঁরা আমৃত্যু যুদ্ধের বিরোধীতা করবেন। গর্জে উঠবেন যুদ্ধপ্রিয় শাসকের বিরুদ্ধে ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!