- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ২২, ২০২৬
সিকিমে সুড়ঙ্গ ধসে মৃত বেড়ে ২০, এখনও আটকে বহু, শুভেন্দুর নির্দেশে ঘটনাস্থলে ২ বিধায়ক
সিকিমের নামচি জেলার সামারদুং এলাকায় তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২০-তে পৌঁছেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের সংখ্যা বাড়ছে। তবে এখনও সুড়ঙ্গের ভিতরে আরও কয়েকজন শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল সুড়ঙ্গের ভিতরে আরও পাঁচ থেকে ছয়টি মৃতদেহের সন্ধান পেলেও জল-কাদা ও বিষাক্ত গ্যাসে ভরা পরিবেশের কারণে সেগুলি এখনও বাইরে আনা সম্ভব হয়নি।
প্রশাসনের দাবি, মিথেন গ্যাসে ভরা সুড়ঙ্গের ভিতরে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অক্সিজেন মাস্ক ছাড়া উদ্ধারকারীরা ভিতরে প্রবেশ করতে পারছেন না। ইতিমধ্যেই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া কয়েকজন উদ্ধারকর্মী মিথেন গ্যাসের প্রভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফলে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-এর সদস্যদের জন্যও উদ্ধার অভিযান বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সুড়ঙ্গের ভিতরে মিথেন গ্যাস জমে থাকার পর গ্যাস লিক থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের জেরে সুড়ঙ্গের একাংশ ধসে পড়ে এবং প্রবেশপথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলেই বহু শ্রমিক ভিতরে আটকে পড়েন।
এই দুর্ঘটনায় মৃত শ্রমিকদের মধ্যে ১১ জন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের সকলেরই বাড়ি জলপাইগুড়ি জেলায় এবং তাঁদের মধ্যে ৯ জন মালবাজার এলাকার বাসিন্দা। প্রশাসনের আশঙ্কা, এখনও সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের মধ্যেও বাংলার আরও কয়েকজন থাকতে পারেন।
ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিধানসভায় তিনি জানান, নাগরাকাটার বিধায়ক পুনা ভেংরা এবং কালচিনির বিধায়ক বিশাল লামা-কে অবিলম্বে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা উদ্ধারকাজের উপর নজর রাখবেন এবং নিয়মিত পরিস্থিতির আপডেট দেবেন। পাশাপাশি তিনি জানান, সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং-এর সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে এবং প্রয়োজনে উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিমান পাঠানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আগে রাজ্য সরকারের বিমান শুধুমাত্র একজন ‘সম্রাজ্ঞী’-র ব্যবহারের জন্য ছিল, এখন প্রয়োজনে সেটি উদ্ধারকাজে ব্যবহারের জন্য সিকিমে পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি জানান, মৃত শ্রমিকদের মরদেহ তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। প্রত্যেক মৃতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের একজন সদস্যকে সিভিক ভলান্টিয়ার পদে নিয়োগের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। যদিও তিনি স্পষ্ট করেন, কোনও আর্থিক ক্ষতিপূরণই একটি প্রাণহানির প্রকৃত ক্ষতিপূরণ হতে পারে না।
দুর্ঘটনার পর সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং মৃতদের পরিবারের জন্য ৪ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।
উদ্ধার অভিযান এখনও জোরকদমে চলছে। তবে সুড়ঙ্গের ভিতরে জমে থাকা মিথেন গ্যাস, জল-কাদা এবং ধসে পড়া অংশের কারণে উদ্ধারকারীদের প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে। প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য এখন দ্রুত আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার করা এবং নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া।
❤ Support Us






