- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ২২, ২০২৬
নারী-নিগ্রহ রুখতে পুলিশকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’, বিধানসভায় বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
বুধবার বিধানসভায় পুলিশ বাজেটের জবাবি ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘পুলিশকে সব মিটিংয়ে বলেছি কোনও কন্যা, মহিলার উপরে যদি কিছু হয়, কারও নির্দেশের জন্য অপেক্ষার দরকার নেই, যা করার করে দেবেন । ঢাল হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী প্রোটেক্ট করবে ।’ নারী-নিগ্রহ রুখতে নিঃসন্দেহে এটি মুখ্যমন্ত্রীর বড় পদক্ষেপ ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শাসিত তৃণমূল সরকারের আমলে নারী নিরাপত্তার প্রশ্ন উঠেছে । পার্কস্ট্রিট-কাটোয়া-কামদুনির ধর্ষণের ঘটনা থেকে শুরু করে সন্দেশখালির ভয়ঙ্কর অভিযোগ। তারপরে আরজিকর হাসপাতালে ডাক্তারকে ধর্ষণ করে খুনের মতো ঘটনা ঘটেছে। আরজিকর হাসপাতালের ঘটনা গোটা রাজ্যকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। আন্দোলনে উত্তাল হয়েছিল রাজপথ। আর প্রতিটি ঘটনাতেই বিরোধীরা অভিযোগ করেছিলেন, প্রশাসনের তরফে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়নি। দোষীদের আড়াল করার অভিযোগ উঠেছিল সেই আমলের পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে। আরজিকর হাসপাতালে একাধিক পুলিশ অফিসারের নাম করে অভিযোগ করেছিলেন আন্দোলনকারীরা। বিধানসভা নির্বাচনের যুদ্ধে, বিজেপির যে যে প্রতিশ্রুতিগুলি ছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল নারী নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি।
বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুনের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় । ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি ওঠে ।
ঘটনার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া অবস্থান নেন । তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্তে কোনওরকম শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না । তদন্তের অগ্রগতির মধ্যে এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় ।
এর আগেও বারুইপুর সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, ‘সকালে জমা, বিকেল খরচ’, যা অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবে রাজনৈতিক মহলে ব্যাখ্যা করা হয় ।
বারুইপুর কাণ্ডে স্থানীয় পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগও ওঠে । এলাকাবাসীর দাবি ছিল, সময়মতো যথাযথ ব্যবস্থা নিলে হয়তো পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত । সেই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, শুধু অভিযুক্তদেরই নয়, তদন্ত বা দায়িত্ব পালনে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধেও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যে কোনও ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণের কথা এর আগেও একাধিকবার জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী । এবার বিধানসভা থেকেও তিনি পুলিশ প্রশাসনকে আরও কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, নারীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনওরকম অবহেলা বা শৈথিল্য মেনে নেওয়া হবে না । নারী নির্যাতন, ধর্ষণ বা এ ধরনের গুরুতর অপরাধের অভিযোগ সামনে এলে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও তিনি দেন ।
❤ Support Us






