Advertisement
  • দে । শ
  • জুলাই ৯, ২০২৬

পূর্বস্থলীর নতুনগ্রামের দারুশিল্পকে জিআই স্বীকৃতি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পূর্বস্থলীর নতুনগ্রামের দারুশিল্পকে জিআই স্বীকৃতি

কাঠের কেষ্ট। কাঠের রাধা। আর কাঠের প্যাঁচা। দারুশিল্পের এই তিন সৃষ্টিই জগৎজোড়া খ্যাতি এনে দিয়েছে পূর্বস্থলীর নতুনগ্রামকে। গ্রামের দারুশিল্পকে সাধারণের সামনে তুলে ধরতে উদ্যোগী হয়েছে ইউনেস্কোও। সেই দারুশিল্পকর্মের মুকুটে জুড়ল নয়া পালক। মিলল জিআই স্বীকৃতি। খুশি সংশ্লিষ্ট পূর্বস্থলী উত্তরের বিজেপি বিধায়ক গোপাল চ্যাটার্জি জানান, ‘এখানকার শিল্পীদের সৃজনকর্মের প্রচার বাড়ানো ও বিপণনের জন্য জিআই স্বীকৃতি অনেকটাই কার্যকর হবে।’

উল্লেখ্য যে, এখানকার শিল্পকর্মকে বড় পরিসরে বিপণনের জন্য অনলাইনে বিক্রিরও ব্যবস্থা রয়েছে। সবমিলিয়ে ১৫০ জন শিল্পী রয়েছে গ্রামে। তাঁরা কাঠের তৈরি রাধা-কৃষ্ণ, রাম-সীতা, প্যাঁচা, রাজা-রানি-সহ বিভিন্ন ধরনের পুতুলের পাশাপাশি কাঠের তৈরি খাট, টেবিল-চেয়ার, টুল-সহ নানান আসবাবপত্র, গহনা তৈরি করেন। এইসব শিল্পসামগ্রী নির্মাণে মূলত শিমুল, গামার, মেহগনি ও সোনাঝুরি কাঠ ব্যবহার করা হয়। এই নির্মাণ শুধু শিল্পকর্মই নয়, লোকসংস্কৃতিরও অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এখানকার সৃষ্ট শিল্পকর্মগুলির গঠনশৈলি ও রঙের ব্যবহার স্বতন্ত্র। সবকিছুর মধ্যেই চোখে পড়ে লোকগাথা ও ধর্মবিশ্বাসের প্রতিফলন।

এখানকার দারুশিল্পের খ্যাতি ছড়ায় শম্ভুনাথ ভাস্করের হাত ধরে। ১৯৬৫ সালে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পান এই শিল্পী। বর্তমান প্রজন্মের নামী শিল্পী মানিক সূত্রধর, গৌর সূত্রধররা খুশি তাঁদের শিল্পের প্রচার, প্রসার ও বিপণনে রাজ্য সরকারের তৎপরতায়। বললেন, ‘এখানকার প্রশাসন সবসময় আমাদের পাশে থাকে। প্রয়োজনে ঋণ পাই। খরিদ্দারদের রুচির কথা মাথায় রেখে আমরা এখন আমাদের শিল্পভাবনাকে আসবাবপত্রেও কাজে লাগাচ্ছি। ফলে চাহিদাও বাড়ছে। বছরভরই বিক্রিবাটা হচ্ছে। বিশ্ববাংলার স্টলগুলিতেও আমাদের শিল্পকর্মগুলির ঠাঁই মিলেছে।’

জিআই স্বীকৃতি মেলায় এখানকার দারুশিল্পের আইনি সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক বাজার সুনিশ্চিত হবে। এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থা সমৃদ্ধ হবে। শিল্পীরা ন্যায্য দর পাবেন। নতুন প্রজন্ম এই শিল্পকর্ম তৈরিতে উৎসাহ পাবে। সবার উপরে নতুনগ্রাম দিনে দিনে সাংস্কৃতিক পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!