- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ১, ২০২৫
আজমেরের বিলাসবহুল হোটেলে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড, নিহত ৪। শিশুর প্রাণ বাঁচাতে ৩ তলা থেকে নিচে ছুঁড়ে দিলেন মা
রাজস্থানের আজমেরে একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন চারজন, আহত অন্তত ৮। আতঙ্কের মধ্যে শিশুকে বাঁচাতে মায়ের তিনতলা থেকে ছুঁড়ে দেওয়ার দৃশ্য নাড়া দিয়েছে গোটা দেশকে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজস্থানের আজমেরের ডিগ্গি মার্কেট এলাকার একটি বহুজনাবাসী হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে চারজনের, যার মধ্যে রয়েছে এক কিশোর। আহত হয়েছেন আরো আটজন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জানা যাচ্ছে, সকাল ৮টা নাগাদ হোটেল নাজ থেকে হঠাৎ করে ঘন ধোঁয়া বের হতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সঙ্গে সঙ্গে হোটেল কর্মীদের সতর্ক করে খবর দেওয়া হয় দমকল ও পুলিশে। ঘটনাস্থলে একাধিক দমকল ইঞ্জিন পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। হোটেলটি ঘিঞ্জি এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে।
আগুন ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্কে হোটেলের তৃতীয় তলা থেকে ঝাঁপ দেন কয়েকজন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক মহিলা তাঁর শিশুকে প্রাণে বাঁচাতে জানালা দিয়ে ফেলে দেন। সূত্র অনুযায়ী, শিশুটির শরীর হালকা পুড়ে গেলেও, প্রাণে বেঁচে গেছে সে। হোটেলের অতিথিরা জানান, ‘এক মহিলা তাঁর শিশুকে আমার কোলে ছুড়ে দেন জানালা থেকে। তিনি নিজেও লাফ দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু আমরা তাকে আটকাই।’ নেহরু মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ অনিল সামারিয়া জানান, এক কিশোর সহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৫ জনের শরীর আগুনে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন এক মহিলা দমকলকর্মীও। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। হোটেলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে ।এখনো পর্যন্ত হোটেল থেকে ১৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই হোটেল থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বেরোচ্ছে। এক ভিডিওতে ২ জন আগুন থেকে বাঁচতে জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসছেন। প্রথমে একজন পাশের বিল্ডিংয়ে লাফ দিয়ে নিরাপদে নামেন। এরপর আরেকজন দড়ি ধরে নামার চেষ্টা করেন, কিন্তু দড়ি ছিঁড়ে পড়ে যান মাটিতে। ঘটনার সময় হোটেলে ১৮ জন ছিলেন, যাঁরা দিল্লি থেকে অজমেরে তীর্থ করতে এসেছিলেন। জেলা সহ-প্রশাসক গজেন্দ্র সিং রাঠোর জানিয়েছেন, ‘উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে, আর কেউ হোটেলের ভিতরে নেই। হোটেল ম্যানেজার জেরায় বলেছেন, ইলেকট্রিক প্যানেল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল, দ্রুত তা হোটেলের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে।’ জেলার অতিরিক্ত এসপি হিমাংশু জাঙ্গিড জানান, ‘হোটেলের ঢোকার রাস্তা অত্যন্ত সরু হওয়ায় উদ্ধার কাজে সমস্যা হয়েছে।’ ওই ঘিঞ্জি এলাকায় এমন হোটেলের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ভারতী শ্রীবাস্তব জানান, সকাল ৭:৪৫ মিনিটে আগুন লাগে এবং মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে পুরো হোটেল আগুনের গ্রাসে চলে যায়। তিনি বলেন, ‘এই হোটেলগুলি বহু বছর ধরেই এরকম ঘিঞ্জি এলাকায় চলছে। এত সংকীর্ণ জায়গায় তাদের হোটেল তৈরির অনুমতি দেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ হয়নি । এখানে রাস্তা এতটাই সরু যে, দমকল বাহিনী ঠিকভাবে পৌঁছাতে পারেনি।’
❤ Support Us





