- এই মুহূর্তে
- নভেম্বর ৫, ২০২২
জন্মদিনে শুভেচ্ছায় ভাসছেন কোহলি, দেখে নেওয়া যাক তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
আজ ৫ নভেম্বর, বিরাট কোহলির জন্মদিন। ৩৪ বছরে পদার্পন করলেন ‘কিং কোহলি’। এই বয়সেও একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন ক্রিকেটের এই কিংবদন্তী। টেস্ট সিরিজে সর্বোচ্চ সংখ্যক ডাবল সেঞ্চুরি কিংবা একদিনের ক্রিকেটে দ্রুততম ১ হাজার রানের রেকর্ডের মালিক তিনি। সম্প্রতি টি২০ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডেরও মালিক হয়ে গেছেন কোহলি। বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম নক্ষত্র বছরের এই বিশেষ দিনে শুভেচ্ছার জোয়ারে ভেসে যাবেন তা জানাই ছিল। দেশে না থাকলেও ভারতের অন্যতম সফল ক্রিকেটারকে ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা চোখে পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। পর বছর ধরে, তিনি নেতৃত্ব, প্রতিভা এবং শৃঙ্খলা দিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছেন। কোহলি সম্পর্কে কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেখে নেওয়া যাক।
● এশিয়ার প্রথম অধিনায়ক হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়
এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়াকে তাদের ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে হারিয়েছে ভারত। ২০২১৮-১৯–তে বিরাট কোহলির নেতৃত্বে এই সাফল্য এসেছে। এশিয়া থেকে তিনিই প্রথম অধিনায়ক যিনি অস্ট্রেলিয়াকে তাদের ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে পরাজিত করেন।
● ভারতের সফলতম টেস্ট অধিনায়ক
আইসিসি–র প্রতিযোগিতায় ভারতকে সাফল্য এনে দিতে না পারলেও দেশের সফলতম টেস্ট অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তাঁর নেতৃত্বে ৫৬টি টেস্টের মধ্যে ৩৮টিতে জয় পেয়েছে ভারত। পরপর ৯টি টেস্ট সিরিজ জেতার নজির রয়েছে বিরাটের। তাঁর অনেক আগে অবশ্য এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন কিংবদন্তি রিকি পন্টিং। তবে কোহলির নেতৃত্বে ভারতের এই সাফল্য অবশ্যই প্রশংসনীয়।
● আন্তর্জাতিক টি২০ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী
আন্তর্জাতিক টি২০ ক্রিকেটে সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী বিরাট। ১১৩ ম্যাচে ৩৯৩২ রান করেছেন কোহলি। ১৩৮.৪৫ স্ট্রাইক রেটে তাঁর ব্যাটিং গড় ৫৩.১৩। আন্তর্জাতিক টি২০ ক্রিকেটে ভারতের হয়ে ৩৬টি অর্ধশতরান এবং একটি শতরান রয়েছে তাঁর।
● দ্রুততম দশ হাজার রান সংগ্রহকারী
একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুততম দশ হাজার রান সংগ্রহকারী ক্রিকেটার বিরাট কোহলি। ২০৫ ইনিংসে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। পেছনে ফেলে দিয়েছেন শচীন তেন্ডুলকার (২৫৯ ইনিংস) এবং সৌরভ গাঙ্গুলিকে।
● ৭১টি আন্তর্জাতিক শতরান
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি রয়েছে শচীন তেন্ডুলকারের। টেস্ট এবং একদিনের ক্রিকেট মিলিয়ে ১০০টি সেঞ্চুরি করেছেন শচীন। কোহলিরমোট ৪৭৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে সেঞ্চুরির সংখ্যা ৭১টি। শচীনের থেকে ২৯টি দুরে।
● ক্রিকেট এবং টেনিসের প্রতি ভালবাসা
এমন একটা সময় ছিল যখন বিরাট কোহলির টেনিস এবং ক্রিকেটের প্রতি গভীর ভালবাসা ছিল। এই দুটির মধ্যে কোনদিকে ঝুঁকবেন, তা নিয়ে যথেষ্ট টালবাহনা ছিল। তাঁর জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির উৎসাহের কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটকে বেছে নিয়েছিলেন। পরের দিকে তিনি পেশাদারভাবে ক্রিকেট খেলার ও ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে কেরিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
● বাবার মৃত্যু ও খেলার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদল
বাবা প্রেম কোহলি ছিলেন বিরাটের সবচেয়ে বড় সাপোর্ট সিস্টেম। তিনিই কোহলিকে ক্রিকেটের জগতে পা ফেলতে সাহায্য করেছিলেন। বাবাই বিরাটকে ওয়েস্ট দিল্লি ক্রিকেট একাডেমিতে নিয়ে যান এবং অক্লান্তভাবে বিরাটকে শহরের চারপাশে নিয়ে বেড়াতে থাকেন, যাতে কোহলি তাঁর স্বপ্নের পেছনে ছুটতে পারে। বিরাটের বাবা তাঁর সাথে বিভিন্ন ক্রিকেট ম্যাচে যেতেন। ব্যর্থ হলেও বারবার সাহস জোগাতেন। বোঝাতেন চেষ্টা করলেই সাফল্য পাওয়া যাবে। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে বাবার অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে বিরাট গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁর মাথায় তখন থেকেই একটা জিনিস ঘুরপাক খেত, ‘আমাকে দেশের হয়ে খেলতে হবে এবং আমার বাবার জন্য সেই স্বপ্নটা বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’ বিরাট এই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিকে অনুপ্রেরণায় পরিণত করেছেন। বাবার মৃত্যুর দিনেই কর্ণাটকের রঞ্জি ট্রফি ম্যাচ খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই ম্যাচে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেছিলেন। যেদিন বাবার মৃত্যু হয়েছিল, সেদিন অত্যন্ত বিধ্বস্ত হওয়ার পরেও তিনিই প্রথম ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে রিপোর্ট করেছিলেন।
● শচীন তেন্ডুলকার তার প্রিয় আইকন এবং ক্রিকেটে আসার অনুপ্রেরণা
বিরাট যখন ছোট ছিলেন, তখন থেকেই শচীন তেন্ডুলকার তাঁর আইকন। বিরাটের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিলেন তিনি। ২০১১ বিশ্বকাপ জেতার পর তিনি তাঁর নায়ক শচীনকে কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন এবং ২১ বছর ধরে শচীন কীভাবে জাতির বোঝা বহন করেছিলেন তা গর্বিতভাবেও বলেছেন। শচীনের জন্যই তিনি ক্রিকেটে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন কোহলি।
❤ Support Us






