- দে । শ
- জুন ১, ২০২৬
মেসিকাণ্ডে গ্রেফতারির আশঙ্কা, আগাম জামিনের আবেদনে আদালতের দ্বারস্থ তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাস
আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি-র কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার ঘটনায় নতুন মোড় । ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া এফআইআরের জেরে গ্রেফতারির আশঙ্কায় এবার আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে বারাসত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ।
উল্লেখ্য, মেসির সফরের আয়োজক শতদ্রু দত্তকে এর আগেই গ্রেফতার করেছিল পুলিশ । পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। মুক্তির পর শতদ্রুই অরূপ বিশ্বাস-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন । সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গত শনিবার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় এফআইআর রুজু হয় ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার মোট পাঁচটি ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে । ধারাগুলি হল— অভিন্ন উদ্দেশ্যে অপরাধ সংঘটন (ধারা ৩(৫)), তোলাবাজি (ধারা ৩০৮(২)), প্রতারণা (ধারা ৩১৮(৪)), অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন (ধারা ৩৫১(২)) এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (ধারা ৬১(২))।
এফআইআর দায়েরের বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন শতদ্রু দত্ত নিজেই । সমাজমাধ্যমে তিনি এই তথ্য জানিয়ে বিরোধী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামানিক এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে ধন্যবাদ জানান ।
শতদ্রুর অভিযোগ, মেসির অনুষ্ঠান উপলক্ষে তাঁর কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক টিকিট দাবি করেছিলেন অরূপ বিশ্বাস । টিকিট না দিলে কিংবা তাঁর নির্দেশ অমান্য করলে অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ । আয়োজকের দাবি, প্রায় ২২ হাজার ‘কমপ্লিমেন্টারি’ টিকিট নেওয়া হয়েছিল এবং পরে সেগুলির একটি বড় অংশ কালোবাজারিতে বিক্রি করা হয় ।
এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, অনুষ্ঠানের দিন যুবভারতীতে অতিরিক্ত ভিড়ের অন্যতম কারণ ছিল রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠদের অবাধ প্রবেশ । সেই কারণে বহু বৈধ টিকিটধারী দর্শক মাঠে ঢুকতে পারেননি কিংবা মেসিকে দেখতে ব্যর্থ হন । বিশৃঙ্খলার জেরে শেষ পর্যন্ত মেসি ও তাঁর সঙ্গীদের নির্ধারিত কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল বলে অভিযোগ ।
শতদ্রু দত্তের দাবি, অরূপ বিশ্বাস-সহ প্রশাসনের কয়েক জনের ভুল সিদ্ধান্ত ও হস্তক্ষেপের কারণেই গোটা অনুষ্ঠান কার্যত ভেস্তে যায় । অনুমতি ছাড়াই বহু মানুষ মাঠে প্রবেশ করেছিলেন, যার ফলে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে ।
তদন্ত চলাকালীন সময়ে মেসিকাণ্ডে নিজের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস । পরবর্তীতে তিনি ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকেও সরে দাঁড়ান । আদালতে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক টিকিট কেটে অনুষ্ঠান দেখতে এসেছিলেন এবং টিকিট বিক্রি থেকে প্রায় ১৯ কোটি টাকা আয় হয়েছিল ।
এদিকে, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিষয়টি আবারও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে । তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করে সরকার গঠন করেছে বিজেপি । এর পরেই মেসিকাণ্ডের তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলি ফের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ।
❤ Support Us






