- দে । শ
- জুন ১৫, ২০২৬
মমতা-কংগ্রেস সমীকরণে নতুন জল্পনা ! ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আমন্ত্রণ
ভোটের ফলাফল এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস — দুই দলকেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এরই মধ্যে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একান্ত বৈঠক এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবিষ্যতে তাঁর দলকে কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত করবেন কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই আবহে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিধানভবনের বাইরে শহিদ মিনারে ‘শহিদ তর্পণ’ কর্মসূচি আয়োজন করতে চলেছে তারা। রাজ্য নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
কংগ্রেস সূত্রের দাবি, বর্তমানে কোনও বড় নির্বাচন সামনে না থাকলেও সংগঠনকে একজোট করে ২১ জুলাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগম ঘটাতে পারলে রাহুল গান্ধীর কলকাতায় আসার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হতে পারে।
উল্লেখ্য, কলকাতায় শেষ সফরে রাহুল গান্ধী তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, বিরোধী নেতাদের মতো তাঁকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির দীর্ঘ জেরা, বাড়ি কেড়ে নেওয়া বা অন্য ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়নি কেন। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ ছিল, তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির কারণেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানের পথ প্রশস্ত হয়েছে।
ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তৃণমূলের অন্দরেও অস্বস্তি বেড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তদন্ত সংস্থার চাপ, দলের ভিতরে বিভিন্ন গোষ্ঠীর সক্রিয়তা এবং একাধিক পুরনো নেতার কংগ্রেসে ফেরার আগ্রহ—এসবই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে প্রদেশ কংগ্রেস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ কোনওভাবেই ‘যোগদান মঞ্চ’ হবে না। অতীতে তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে যেমন একাধিক রাজনৈতিক নেতার দলবদলের ঘোষণা দেখা গিয়েছিল, সেই ছবি এ বার শহিদ মিনারের কংগ্রেস মঞ্চে দেখা যাবে না।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, “২১ জুলাই যুব কংগ্রেসের ডাকে যে শহিদ তর্পণ হবে, তার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। এআইসিসির সর্বোচ্চ নেতৃত্বকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গোটা রাজ্যের সংগঠন ওই দিন একজোট হয়ে শহিদ তর্পণে অংশ নেবে।”
একইসঙ্গে তিনি জানান, কংগ্রেসের দরজা সকলের জন্য খোলা থাকলেও ওই দিনের মঞ্চে দলভুক্তির কোনও অনুষ্ঠান হবে না। তাঁর কথায়, “বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ লড়াইয়ে যে কেউ কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। তা ২১ জুলাইয়ের আগে বা পরেও হতে পারে, কিন্তু শহিদ তর্পণের মঞ্চে নয়।”
এদিকে রবিবার শহিদ মিনারে একটি রক্তদান শিবিরে অংশ নেওয়ার পর প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের একটি ভিন্ন ছবি সামনে আসে। শ্যামবাজারে ব্যক্তিগত কাজ সেরে ফেরার পথে তিনি আচমকাই একটি সাধারণ যাত্রীবাহী বাসে উঠে পড়েন। সঙ্গে থাকা কর্মীরা প্রথমে বিস্মিত হয়ে পড়েন। পরে জানা যায়, সেদিন তিনি নিজের দুই চালককেই ছুটি দিয়েছিলেন। দলের মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরী তাঁর বাসযাত্রার ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন। এরপর কংগ্রেসের অন্দরে শুভঙ্কর সরকারের সহজ-সরল জীবনযাত্রা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।
❤ Support Us






