- দে । শ
- জুন ১৬, ২০২৬
কাটোয়া হাসপাতালে কর্মী বিক্ষোভ
কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে কর্মরত ২০ জন রোগী সহায়কের মধ্যে ১২ জনের কাজ বাতিল করা হয়েছে। কর্মহীন মহিলারা কাজ ফিরে পেতে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে হাতে প্লাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখান। কাজে ফেরানোর দাবি নিয়ে হাসপাতালের সুপারের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বাদানুবাদ শুরু হয়। শেষমেশ কোনো সুরাহা না হওয়ায় হতাশ কর্মচ্যুত গৌরী দাস, হাবিবা মল্লিকরা। জানা গেল, দীর্ঘদিন ধরে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সহায়ক কর্মী হিসেবে কাজ করে আসার পর গত ১৯ মে হাসপাতালের সুপার ১২ কর্মীকে কাজে আসতে নিষেধ করেন। কর্মচ্যুত সহায়ক কর্মীদের অভিযোগ, যে ৮ জনকে বহাল রাখা হয়েছে তাদের অনেকেই অযোগ্য। আর যাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তারা যোগ্য ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তারা মনে করেন, ‘যে ৮ জনকে রাখা হয়েছে, হয় তাদের রাজনৈতিক রঙ দেখা হয়েছে, না হয় আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের অগস্ট মাসে হাসপাতালে রোগী সহায়ক কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে কাটোয়া পুরসভা অনুমোদিত স্বনির্ভর গোষ্ঠী ‘অজয় কল্যাণ সমিতি’র সঙ্গে স্বাস্থ্য দপ্তরের চুক্তি হয় যে, পুরসভা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ৮ জন কর্মী নিয়োগ করবে মাসিক ৯৬ হাজার টাকায়। কিন্তু ৮ জনের বদলে একই টাকায় ২০ জনকে রোগী কল্যাণ সহায়ক কর্মী হিসেবে নিয়োগ করা হয়। ৮ জনের বেতন ২০ জনের মধ্যে বন্টন করা হত। গত ১৯ মে স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশে ৮ জন সহায়ক কর্মী রেখে বাকিদের হাসপাতালে কাজে আসতে নিষেধ করেন সুপার বিপ্লব মণ্ডল। এতেই শুরু হয় বিপত্তি। কাজ হারানো ১২ কর্মীর বক্তব্য, আমরা যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও আমাদের বাদ দিল কেন? যে ৮ জনকে রাখা হয়েছে, তারা অনেকে মাধ্যমিক পাশই করেনি, কারও এসআইআর-এ নাম বাদ গেছে, কারও প্রশিক্ষণ নেই।
হাসপাতালের সুপার বিপ্লব মণ্ডল জানান, ‘স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে পুরসভার চুক্তি ছিল ৮ জন সহায়ক কর্মী দেবেন। কিন্তু পুরসভা ২০ জনকে কর্মীকে কাজে পাঠিয়েছিল। স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী পরিচয়পত্র ছাড়া হাসপাতালের ভিতরে কেউ কাজ করতে পারবেন না। সেই কারণে অননুমোদিত কর্মীদের কাজে আসতে নিষেধ করা হয়েছে।’ এখন প্রশ্ন উঠছে, ২০ জনের মধ্যে যোগ্য ৮ জনকে বাছল কে ? অজয় কল্যণ সমিতির সম্পাদক ঝর্ণা দত্ত বলেন, ‘কারও নিয়োগপত্র নেই। ৮ জনের তালিকা আমি পাঠাইনি। পুরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিক সব জানেন। আমরা আর এই চুক্তি রাখতে চাইছি না।’ পুরসভার এ ব্যাপারে নীরব। হাসপাতাল সূত্রের খবর, কাজ হারানো কর্মীদের পুরসভা যাতে অন্য কাজে নিয়োগ করে, রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে তেমন প্রস্তাবই দেওয়া হয়। পুরসভায় বারবার গিয়ে কোনো সমাধান না মেলায় কর্মহীন সহায়ক কর্মীরা হাসপাতাল সুপারের দ্বারস্থ হয়েছেন।
❤ Support Us






