Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৫

গুরু নানকের জন্মজয়ন্তীতে পাকিস্তানে তীর্থযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা কেন্দ্র সরকারের! তীব্র বিতর্ক পাঞ্জাবে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
গুরু নানকের জন্মজয়ন্তীতে পাকিস্তানে তীর্থযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা কেন্দ্র সরকারের! তীব্র বিতর্ক পাঞ্জাবে

গুরু নানকের ৫৫৬তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে নভেম্বরে পাকিস্তানে তীর্থযাত্রার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল একাধিক ধর্মীয় সংগঠন। কিন্তু এবছর সে যাত্রার অনুমতি দিল না কেন্দ্র। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তীর্থযাত্রীদের পাকিস্তান সফরের অনুমতি দেয়নি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে একদিকে যেমন পাঞ্জাবের ধর্মীয় মহলে ক্ষোভ, তেমনই রাজনৈতিক তরজাও চরমে।

১২ সেপ্টেম্বর তারিখে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও দিল্লির মুখ্যসচিবদের চিঠি পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তাতে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ‘বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে পাকিস্তানে শিখ তীর্থযাত্রীদের জাঠা পাঠানো সম্ভব নয়। সে কারণে রাজ্যের সমস্ত শিখ সংগঠনকে অবহিত করতে হবে এবং তীর্থযাত্রার যাবতীয় আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখতে হবে।’ চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভাগবন্ত মান। তিনি সরাসরি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত নীতি’র অভিযোগ তুলে বলেন, ‘একদিকে এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচে সম্মতি, আর অন্যদিকে শিখদের তীর্থযাত্রা নিষেধাজ্ঞা—এ কেমন দ্বিচারিতা? ধর্মবিশ্বাসকে যদি নিরাপত্তার অজুহাতে আটকানো হয়, তবে ক্রিকেট কিংবা গুজরাট-মুম্বই থেকে করাচি পর্যন্ত বাণিজ্য চলছে কীভাবে?’ ভাগবন্ত মানের অভিযোগ, ‘এ সিদ্ধান্ত বিজেপির পাঞ্জাব-বিরোধী মানসিকতার প্রতিফলন। হয়তো তারা এখনো কৃষি আইন প্রত্যাহারের দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে পারেনি, আর সেই রাগই পাঞ্জাবের সাধারণ মানুষদের উপর ঝারছে।’

শুধু আপ নয়, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সরব হয়েছে এনডিএ সহযোগী শিরোমণি অকালি দল-ও। দলের সভাপতি সুখবীর সিং বাদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছেন, যেন এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়। তাঁর কথায়, ‘শিখ তীর্থযাত্রীরা হৃদয় দিয়ে তাঁদের পবিত্র স্থানগুলির প্রতি আকৃষ্ট। পাকিস্তানে গুরু নানকের জন্মস্থান, সেখানকার গুরুদ্বারাগুলিতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানো তাঁদের ধর্মীয় অধিকার।’ প্রাক্তন হকি খেলোয়াড় ও কংগ্রেস বিধায়ক পরগট সিং একে ‘নীতিগত বৈষম্য’ বলে মন্তব্য করে বলেন, ‘ক্রিকেট চালু রাখতে পারলে তীর্থযাত্রা কেন নয়? কেন্দ্রীয় সরকারের এমন সিদ্ধান্ত আঘাত হেনেছে শিখদের ধর্মীয় অনুভূতিতে।’ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে শিখদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় সংগঠন শিরোমণি গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটি। সংগঠনের সভাপতি হরজিন্দর সিং ধামী বলেন, ‘গত কয়েক দশক ধরেই শিখ তীর্থযাত্রীরা পাকিস্তানের গুরুদ্বারাগুলিতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করেছেন। এই প্রথমবার এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল। তাও গুরু নানকের প্রকাশ পর্বের মত পবিত্র উপলক্ষে। এটা ধর্মীয় স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপ।’

উল্লেখ্য, এ বছরের শুরুতেই এসজিপিসি নভেম্বরের এই তীর্থযাত্রার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল। প্রচুর ভিসার আবেদন জমা পড়েছিল, তীর্থযাত্রীদের পাসপোর্ট সংগ্রহের কাজও সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু এপ্রিলে জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই কেন্দ্র সরকার পাকিস্তান সফরে কড়াকড়ি আরোপ করে। সীমান্ত পেরিয়ে সাধারণ ভারতীয়দের যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। পাকিস্তানও পাল্টা পদক্ষেপে ‘এসএএআরসি’ ভিসা এক্সেমশন স্কিমের অধীনে ভারতীয়দের বেশিরভাগ ভিসা বাতিল করে দেয়, তবে শিখ তীর্থযাত্রীদের এক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে তারা।

গুরু নানকের জন্মজয়ন্তী পালন করতে প্রতি বছরই বহু শিখ পুণ্যার্থী ভারত থেকে পাকিস্তানে যান। পাকিস্তানের গুরুদ্বারা জনম আস্থান ননকানা সাহিব-সহ অনান্য প্রধান গুরুদুয়ারাগুলিতে প্রতি বছর বিরাট উৎসবের আয়োজন করা হয়। লাহোর থেকে এর দূরত্ব কমপক্ষে ৬৫ কিলোমিটার। মান্যতা অনুযায়ী, ননকানা সাহিবেই গুরু নানক জন্মগ্রহন করেছিলেন। শুধু ভারত নয়, এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে তীর্থযাত্রীরা ওই গুরুদুয়ারাতে যান। এবছর, পরিস্থিতির জটিলতায় দরবার সাহিব, ননকানা সাহিব, পাঞ্জা সাহিব প্রভৃতি পবিত্র স্থানে শ্রদ্ধা জানাতে হয়তো যেতে পারবেন না হাজার হাজার ভারতীয় তীর্থযাত্রী। তাঁদের মনে এখন শুধুই হতাশা ও ক্ষোভ। তাদের দাবি, রাজনীতি যার যার জায়গায়, কিন্তু ধর্মীয় অনুভূতির তো একটা সম্মান থাকা উচিত। গুরু নানকের জন্মস্থান দর্শন করা শিখদের কাছে শুধু তীর্থ নয়, এক আত্মিক অভিজ্ঞতা। সেটা থেকে বঞ্চিত করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ সিদ্ধান্ত কেন্দ্র সরকারকে প্রত্যাহার করতে হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!