Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ১৩, ২০২৫

জম্মু-কাশ্মীরের শোপিয়ানে খতম ৩ জঙ্গি, চলছে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযান

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জম্মু-কাশ্মীরের শোপিয়ানে খতম ৩ জঙ্গি, চলছে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযান

জম্মু ও কাশ্মীরের শোপিয়ানের জিনপথার কেল্লা এলাকায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ৩ জঙ্গি। সূত্র অনুযায়ী, আরো একজন জঙ্গি এই এলাকায় লুকিয়ে থাকতে পারে, তার খোঁজে যৌথ বাহিনীর জওয়ানরা জোরদার অভিযান চালাচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। কুলগামে শুরু হয় সংঘর্ষ। এরপর, জঙ্গিরা শোপিয়ানের জঙ্গলে আত্মগোপন করার চেষ্টা করে। ভারতীয় সেনাবাহিনী আর আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যরা প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াই করছে। নিহতদের মধ্যে একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলে সেনা সূত্রে খবর।

পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর, ভারতের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, এখন থেকে যে কোনো সন্ত্রাস হামলাকে ‘যুদ্ধ’ বলে চিহ্নিত করে উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে। ভারতীয় সেনা পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামোর ওপর বিমান হামলা চালিয়ে জঙ্গি ডেরা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানের সামরিকবাহিনী ভারতের বেসামরিক ও সেনাছাউনিতে আক্রমণ শুরু করলে পাল্টা জবাব দিয়েছে ভারত। লাগাতার ৪ দিন যুদ্ধপরিস্থিতির পর, শনিবার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে রাজি হয় দুই দেশ। গতকাল রাতে, জাতির উদ্দেশে ভাষণে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে নতুন সূচনা করল। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ভারতীয় উয়পমহাদেশে ‘নতুন স্বাভাবিকতা” প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এরপর যদি ভারতে সন্ত্রাসী হামলা হয়, তাহলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। আমরা আমাদের শর্তে উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দেব। সন্ত্রাসের শিকড় উপরে ফেলা হবে। সন্ত্রাসীদের গোপন আশ্রয়ে নির্দিষ্ট ও সিদ্ধান্তমূলক আঘাত হানা হবে। সন্ত্রাসবাদে সাহায্যকারী কোনো গোষ্ঠী বা সরকারের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হবে না।’ ভারত আর কোনো পারমাণবিক ব্ল্যাকমেল সহ্য করবে না বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

পহেলগাঁও কাণ্ডের পর দু’সপ্তাহ পেরিয়ে গিয়েছে, এখনও হামলাকারী জঙ্গিদের হদিস মেলেনি। তদন্তকারীরা আগেই আশঙ্কা করেছিলেন, পহেলগাঁও কাণ্ডের জঙ্গিরা দক্ষিণ কাশ্মীরের কোথাও লুকিয়ে রয়েছে। তাদের খোঁজে উপত্যকা জুড়ে তল্লাশি শুরু হয়। এরই মধ্যে এই কাণ্ডে জড়িত ৩ জঙ্গির ছবি ছাপিয়ে দক্ষিণ কাশ্মীরের শোপিয়ানের সর্বত্র পোস্টার সাঁটায় যৌথবাহিনী। জঙ্গিদের হদিস দিতে পারলে ২০ লক্ষ নগদ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি আদিল হোসেন থোকর, আলি ভাই এবং হাসিম মুসার ছবি দেওয়া হয় সেই পোস্টারে। পহেলগাঁও হামলার জন্য এঁদের হাত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। হামলার কয়েকদিন পর, জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন ২৫ এপ্রিল বেজবাড়াতে থোকরের বাড়ি আইইডি দিয়ে উড়িয়ে দেয়। তাঁকে পাকিস্তানি জঙ্গিদের পহেলগাম হামলার পরিকল্পনা করতে সাহায্য করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। ২০১৮ সালে থোকর পাকিস্তানে গিয়েছিল, গত বছর কাশ্মীরে ফিরে আসে সে। জঙ্গিদের সহযোগিতা করার অভিযোগে ইতিমধ্যেই কাশ্মীর উপত্যকার বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে একশোরও বেশি স্থানীয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূলত তাঁরা জঙ্গিদের ‘ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার’ হিসাবে কাজ করতেন। এ রকম আরও কারা এই ঘটনায় জড়িত, সেই খোঁজও চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

উল্লেখ্য, পহেলগাঁও কাণ্ডের পর গত ৭ মে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রত্যাঘাতে নামে ভারতীয় সেনা। অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’। জইশ, লস্কর জঙ্গিদের ৯ টি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ভারতীয় সেনা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামোর ওপর বিমান হামলা চালানো হয়েছে কিন্তু পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে ভারী গোলাবর্ষণ করে, হামলায় ১৫-এর বেশি বেসামরিক নাগরিক ও ৩ জন সেনা-জওয়ান নিহত হন। তবে পাকিস্তানের চালানো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বেশিরভাগই ভারতীয় বিমান প্রতিরক্ষা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। পাল্টা জবাবে, ভারত পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনার ওপর আক্রমণ চালিয়ে তাদের প্রধান বিমানঘাঁটিগুলিতে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। ১০ মে, দুদেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়।তবে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তান সেনার সমস্ত গতিবিধির উপর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতের সেনাপ্রধানরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, এরপর কোনো প্রকার অনুপ্রবেশ ঘটলে বা হামলা চালানো হলে, তৎক্ষণাত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!