- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৫
ভারতের রাশিয়া-নির্ভরতা নিয়ে উদ্বিগ্ন ট্রাম্প প্রশাসন! রাশিয়ান তেল আমদানি বন্ধে জোর চেষ্টার বার্তা মনোনীত মার্কিন রাষ্ট্রদূত গোরের
‘ভারত যেন রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে’— এ বিষয়ে সাফ হুঁশিয়ারি দিলেন আমেরিকায় মনোনীত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। বৃহস্পতিবার সেনেটের বিদেশ সম্পর্ক কমিটির শুনানিতে গোর স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, ‘রাশিয়ান তেল আমদানি বন্ধ করানোই আমাদের প্রশাসনের শীর্ষ অগ্রাধিকার।’ এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত গোরের রাষ্ট্রদূত মনোনয়ন নিয়ে ওয়াশিংটনে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর তরজা। তবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে গোর বলেন, ‘ভারত আমাদের বন্ধু। আর বন্ধুদের কাছ থেকেই আমরা বেশি প্রত্যাশা করি।’
ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর তহবিল জোগাতে ভারতীয় তেল কেনা সহায়তা করছে, গত কয়েকমাসে লাগাতার এমন অভিযোগ তুলেছেন একাধিক মার্কিন আইনপ্রণেতা। সেনেটর বিল হ্যাগার্টি বলেছেন, ‘ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কিনে, পরিশোধন করে তা আবার ইউরোপে রপ্তানি করছে। এই লেনদেন বন্ধ করতেই হবে।’ এদিন একই সুরে গোর বলেন, ‘আমরা একতরফাভাবে চাপ দিলে কিছু হবে না। ইউরোপ, চিন, ব্রাজিল, যদি সবাই একইভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে না আসে, তাহলে নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।’ রাশিয়ান তেল কেনার ‘শাস্তি’ হিসেবে ভারতীয় পণ্যের উপর ইতিমধ্যেই ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক বসিয়েছে ওয়াশিংটন। সঙ্গে আরো ২৫ শতাংশ ‘পারস্পরিক’ শুল্ক বাড়ানোর নথি আলোচনার টেবিলে। এ প্রসঙ্গে গোর জানান, ‘আমরা ভারতের বাণিজ্য ও বাণিজ্যমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আগামী সপ্তাহেই তাঁদের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ারের বৈঠক রয়েছে।’
ভারতের উপর আরোপ করা অতিরিক্ত শুল্কনীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই গোরের সাফ জবাব, চিনের থেকে আমরা ততটা আশা করি না, যতটা ভারতের কাছ থেকে করি। আমরা চাই ভারত আমাদের সঙ্গে হাঁটুক।’ এদিনের আলোচনায় উঠে আসে ট্রাম্পপন্থী সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের প্রস্তাবিত বিলের কথাও, যেখানে রাশিয়ান তেল কেনা দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব রয়েছে। মনোনীত রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, অদূর ভবিস্যতে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে আমেরিকার, পাশাপাশি কৃষি খাতে বিশেষ নজর দিচ্ছেন তাঁরা। তিনি জানান, ‘লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি রয়েছি আমরা। ‘মিশন ৫০০’ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দু-দেশের মধ্যে বাণিজ্য ৫০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।’ কৃষিপণ্য, বিশেষ করে আমেরিকার ভুট্টা ও পপকর্ন ভারতে রপ্তানির ক্ষেত্রে বাধা হটানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। গোর বলেছেন, ‘যে সব খাতে ভারত শুল্ক কিংবা জমির বিধিনিষেধ দিয়ে রফতানি ঠেকায়, সেগুলি নিয়ে আলোচনা চলছে।’
রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের বক্তব্যে ‘কোয়াড’ এবং চিন-ভারত সংঘাত প্রসঙ্গেও বার্তা এসেছে। চলতি বছরের শেষ দিকে ভারতে কোয়াড বৈঠকের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোয়াডকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। বৈঠক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি আমরা দিচ্ছি।’ চিনের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত উত্তেজনা এবং ‘ব্রিকস’ জোটে ভারতের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এক সেনেটর দাবি করেন, ‘চিন ‘ইলেকট্রোম্যাগনেটিক’ অস্ত্র দিয়ে ভারতীয় সেনাদের উপর আক্রমণ করেছে ।’ যদিও ২০২০-র গালওয়ান সংঘর্ষে ভারত এমন কোনো দাবি করেনি। গোর বলেন, ‘ভারত অনেক ক্ষেত্রেই ব্রিকস-এর ভিতরে এমন প্রস্তাবে বাধা দিয়েছে, যা ডলারকে দুর্বল করতে পারত। ভারত এখনো আমাদের দিকেই তাকিয়ে আছে।’
প্রসঙ্গত, ভারতের জন্য রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি গোটা দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিশেষ দূতের দায়িত্বও পেয়েছেন গোর। কিছু বিশ্লেষকের মতে, এতে ভারত ‘পাকিস্তান ও আফগানিস্তান’-এর সঙ্গে এক গোত্রে পড়ে যাবে। তবে গোর আশ্বস্ত করেছেন, ‘আমি প্রত্যেক দেশের রাষ্ট্রদূতকে পরিপূরক হিসেবে কাজ করব, প্রয়োজনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেই সমাধান বার করব।’ আলোচনার শেষদিকে মার্কিন বিদেশনীতি সম্পর্কিত কমিটির চেয়ারম্যান জিম রিশ বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ জ্বালানি সম্পর্ক আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের।’গোরের জবাব, ‘আমি ভারতে গিয়ে এই প্রশ্নটাই প্রথম তুলব। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নিয়ে পুরোপুরি পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন।’
❤ Support Us








