Advertisement
  • দে । শ
  • মে ৩০, ২০২৬

মাটির অভাবে থমকে প্রতিমা তৈরির কাজ! এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম কুমোরটুলির, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মাটির অভাবে থমকে প্রতিমা তৈরির কাজ! এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম কুমোরটুলির, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

শারদোৎসবের ঢাকে কাঠি পড়তে এখনো বহুদিন বাকি। কিন্তু তার আগের কয়েক মাস চরম ব্যস্ততার মধ্যে কাটে কুমোরটুলির গলিতে। সেখানেই উদ্বেগের কালো মেঘ ঘনিয়েছে। প্রতিমা তৈরির প্রধান উপকরণ এঁটেল মাটির সঙ্কটে কার্যত থমকে যাওয়ার মুখে উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী পটুয়াপাড়া। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সমিতি।

সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছেবিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় বিধায়ককেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধানের আশ্বাস মেলেনি। ফলে শিল্পীদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবু পাল বলেন, ‘আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি। প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু মাটি না থাকায় পরবর্তী ধাপ এগোচ্ছে না। কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে গোটা কুমোরটুলির কাজ অচল হয়ে পড়বে।’ তাঁর দাবিইতিমধ্যেই কয়েকটি প্রতিমার বরাত বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন কিছু শিল্পী।

কুমোরটুলি সূত্রে জানা গিয়েছেপ্রতি বছর দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারক্যানিংফলতাবিষ্ণুপুর-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে লরি করে বিপুল পরিমাণ এঁটেল মাটি আসে। পাশাপাশি হাওড়ার উলুবেড়িয়া থেকেও নৌপথে মাটি পৌঁছয় কুমোরটুলি ঘাটে। সে মাটির উপরই নির্ভর করে প্রতিমা নির্মাণের বিশাল শিল্পভিত্তি। কিন্তু এ বছর হঠাৎ করেই দুদিক থেকেই সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মৃৎশিল্পীদের একাংশের বক্তব্যসাম্প্রতিক প্রশাসনিক কড়াকড়ির জেরে বিভিন্ন এলাকায় মাটি কাটার কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা মাটি সরবরাহ করতেনতাঁদের অনেকেই এখন আর সে কাজে যুক্ত হতে চাইছেন না। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে।

শিল্পীদের অভিযোগসমস্যার গভীরতা সম্পর্কে প্রশাসন এখনো যথেষ্ট তৎপরতা দেখায়নি। তাঁদের কথায়, ‘পুজোর আগে এ সময়টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখনই প্রতিমার গায়ে প্রথম ও দ্বিতীয় প্রলেপের কাজ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু মাটি না থাকলে কাঠামো আর খড়ের কাজের বাইরে এগোনো সম্ভব নয়।’ কুমোরটুলির বনমালী সরকার স্ট্রিটকুমোরটুলি স্ট্রিটরবীন্দ্র সরণি-সহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, শিল্পীরা আপাতত কাঠামো বাঁধাবাঁশ কাটা কিংবা খড়ের কাজ নিয়েই ব্যস্ত। কিন্তু কর্মশালাগুলিতে চেনা মাটির গন্ধ উধাও। কোথাও কোথাও মজুত মাটির শেষ অংশটুকু বাঁচিয়ে কাজ চালানোর চেষ্টা চলছে। অনেক ছোটো শিল্পীর ঘরে আবার মাটির ভাঁড়ার শূন্য।

মাটি সঙ্কটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে শ্রমিকদের উপরেও। প্রতি বছর জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু কারিগর ও সহকারী শিল্পী কাজের সন্ধানে কুমোরটুলিতে আসেন। মাটি না থাকায় কাজের গতি কমে যাওয়ায় তাঁদের রোজগার নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। শিল্পীদের আশঙ্কাদীর্ঘ দিন কাজ না থাকলে অনেক শ্রমিক অন্যত্র পাড়ি দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে পরে মাটি এলেও দক্ষ জনবলের অভাব দেখা দিতে পারে। মৃৎশিল্পীদের দাবিদুর্গাপুজোর প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষা পুরোপুরি নেমে পড়ার আগেই প্রতিমা তৈরির অনেকটা কাজ শেষ করে ফেলতে হয়। সে নিরিখে এখনকার অচলাবস্থা ভবিষ্যতে আরও বড়ো সমস্যার জন্ম দিতে পারে।

সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছেআগামী সপ্তাহের মধ্যে মাটি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তাঁদের বক্তব্যএটি শুধুমাত্র কুমোরটুলির সমস্যা নয়। দুর্গাপুজোকে ঘিরে গড়ে ওঠা বিশাল অর্থনীতিহাজার হাজার শিল্পী-শ্রমিকের জীবিকা এবং রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গেও বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!