Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মার্চ ১৭, ২০২৬

বকেয়া ডিএ মেটাতে নবান্নের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ। আংশিক স্বস্তি সরকারি কর্মচারীদের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বকেয়া ডিএ মেটাতে নবান্নের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ। আংশিক স্বস্তি সরকারি কর্মচারীদের

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) পরিশোধ নিয়ে দীর্ঘ জট কাটাতে অবশেষে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল নবান্ন। সোমবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত অর্থ দপ্তরের এই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বকেয়া ডিএ দেওয়া হলেও তা ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে নয়, আপাতত ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য প্রদান করা হবে।

এই বকেয়া অর্থ দু-কিস্তিতে দেওয়া হবে। প্রথম কিস্তি মিলবে ৩১ মার্চের মধ্যে, আর দ্বিতীয় কিস্তি দেওয়া হবে আগামী সেপ্টেম্বরে। তবে সব কর্মচারী সরাসরি এই অর্থ হাতে পাবেন না। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গ্রুপ ডি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে, কিন্তু গ্রুপ এ, বি এবং সি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই অর্থ তাঁদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (জিপিএফ) অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে। এই টাকা জমা হওয়ার পর দুই বছর পর্যন্ত তোলা যাবে না, যদিও অবসর, পদত্যাগ বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে ওই সময়সীমার আগেই তা তোলা সম্ভব।

অন্যদিকে, পেনশনভোগীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে। তাঁদের বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি চলতি মাসের মধ্যেই সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। ফ্যামিলি পেনশনভোগীরাও একই সুবিধা পাবেন। কলকাতার বাইরে যাঁরা ট্রেজারি থেকে পেনশন নেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ট্রেজারিতে অর্থ পৌঁছাবে, আর কলকাতায় ব্যাঙ্ক মারফত পেনশনপ্রাপ্তরা সরাসরি অ্যাকাউন্টেই টাকা পাবেন। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিভিন্ন বিধিবদ্ধ সংস্থা ও সরকারি আন্ডারটেকিংয়ের কর্মীদের ক্ষেত্রে ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র পরিমাণ আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানাতে হবে। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কীভাবে তাঁদের এই অর্থ প্রদান করা হবে।

যাঁরা ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে কিছু সময় চাকরি করেছেন কিন্তু বর্তমানে চাকরিতে নেই, তাঁরাও তাঁদের কর্মকাল অনুযায়ী বকেয়া ডিএ পাবেন। একইভাবে, কোনও কর্মচারীর মৃত্যু হলে তাঁর বৈধ উত্তরাধিকারী এই প্রাপ্য অর্থ পাবেন। তবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও বিতর্ক থামেনি। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনরত কর্মচারী সংগঠনগুলির প্রশ্ন—কেন ২০০৮ সাল থেকে বকেয়া ডিএ দেওয়া হচ্ছে না? অর্থ দপ্তরের ব্যাখ্যা, ২০১৬ সালের আগে পর্যন্ত কর্মচারীদের সম্পূর্ণ তথ্য সরকারের কাছে নেই। ২০১৬ সালে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এইচআরএমএস) চালু হওয়ার পর থেকেই বেতন সংক্রান্ত তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে, ফলে ওই সময়ের হিসাব করা সহজ।

সরকারি মহলের দাবি, ২০০৮ থেকে ২০১৬ সালের তথ্য সংগ্রহ করতে অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল (এজি বেঙ্গল) থেকে তথ্য আনতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের রায় আগেই হওয়া সত্ত্বেও সরকার আগে থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করেনি কেন। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক উঠেছে জিপিএফে টাকা জমা করা নিয়ে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল বকেয়া ডিএ সরাসরি কর্মচারীদের হাতে দেওয়ার জন্য, কিন্তু সরকার সেই নির্দেশ পুরোপুরি মানছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনকারীরা এই সিদ্ধান্তকে আদালত অবমাননা বলে দাবি করে আবারও শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

অর্থ দপ্তর অবশ্য এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজ্যের আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং কেন্দ্রের কাছ থেকে বকেয়া প্রাপ্য না পাওয়ার বিষয়টিকে দায়ী করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের আর্থিক চাপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, বকেয়া ডিএ নিয়ে আংশিক স্বস্তি মিললেও এখনও বহু প্রশ্নের উত্তর অধরাই রয়ে গেল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!