Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ২০, ২০২৩

গ্রন্থ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের স্থান বদল।নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য বিবেকের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
গ্রন্থ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের স্থান বদল।নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য বিবেকের

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তনের  কথা ঘোষণা  করলেন বিবেক অগ্নিহোত্রী। টুইট বার্তায় দর্শক ও অনুরাগীদের একথা জানিয়েছেন কাশ্মীর ফাইলস খ্যাত পরিচালক । বিষয়টি সামনে আসতেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। পরিচালকের সমালোচনায় সরব হয়েছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিবেকের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্য বিজেপি।

বৃহস্পতিবার একটি টুইট করে পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী তাঁর ভক্ত ও অনুরাগীদের জানান, তার লেখা আর্বান নকশাল-এর গ্রন্থ সাক্ষরের অনুষ্ঠান পার্ক সার্কাসের কোয়েস্ট মলের পরিবর্তে সাউথ সিটির স্টার মার্কের শপিং মলে অনুষ্ঠিত হবে। সকলকেই তিনি আমন্ত্রণ জানান। স্থান পরিবর্তনের কারণ হিসেবে তিনি বলেন যে পার্ক সার্কাস একটি মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল । তাই এখানে এ কর্মসূচি পালন করলে নিরাপত্তায় ব্যাঘাত ঘটত পারে। পরে কটাক্ষের সুরে লেখেন আধুনিক বাংলার এ এক বিয়োগান্ত পরিণতি।

টুইটটি সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকে পরিচালকের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান, আবার সমর্থনও করেন অনেক।শুধুমাত্র নেট দুনিয়া নয়, পরিচালকের মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের জল গড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতির আঙ্গিনা পর্যন্ত। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বিবেকের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, কুৎসা করা হচ্ছে। সস্তায় জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য তিনি এই সমস্ত কথা বলছেন । কোয়েস্ট মলে পৃথিবীর সমস্ত ধর্মের মানুষ যাচ্ছেন। সমস্ত ধরনের ইভেন্ট হচ্ছে সেখানে। এধরনের মন্তব্য অত্যন্ত আপত্তিকর। হেট স্টোরি পরিচালকের প্রতি তাঁর কটাক্ষ, আগে ‘গুজরাট ফাইলস’ বানিয়ে তিনি যেন গুজরাটে তা উদ্বোধন করেন। বিবেক অগ্নিহোত্রী বিজেপি ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। স্বভাবতই তার পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্য বিজেপি। দলের মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, বহুত্ববাদের দেশে এই ধরনের ঘটনা অনভিপ্রেত। এ ব্যাপারে কোয়েস্ট মল কর্তৃপক্ষ এখনও কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী তার লেখা আর্বান নকশাল লেখা বইটি নিয়ে পূর্বে ছবি করেছেন । যার নাম ‘বুদ্ধ ইন ট্রাফিক জ্যাম’। দেশের বামপন্থী আন্দোলনের সমালোচনায় নির্মিত ছবিটি পূর্বে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়য়ে দেখাতে গিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছিল। প্রচারধর্মী ছবি বলে সে সময় অনেকে তার বিরুদ্ধে নিন্দায় সরব হয়েছিলেন। হেট স্টোরি খ্যাত পরিচালক উস্কানিমূলক ছবি করার জন্যই ছবির জগতে সুপরিচিত। সেটা যৌন উস্কানিমূলকও হতে পারে অথবা রাজনৈতিক । গত বছর মুক্তি পাওয়া কাশ্মীর ফাইলসনিয়েও তার বিরুদ্ধে প্রোপাগাণ্ডা ধর্মী ছবি নির্মাণের অভিযোগ তোলেন অনেকে। ২০২২ সালে  ভারতের আন্তর্জাতিক  চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠানের জুরি প্রধান  ইরানি পরিচালক নাদাভ ল্যাপিড ছবির বিষয়বস্তুকে তীব্র আক্রমণ করে অশ্লীল প্রোপাগাণ্ডা রূপে আখ্যায়িত করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে, কাশ্মীর গণহত্যার সার্বিক চিত্র ছবিতে ফুটে ওঠেনি বলেই তাকে বার বার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে।  কোয়েস্ট মলে  নিরাপত্তার অভাব নিয়ে তার  মন্তব্য রাজ্যের সম্প্রীতির পরিবেশকে বিষিয়ে তুলতে পারে। কিছুদিন আগেই রামনবমীর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে  ব্যাপক গোলমাল বেঁধেছিল। যা সামলাতে হিমসিম খেতে হয়েছিল রাজ্য প্রশাসনকে।  তাই এ ধরনের   অপ্রীতিকর মন্তবিতিক ব্যক্তি স্বার্থ সিদ্ধি করতে পারে, কিন্তু সমাজের জন্য বয়ে আনে অশনি সংকেত। রাজ্যের জাগ্রত বিবেক বলে পরিচিত সুশীল সমাজের  এ ব্যাপারে সংশয়াচ্ছন্ন  নীরবতা কেন?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!