- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ৮, ২০২৩
“এ বার কি সিবিআইকে তদন্তভার দিলে ভাল হবে?” কালিয়াগঞ্জকাণ্ডে রাজ্য পুলিশের সিটকে অসহযোগিতার অভিযোগে প্রশ্ন বিচারপতি মান্থার
“এ বার কি সিবিআইকে তদন্তভার দিলে ভাল হবে?” কালিয়াগঞ্জকাণ্ডে রাজ্যের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট হয়ে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা বৃহস্পতিবার রাজ্যের আইনজীবীকে এই প্রশ্ন করলেন। কালিয়াগঞ্জের নাবালিকা মৃত্যুর তদন্তে রাজ্যের ভূমিকায় তিনি যে অসন্তুষ্ট কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা তাঁর মন্তব্যে সেটাই বুঝিয়ে দিলেন। কালিয়াগঞ্জ নাবালিকা হত্যার মামলার তদন্তে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করে দিয়েছিলেন। তবে বিচারপতির জনরে এসেছে, এই সিটকে রাজ্য পুলিশ সহযোগিতা করছে না। এই অভিযোগ বিচারপতির এজলাসে বৃহস্পতিবার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই অভিযোগ শুনে বিচারপতি মান্থা বলেন, ‘‘আদালতের নজরে স্পষ্ট, সিট যাতে কাজ করতে না পারে সেই চেষ্টা করছে রাজ্য। এ বার কি সিবিআইকে তদন্তভার দিলে ভাল হবে?’’
বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানির সময় বিচারপতি মান্থা বলেন, ‘‘সিটকে পুলিশ সাহায্য করছে না বলে অভিযোগ উঠছে। ফলে বলতে হচ্ছে, রাজ্য নিজেই নিজের বিপদ ডেকে আনছে। সিট যাতে কাজ করতে না পারে সেই চেষ্টা করছে রাজ্য। এ বার কি সিবিআইকে তদন্তভার দিলে ভাল হবে?’’
বিচারপতির এই প্রশ্নের জবাবে রাজ্যের পক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘‘সিটকে সাহায্য করা হয়নি এ বিষয়ে রাজ্য অবগত নয়। রাজ্য মামলাটিকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছিল। অবকাশকালীন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়নি। আগামী সপ্তাহে শুনানি হতে পারে।’’
এর পর বিচারপতি মান্থা পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘‘পুলিশ সিটকে সাহায্য করছে না। আর কিছু জানে না এটা কি হতে পারে?’’ এর পরেই তিনি নির্দেশ দেন, রাজ্যপুলিশ কেন হাই কোর্টের নির্দেশ মানেনি, তা এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দিয়ে জানাতে হবে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরকে। প্রসঙ্গত রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রসঙ্গত চলতি বছরের এপ্রিল মাসে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগ ওঠে। যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভে অশান্ত হয়ে ওঠে কালিয়াগঞ্জ। এর পর ওই ছাত্রীর দেহ পুলিশ প্রকাশ্যে টানতে টানতে নিয়ে গেলে সেই ভিডিও ভাইরাল হয়। তারপর এই ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ও ভাইরাল ভিডিও নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়। কালিয়াগঞ্জ-এর মানুষের বিক্ষোভ চরমে ওঠে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করে প্রতিবাদীরা। পুলিশের উপর হামলার ঘটনাও ঘটে। থানায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় । ছাত্রীর মৃত্যুর এই ঘটনায় সিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। ওই বিশেষ তদন্তকারী দলে ছিলেন বর্তমান আইপিএস দময়ন্তী সেন এবং দুই প্রাক্তন আইপিএস উপেন বিশ্বাস ও পঙ্কজ দত্ত। ঘটনাচক্রে, এই তিন জনেরই কোনও না কোনও সময়ে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার ইতিহাস রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছিল, ইচ্ছে করেই কি কালিয়াগঞ্জের ঘটনার তদন্তে এঁদের নিয়োগ করা হল। এই সিট গঠনের নির্দেশের দিন সরকার পক্ষের আইনজীবী সরকারের বিরুদ্ধে এই তিনজন কথা বলেন বলে এই তিন সিটের সদস্যের নামের বিরোধিতা করেন। এমন কি প্রাক্তন আইপিএস নজরুল ইসলামের নামও বিচারপতি সিটের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করলে সরকারি আইনজীবী তার বিরোধিতা করেন সেই একই কারণে, বলেন এই প্রাক্তন পুলিশ কর্তাও সরকার বিরোধী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই বিশেষ তদন্তকারী দলে বর্তমান আইপিএস দময়ন্তী সেন এবং দুই প্রাক্তন আইপিএস উপেন বিশ্বাস ও পঙ্কজ দত্তর নাম রাখা হয়। বর্তমানে সিটের এই তিন সদস্যকে সাহায্য না করার অভিযোগ উঠেছে রাজ্যপুলিশের বিরুদ্ধে। যা শুনে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা।
❤ Support Us







