Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জানুয়ারি ২৯, ২০২৬

ইউজিসি-র নতুন বিধিতে সুপ্রিম স্থগিতাদেশ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ইউজিসি-র নতুন বিধিতে সুপ্রিম স্থগিতাদেশ

ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন-এর সদ্য জারি করা ‘ইক্যুইটি রেগুলেশন-২০২৬’ ঘিরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার, একটি মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত ওই বিধিগুলির কার্যকারিতার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্র সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই নিয়মাবলির প্রয়োজনীয়তা ও প্রাসঙ্গিকতা নতুন করে খতিয়ে দেখতে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ২০১২ সালের পুরনো অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন বিধিই বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে আদালত।

শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্যে স্পষ্ট হয় আদালতের উদ্বেগ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও কি আমরা এমন এক সমাজের দিকে এগোচ্ছি, যা আবার জাতিভিত্তিক বিভাজনের পথে ফিরছে? একটি জাতিহীন সমাজ গড়ে তোলার জন্য এতদিন যা অর্জন করা হয়েছে, তা কি তবে নষ্ট হয়ে যাবে?’ মামলায় আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। তাঁর বক্তব্য, ইউজিসি-র নতুন বিধির সংজ্ঞা ও কাঠামো উচ্চশিক্ষার প্রগতিশীল চরিত্রের পরিপন্থী এবং তা সমাজে নতুন করে বিভাজনের বীজ বপন করতে পারে।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ‘ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন (প্রোমোশন অব ইক্যুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস) রেগুলেশনস, ২০২৬’, যার বিজ্ঞপ্তি জারি হয় চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি। এ বিধির মাধ্যমে ২০১২ সালের জাতিভিত্তিক বৈষম্য বিরোধী নিয়মে সংশোধন আনা হয়। নতুন নিয়মে ‘কাস্ট-বেসড ডিসক্রিমিনেশন’ বা জাতিভিত্তিক বৈষম্যকে এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যেখানে শুধুমাত্র তফসিলি জাতি (এসসি), তফসিলি উপজাতি (এসটি) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) সদস্যদের বিরুদ্ধে হওয়া বৈষম্যই অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে সাধারণ শ্রেণির ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা কার্যত এই সুরক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছেন— এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে বৈষম্য রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। তার মধ্যে রয়েছে সমান সুযোগ কেন্দ্র ও একটি ইক্যুইটি কমিটি গঠন, ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করা, অনলাইন অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত রিপোর্ট ইউজিসির কাছে পাঠানো। ব্যবস্থার দায়ভার সরাসরি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের উপর বর্তাবে। উপাচার্য বা অধ্যক্ষদের ব্যক্তিগতভাবে নিয়ম মানার নিশ্চয়তা দিতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান এই নির্দেশিকা মানতে ব্যর্থ হলে নতুন কোর্সের অনুমোদন বন্ধ করা, ইউজিসির প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া কিংবা চরম ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি প্রত্যাহারের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, নতুন এই বিধি তৈরি হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টেরই এক আগের নির্দেশের পর। ২০১২ সালের অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন রেগুলেশন কার্যকরভাবে রূপায়িত হচ্ছে না— এ অভিযোগে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন রাধিকা ভেমুলা ও আবেদা সালিম তাদভি। রাধিকা ভেমুলা হলেন হায়দরাবাদ সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির গবেষক রোহিত ভেমুলার মা এবং আবেদা তাদভি মুম্বইয়ের চিকিৎসক পড়ুয়া পায়েল তাদভির মা। অভিযোগ অনুযায়ী, জাতিভিত্তিক বৈষম্যের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন রোহিত ও পায়েল। সে মামলার শুনানিতেই ইউজিসিকে আরও কঠোর ও কার্যকর নিয়ম তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।

তবে নতুন বিধি প্রকাশের পর থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয় প্রতিবাদ। বিশেষ করে সাধারণ বা তথাকথিত উচ্চবর্ণ শ্রেণির বিভিন্ন গোষ্ঠী এ নিয়মকে একতরফা ও বিভাজনমূলক বলে দাবি করে তা প্রত্যাহারের দাবি তোলে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়-সহ দেশের একাধিক ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর ক্যাম্পাসে কলা অনুষদের সামনে অন্তত ৫০ জন পড়ুয়া জড়ো হয়ে ইউজিসি-র নতুন বিধির বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, নতুন নিয়ম বৈষম্য দূর করার বদলে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক, অবিশ্বাস ও বিভাজন আরও বাড়াবে।

 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!