Advertisement
  • ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
  • নভেম্বর ৮, ২০২২

তপোধীর ভট্টাচার্যকে মৌলানা আজাদ সম্প্রীতি পুরস্কার

সাংস্কূতিক মানচিত্রে হাইলাকান্দির উত্তরণ আরও বাড়ল

বাহার উদ্দিন
তপোধীর ভট্টাচার্যকে মৌলানা আজাদ সম্প্রীতি পুরস্কার

তপোধীর ভট্টাচার্যের পরিচয় একমাত্রিক নয়। কোনও লেখক, শিল্পী, কবি আর প্রথর প্রতিভার পরিচিতি একমুখী হতে পারে না।এমন কি সাধারণ ব্যক্তি বিশেষের এরকম হয় না। সময় আর স্তর ভেদে পরিচয় ঘনঘন বদলাতে থাকে। সংস্কৃত আর ভারতবিদ্যার মেধাবী ছাত্র ও বিদ্যাদাতা তপোধীরের সংস্কৃতি চর্চা শুরু হয়েছিল কবিতা দিয়ে, কখনও কখনও গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ রচনা করে। কলেজে, একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসকের (উপাচার্য) দায়িত্ব নিতে হয়েছিল। তাঁর আমলেই শিলচরের আসাম কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মানববিদ্যার পাঠক্রমে আমূল পরিবর্তন সূচিত হয়। বরাকের দুর্ভাগ্য, তপোধীরের পরিণত বৈদগ্ধের ভার অনেকের কাছে অসহনীয় হয়ে উঠল। উপাচার্য হিসে্বে তাঁর মেয়াদ বৃদ্ধি হল না। এতে কি তপোধীরকে থমকে দেওয়া সম্বব হল ? বরং সমাজে সঙ্ঘটিত যে কোনও অন্যায়ের প্রতিবাদী মুখ হয়ে উঠলেন তিনি। কেবল বয়ানে নয়, লেখালেখিতেও। বরাক যে কয়েকজন জীবিত অথবা প্রয়াত নাগরিকদের জন্য গর্বিতবোধ করতে পারে — অনিল চন্দ, হুরমত আলি বড় লস্কর,সৈয়দ মুজতবা আলী, ময়নূল হক বড়ভূইয়া, গোলাম ওসমানি, শক্তিপদ ব্রক্ষচারী, সুজিত চৌধুরী, ভবতোষ দত্ত, উষারঞ্জন ভট্টাচার্য, রণজিৎ দাশ, নির্মল ভট্টাচার্য এরকম বহুজন।

তপোধীর তাদেরই অন্যতম সাংস্কৃতিক চক্রবর্তী। এরকম কোনও প্রজ্ঞাকে যখন পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়, স্বয়ং পুরস্কার দাতারাই পরোক্ষভাবে সম্মানের অংশীদার হয়ে ওঠেন। এতক্ষণ এতকথা বলতে হল একারণেই যে, বিদ্যাদাতা আর সমাজ সংগঠক তপোধীর ভট্টাচার্যকে, তাঁর নিরলস সাহিত্য সাধনা ও মানব সেবার জন্য মৌলানা আজাদ সম্প্রীতি পুরস্কার দিয়ে, সম্মানিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইলাকান্দির শিক্ষা দিবস উদযাপন কমিটি। এব্যাপারে অন্যরকম অনুষ্ঠান হবে, ১১ নভেম্বর, মৌলানা আবুল কালাম আমাদের ১৩৫তম জন্ম জয়ন্তীতে। এদিন, মৌলানা আজাদের ব্যক্তিপ্রতিভা, শিক্ষা ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে বলবেন অধ্যাপক সঞ্জীব দেব লস্কর, হিলালউদ্দিন লস্কর আর মুজিব স্বদেশি।

হাইলাকান্দি বরাকের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শহর। বহুগুণীর জন্মস্থান। এখানকার আবহমান লোকবৃত্ত, গ্রামীণ চৌহদ্দি থেকে বেরিয়ে, লৌকিকের বৃহত্তরকে, বৃহত্তরের লৌকিক সাধনাকে নিরন্তর স্পর্শ করছে। এরকম এক প্রান্তিক অথচ সমৃদ্ধ শহরে, বহুত্বের সাধক মৌলানা আবুল কালাম আজাদের স্মৃতিতে জাতীয় শিক্ষা দিবসের স্থাপনা আর বিস্তার প্রজন্মকে অতি অবশ্য আলোড়িত করবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!