- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫
মোদি-ট্রাম্প সখ্য নিয়ে কী মন্তব্য প্রাক্তন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভারতে এনে সংবর্ধনি দিচকেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত ধরে মঞ্চে উঠে মোদি জড়িয়ে ধরছেন ‘বন্ধু’ ট্রাম্পকে। এই দৃশ্য দেখে করমর্দন করে উঠেছিল গোটা স্টেডিয়াম। গোটা বিশ্ব মোদি-ট্রাম্পের বন্ধুত্বের এমন ছবি দেখেছে একাধিকবার। কিন্তু তাতে চিড় ধরেছে। সেই সম্পর্ক এখন আর নেই। এমনটাই দাবি করেছেন আমেরিকার প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। প্রাক্তন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার এই মন্তব্য ঠিক যেন শচীনদেব বর্মনের সেই বিখ্যাত গানের কলি “তুমি আর নেই সে তুমি” মনে করিয়ে দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের এজকতা বড় অংশের দাবি, আমেরিকার প্রেসিডেন্টের শুল্ক সংক্রান্ত নীতির জেরে গত দুই দশকে প্রথমবার নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটনের সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে। রাশিয়া থেকে তেল কেনায় মোদিকে শিক্ষা দিতে ভারতের উপরে দুই দফায় মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন মোদির প্রাক্তন বন্ধু ট্রাম্প। কিন্তু তাতেও চিঁড়ে ভেজেনি। রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করেনি ভারত। ফলে টানাপড়েন আরও বেড়েছে।
সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘এলবিসি’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জন বোল্টন বলেন, ‘ট্রাম্প আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চোখ দিয়ে দেখেন। ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো মানে আমেরিকা এবং রাশিয়ার সম্পর্কও ভালো। এমনটাই মনে করেন তিনি। কিন্তু বাস্তব সেটা নয়।’
ট্রাম্প যখন প্রথমবার প্রেসিডেন্টের আসনে বসেন তখন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন জন বোল্টন। আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। ট্রাম্পকে তিনি ভালো চেনেন, জানেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও জানেন জন বোল্টন। তাঁর বক্তব্য, ‘এক সময়ে ট্রাম্প-মোদির ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুব ভালো ছিল। এখন আর তা নেই। এটা সবার জন্যই একটা শিক্ষা। কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পর্ক কাজে লাগতে পারে। কিন্তু সেই সম্পর্ক খারাপ পরিস্থিতি থেকে আপনাকে রক্ষা করতে পারবে না।’
গত ২০১৯-এর সেপ্টেম্বরে টেক্সাসের হিউস্টনে ‘হাউডি মোদি’-র আয়োজন করেছিল আমেরিকা। সেখান থেকে কূটনৈতিক বেড়া টপকে ‘আব কি বার ট্রাম্প সরকার’ স্লোগান দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আবার ২০২০-তে আমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল স্টেডিয়ামে ‘নমস্তে ট্রাম্প’-এর আয়োজন করেছিল মোদির সরকার। সেখানেও দুই বন্ধুর সম্পর্ক দেখেছিল গোটা বিশ্ব। কিন্তু অবশেষে সেই বন্ধুত্বে চিড় ধরল।
প্রসঙ্গত কংগ্রেস মোদি-ট্রাম্পের এই সম্পর্কের অবনতি দেখে বলেছিল ব্যক্তিগত সম্পর্ক দিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবস্থান মজবুত করা যায় না, যেটা নরেন্দ্র মোদি চেষ্টা করেছিলেন। শুধু মার্কিন মুলুক নয়, সারার বিশ্বের সমস্ত দেশের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গেই তিনি রাষ্ট্রের নিরিখে না সম্পর্ক স্থাপন করে ব্যক্তিগত সখ্যতা বাড়িয়েছিলেন। তাতে যা পরিণতি হওয়ার তা হয়েছে। ট্রাম্পের প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের বক্তব্যেও সেই সুরই শোনা গেল।
❤ Support Us







