Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • অক্টোবর ১৩, ২০২৫

উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ের জন্য ক্ষতিপূরণ দিক ভুটান । রাজ্যের চাপেই ১৬ অক্টোবর নদী কমিশনের বৈঠকের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের, বামনডাঙা থেকে বললেন মুখ্যমন্ত্রী

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ের জন্য ক্ষতিপূরণ দিক ভুটান । রাজ্যের চাপেই ১৬ অক্টোবর নদী কমিশনের বৈঠকের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের, বামনডাঙা থেকে বললেন মুখ্যমন্ত্রী

“ভুটানের জলেই উত্তরবঙ্গে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাই ওদেরও ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত !” — সোমবার জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা থেকে এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুর্গত এলাকার মানুষদের পাশে দাঁড়াতে এ দিন পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখেন বন্যা বিধ্বস্ত এলাকা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন, আর মৃতদের পরিবারের এক জন করে সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি।

গত বুধবার উত্তরবঙ্গ পরিদর্শনের পর কলকাতায় ফিরে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তিন দিন পর, রবিবার ফের উত্তরবঙ্গে ফিরে যান তিনি। রবিবার আলিপুরদুয়ারের কয়েকটি দুর্গত এলাকা ঘুরে দেখে সোমবার সকালে যান নাগরাকাটায়। প্রথমেই তিনি যান বামনডাঙা, যেখানে সাত জন মৃতের পরিবারের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন।

বামনডাঙায় দাঁড়িয়ে মমতা বলেন, “আমরা বহু দিন ধরেই বলছি — ইন্দো-ভুটান নদী কমিশন গঠন হোক এবং তাতে বাংলার প্রতিনিধিত্ব থাকুক। ভুটানের জলেই এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাই ওদের ক্ষতিপূরণ দিতেই হবে।”

এর পরেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সব কিছুই আমাদের করতে হয়, দিল্লি এক পয়সাও দেয় না।”

মমতা জানান, রাজ্যের চাপেই আগামী ১৬ অক্টোবর নদী কমিশন সংক্রান্ত একটি বৈঠক ডাকতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র। সেই বৈঠকে রাজ্য সরকারের তরফে এক আধিকারিক উপস্থিত থাকবেন বলেও জানান তিনি। যদিও বৈঠকে ঠিক কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, তা স্পষ্ট করেননি মুখ্যমন্ত্রী।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য রাজ্য সরকারের একাধিক সহায়তার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান —মৃতদের পরিবারকে ইতিমধ্যেই ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পরিবারে একজন করে সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়া হচ্ছে, যার নিয়োগপত্র সোমবারই হাতে তুলে দেওয়া হয়। নাগরাকাটার ভাঙা সেতুর জায়গায় তৈরি হয়েছে লোহার অস্থায়ী সেতু, যাতে যাতায়াতে সমস্যা না হয়। যাঁদের ঘরবাড়ি ভেঙে গিয়েছে, তাঁদের জন্য নতুন ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার। যাঁদের কৃষিজমি নষ্ট হয়েছে, তাঁরা শস্য বিমার টাকা পাবেন। যাঁদের সরকারি নথি হারিয়েছে বা জলে নষ্ট হয়েছে, তাঁদের জন্য বিশেষ ক্যাম্প করে ডুপ্লিকেট নথি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই দুর্ঘটনা ভুটানের জলের জন্যই হয়েছে। তাই শুধু রাজ্য নয়, ওদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা আমাদের মতো সব ব্যবস্থা করছি, কিন্তু মানুষ যেন ন্যায্য প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ পান — সেটা নিশ্চিত করতে চাই।”


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!