- প্রচ্ছদ রচনা
- এপ্রিল ২৮, ২০২২
কাশ্মীরে নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে হত ২ খতরনাক জঙ্গি।
সমস্যার সমাধান কোথায়?
আরম্ভর একান্ত বিশ্লেষণ: জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতীয় নিরাপত্তা রক্ষীদের গুলিতে নিহত দুই সন্ত্রাসবাদী। তারা আল বদর বাহিনীর সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ। কাশ্মীরে বিভিনন্ রাজ্যের একাধিক পরিযায়ী শ্রমিকের হত্যায় তাদের হাত ছিল। কাশ্মীর পুলিশের আইজিপি বিজয় কুমার বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, বুধবার উপদ্রুত পুলওয়ামা জেলার মিতরিগাম এলাকায় জঙ্গিদের গোপন আস্তানার সন্ধান পেয়ে নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন। গভীর নির্দিষ্ট লক্ষ্যে হানা দেয় পুলিশ, আধাসেনা ও ফৌজের যৌথবাহিনী। এদের উপস্থিতি টের পেয়েই জহ্গিরা গুলি চালাতে আরম্ভ করে । রাতভোর সহ্ঘর্ষ চলতে থাকে । ভোরের দিকে দুই জঙ্গির লাশ পড়ে থাকেত দেখা যায়। আইজিপি জানিয়েছেন, নিহত জঙ্গিরা আল বদরের সদস্য। তাদের নাম–আইজাজ হাফিজ ও শাহিদ আয়ুব। ঘটনাস্থলে থেকে দু’টি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার হয়েছে।
ভুট্টো আর বেনজির দুজনেই বিশ্বাস করতেন, কাশ্মীর জেনারেলদের হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না ।
সম্প্রতি উপত্যকায় আবার জঙ্গিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আফগানিস্তানে তালিবানের উত্থানের পর কাশ্মীরে জঙ্গিদের তৎপরতা হঠাৎ বেড়ে যায় বিশেষ করে পুলওয়ামা অঞ্চলে। হিজবুল মুজাহিদিনের খতরনাক এরিয়া কমান্ডার বুরহান ওয়ানির হত্যাকাণ্ডের পর ২০১৬ সালে সন্ত্রাসবাদ তুঙ্গে ওঠে। সঙ্ঘর্ষে বহু মানুষ নিহত হন। খতম হয় জঙ্গিরা। বহু নিরীহ ছররা গুলিতে দূষ্টি হারিয়ে ফেলে। একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা সঙ্গে সঙ্গে উপদ্রুত এলাকায় ছুটে যান । প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তখন বিদেশে, দেশে ফিরেই ঘোষণা করে ছিলেন আমরা আমাদের সন্তানদের প্রাণনাশ চাই না। কেন্দ্রীয়মন্ত্রী রাজনাথ সিং নানা কৌশলে শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন । তলে তলে জঙ্গিদের সঙ্গে আলোচনা চলতে থাকে। কিন্তু সব চেষ্টা অজ্ঞাত কারণে ভেস্তে যায়। কালক্রমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে । ভারত কাশ্মীরকে কার্যত দ্বিখণ্ডিত করে দেয়। কাশ্মীরের বিশেষ রক্ষাকবচ ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। লাদাখ স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলের মর্যাদাঅর্জন করে। এরকম জোড়া তালিতে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হয় নি। পাকিস্তান কাশ্মীরের অধিকার নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জ থেকে নানা আর্ন্তজাতিক মঞ্চে লড়াই চালিয়ে যায় বটে কিন্তু আখেরে লাভ হয়নি। কাশ্মীর কাশ্মীরেই ঝুলে রইল । ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সদর্থক আলোচনা ছাড়া কাশ্মীর সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কাশ্মীরী জণগণের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং দুই দেশকে যুদ্ধহীন পরিস্থিতি গড়ে তুলে কাশ্মীদের যে কোনো আলোচনায় শরিক করতে হবে । এটাই আন্তর্জাতিক জনমত আর মানবতার দাবি। কল্যাণেরও রাস্তা। পাকিস্তান আভ্যন্তরিন চাপে বারবার কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপন করে। ভারতও তার নিজস্ব বাধ্যবাধকতায় কীশ্মীর ইস্যুকে চেপে রাখতে পারে না। দুই দেশ চিনার মাটির দখলের স্বপ্ন নিয়ে অন্তত তিন বার যুদ্ধ করেছে। রক্তক্ষয় হয়েছে। নিটফল শূন্য। এই শূন্যতারই সুযোগ নিচ্ছে বহুমুখী জঙ্গি ও উগ্রজাতীয়তাবাদীরা। আধুনিক পৃথিবীতে যুদ্ধ কিংবা হিংসার পথে যে কোনো সমস্যার সমাধান অসম্ভব। ৭৫ বছরের কাশ্মীরের ইতিহাসের চাইতে এর চেয়ে বড়ো দৃষ্টান্ত আর কী হতে পারে?
❤ Support Us








