Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুলাই ১৪, ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে বড় রদবদল: সিআইডি থেকে টেলিকমিউনিকেশনে সুপ্রতিম, অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখার প্রধান জয়রামন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে বড় রদবদল: সিআইডি থেকে টেলিকমিউনিকেশনে সুপ্রতিম, অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখার প্রধান জয়রামন

রাজ্যে এক দফায় ৩৩ জন আইপিএস ও ডব্লিউবিপিএস (WBPS) অফিসারকে বদলি করল নবান্ন। এই রদবদলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে সিআইডি-র অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এডিজি) পদ থেকে সরিয়ে টেলিকমিউনিকেশন শাখার এডিজি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সে কর্মরত আইপিএস অফিসার প্রবীণ ত্রিপাঠীকেও অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হোমগার্ডের আইজি পদে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখা (ডিরেক্টরেট অফ ইকোনমিক অফেন্সেস)-এর প্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে ১৯৯৭ ব্যাচের আইপিএস অফিসার কালিয়াপ্পন জয়রামনকে। তৃণমূল সরকারের আমলের বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্তে তাঁর ভূমিকা ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহলে বিশেষভাবে আলোচিত।

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সুপ্রতিম সরকারকে কলকাতার পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে সিআইডি-র এডিজি করা হয়েছিল। পরে তিনি তামিলনাড়ুতে নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ রদবদলে তাঁকে টেলিকমিউনিকেশন শাখায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার ত্রিপুরারি অথর্বকে সরিয়ে ট্রাফিক ও সড়ক নিরাপত্তা দফতরের এডিজি করা হয়েছে। তাঁর পরিবর্তে বিধাননগরের নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন অমিতকুমার রাঠৌর। এতদিন তিনি রায়গঞ্জ রেঞ্জের ডিআইজি পদে কর্মরত ছিলেন।

রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল আমলের কথিত ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি’ নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছেন। সেই অভিযোগগুলির তদন্তে কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে। ওই কমিশনের সদস্য-সচিব করা হয়েছিল আইপিএস কালিয়াপ্পন জয়রামনকে।

পুলিশ মহলের একাংশের মতে, জয়রামন অত্যন্ত কঠোর ও পেশাদার অফিসার হিসেবে পরিচিত। অতীতে তিনি শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন পর্ষদের দুর্নীতির তদন্তের নেতৃত্ব দেন। ২০১৩ সালে শিলিগুড়ির তৎকালীন পুলিশ কমিশনার থাকাকালীন তিনি পর্ষদের প্রাক্তন সিইও তথা আইএএস অফিসার গোদালা কিরণ কুমারকে গ্রেফতার করেছিলেন। বর্তমানে উত্তরবঙ্গের এডিজি হিসেবে কর্মরত এই ১৯৯৭ ব্যাচের আইপিএস অফিসারকে এবার আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

২০০৪ ব্যাচের আইপিএস অফিসার প্রবীণ ত্রিপাঠীকে হোমগার্ডের আইজি করা হয়েছে। তৃণমূল সরকারের আমলে তিনি কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাপ্রধান, হাওড়া ও ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সে কর্মরত ছিলেন।

সম্প্রতি বারুইপুর পুলিশ জেলায় একের পর এক অপরাধের ঘটনা—নাবালিকা ধর্ষণ ও খুন, গণপিটুনিতে মৃত্যু এবং ফুটবল ম্যাচে জয়কে কেন্দ্র করে ১৭ বছরের এক কিশোরকে গলা কেটে হত্যার মতো ঘটনাকে সামনে রেখে সেখানেও প্রশাসনিক রদবদল করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাসকে বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বারুইপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদ থেকে পিনাকী দত্তকে সরিয়ে একই জেলার অ্যাডিশনাল এসপি (ডিআইবি) করা হয়েছে।

কিছুদিন আগে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে বন্দিদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড উদ্ধারের ঘটনায় আইপিএস নটরাজন রমেশ বাবুর কাজের প্রশংসা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার তাঁকে সিআইডি-র ডিজি পদে নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তিনি কারা দফতরের ডিজির দায়িত্বও সামলাবেন।

এই রদবদলে আরও যাঁদের বিভিন্ন পদে বদলি করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আনন্দ কুমার, বিশাল গর্গ, সুকেশ কুমার জৈন, সুধীর কুমার নীলাকান্তম, ডেভিড ইভান লেপচা, দীনেশ কুমার, প্রদীপ কুমার যাদব, বিশপ সরকার, ওয়াই. এস. জগন্নাথরাও, প্রতীক্ষা ঝাড়খরিয়া এবং যশপ্রীত সিংহ-সহ একাধিক আইপিএস ও ডব্লিউবিপিএস অফিসার।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!