Advertisement
  • প্রচ্ছদ রচনা
  • জুন ১৮, ২০২২

২৪ ঘণ্টায় মেঘালয়ের মৌসিনরামে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত । অসমেও বাড়ছে বিপদ, ৩ দিনে মৃত ১৭। ক্ষতিগ্রস্ত ১৯ লক্ষ বাসিন্দা। হিমন্তকে ফোন মোদির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
২৪ ঘণ্টায় মেঘালয়ের মৌসিনরামে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত । অসমেও বাড়ছে বিপদ, ৩ দিনে মৃত ১৭। ক্ষতিগ্রস্ত ১৯ লক্ষ বাসিন্দা। হিমন্তকে ফোন মোদির

বাংলাদেশ আর অসমের বন্যার চিত্র ।

প্রবল বর্ষণে উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি বংলাদেশেও তৈরি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা জলের তলায় । লক্ষ লক্ষ মানুষ জলবন্দি । বন্যার জেরে সুনামগঞ্জ শহর গোটা দেশ থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, এই দুই জেলায় প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ।

প্রশাসন সূত্রে খবর, বন্যার জেরে সিলেটে ওসমানি বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্যায় আটকে পড়া মানুষজনকে উদ্ধার করতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের আটটি উপজেলায় সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে। দেশটির আরও কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সারা দেশে ১৯শে জুন থেকে শুরু হওয়া স্কুল সার্টিফিকেট বা এসএসসি এবং সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

বিবিসিকে সুনামগঞ্জের জেলাশাসক মহম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন জানিয়েছে, আটকে পড়া মানুষজনকে কীভাবে উদ্ধার করা হবে সেটাই এখন প্রধান বিষয়। তিনি বলেন, ‘ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বর্ষণের জন্য বৃহস্পতিবার রাত থেকে ১২ ঘন্টাতেই সুনামগঞ্জে চার ফুট জল বেড়ে যায়। জেলা শহরের সব রাস্তায় জল জমেছে। কোথাও বুক সমান জল এবং কোথাও তার চেয়েও বেশি জল জমেছে । সুনামগঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগের হাইওয়েগুলিও জলের তলায়। ফলে শহর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ‘

বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আধিকারিক আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘন্টায় ৯৭২ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ১২২ বছরে এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড। সেই বৃষ্টির জল খুবই দ্রুত গতিতে সুনামগঞ্জ এবং সিলেট অঞ্চলে নেমে এসেছে। সেজন্য বন্যা অল্প সময়ে সিলেট অঞ্চলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত আছে এবং আরও কয়েকদিনে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার আরও অবনতি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানিয়েছেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় দেশের উত্তরে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট এবং নীলফামারী-সহ কয়েকটি জেলাতেও আগামী কয়েকদিন বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

জল বাড়ায় সিলেট-সুনামগঞ্জের সবগুলো বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন দুই জেলার মানুষ। শনিবার দুপুর সোয়া ১২টা থেকে বিভিন্ন উপকেন্দ্রের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।সিলেট রেলস্টেশন থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সিলেটের সঙ্গে সব উপজেলার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। জলের তলায় রেললাইন সহ রাজপথ। সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মো. নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ট্রেন চলবে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও রেলস্টেশন থেকে।

ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এরমধ্যে সিলেটের ৮০ শতাংশ এলাকা জলের তলায় তলিয়ে গেছে।টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের দুটি স্থানে পাহাড় ধসে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নগরীর আকবর শাহ থানার ১ নম্বর ঝিল এবং বিজয় নগর এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সিলেট ও সুনামগঞ্জে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় টোল ফ্রি নম্বর চালু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আজ শনিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানিয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ সদরসহ সব অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দুই জেলাতেই খাদ্য, নিরাপদ জল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। নিরাপদ স্থানে যেতে আকুতি বাড়ছে মানুষের।

এদিকে অসমেও বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। ব্রক্ষ্মপুত্র সহ একাধিক নদনদী ফুলে ফেঁপে উঠেছে। মৌসুমী বায়ু ভীষণ ভাবে সক্রিয় হওয়ায় কয়েকদিন নাগাড়ে বর্ষণ চলছে। ২৯৩০ গ্রাম জলমগ্ন। প্রশাসন বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। সেইসঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় নামছে ধস। গত তিন দিনে অসমে ধসে চাপা পরে মারা গেছেন ১৭ জন। বিজলী, বক্সা, বরপেটা, দেমাজি, ধুবড়ি ডিব্রুগড়, ডিমা-হাসো, গোয়ালপাড়া, হোডাই নলূবানি, সোনিতপুর তিনসুকিয়া উডালগুড়ি জেলা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। অসমের ২৮ জেলার ১৯ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ সকালে ফোনে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে কথা বলে, পরিস্থিত খবরাখবর নিয়েছেন। রাজ্য সরকারকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। একাধিক জায়গায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলার দল এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দল উদ্ধারকার্য শুরু করেছে। অসমের সঙ্গে মেঘালয় এবং ত্রিপুরার যোগাযোগ অনেকটাই বিচ্ছিন্ন । উত্তরপূর্বের অধিকাংশ রাজ্যের পরিস্থিতি বিপজ্জনক। পর্যটকদের শিলচর ভ্রমণ আপাতাত বন্ধ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।

ভারতের মেঘালয় ও আসামে বৃষ্টি হওয়ায় বাংলাদেশের অধিকাংশ নদীর জল বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় আগামী দুই দিনের মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চল ও দেশের মধ্যাঞ্চলের আরও ১৭টি জেলা বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!