- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ২১, ২০২৬
আরজিকর কাণ্ডে নতুন মোড়, ফের সিট গঠনের নির্দেশ হাই কোর্টের
কলকাতা হাইকোর্ট আবারও নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিল সি বি আই -কে । আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুন মামলায় তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই সিট গঠন করতে হবে এবং তদন্ত চলবে সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তার নেতৃত্বে।
হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ঘটনার রাত থেকে শুরু করে শেষকৃত্য পর্যন্ত পুরো ঘটনাক্রম নতুন করে খতিয়ে দেখতে হবে। আগামী ২৫ জুন মামলার পরবর্তী শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট আদালতে জমা দেবে সিবিআই।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট রাতে আরজিকর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসক নাইট শিফটে যোগ দিতে হাসপাতালে যান। অভিযোগ, সেই রাতেই হাসপাতালের সেমিনার হলে তাঁকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় রাজ্যজুড়ে। প্রথমে তদন্ত শুরু করে Kolkata Police এবং সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে।
তদন্ত চলাকালীন আর কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি সিবিআই। পরবর্তীতে শিয়ালদহ আদালত অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে এবং তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয়। কিন্তু এই তদন্তে সন্তুষ্ট নন নিহত চিকিৎসকের পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, এই ঘটনার সঙ্গে আরও অনেকেই জড়িত থাকতে পারে, যাদের নাম এখনও সামনে আসেনি।
এদিকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আরজিকর কাণ্ড রাজনৈতিকভাবেও বড় ইস্যু হয়ে ওঠে। বিজেপির তরফে বারবার দাবি করা হয়, ক্ষমতায় এলে নতুন করে তদন্ত করা হবে। সুবিচারের দাবিতে নিহত চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ পানিহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনে লড়েন।
ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফের আরজিকর মামলার ফাইল খোলার নির্দেশ দেন। ইতিমধ্যেই তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখবেন, ঘটনার সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বা কোনও মন্ত্রীর তরফে পুলিশ প্রশাসনকে ফোন বা মেসেজের মাধ্যমে কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
হাইকোর্ট আরও প্রশ্ন তোলে, ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর চার্জশিট দাখিলের পর গত ১ বছর ৭ মাসে সিবিআই ঠিক কী কী তদন্ত করেছে। এর জবাবে সিবিআই আদালতে জানিয়েছে, তারা ৭০ থেকে ৮০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে।
এখন নজর নতুন গঠিত সিটের দিকে। আদালতের নির্দেশে শুরু হওয়া এই নতুন তদন্তে আর কী তথ্য সামনে আসে এবং ঘটনার নেপথ্যে আরও কারও যোগের প্রমাণ মেলে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।
❤ Support Us






